এক দেশে এক ধনী ব্যক্তি ছিল। তার নাম শরীফ। তার অনেক ধনসম্পদ ছিল। প্রতিদিন তার ধনসম্পদের পরিমাণ বেড়েই চলছিল। সে আরো ধনী থেকে ধনী হতে চাইছিল। একদিন বিকেলে সে তার বাগানে হাঁটছিল আর চিন্তা করছিল, কিভাবে আরো ধনী হওয়া যায়। হঠাৎ তার চোখ পড়ল একটি গাছের ছোট্ট ডালের ওপর। ডালের ওপর খুব সুন্দর একটা ছোট্ট পাখি বসা। পাখিটা এতই সুন্দর যে, শরীফ অবাক হয়ে যায়। কী সুন্দর তার সুর! এমন পাখি সে আর কখনো দেখেনি। পাখিটা দেখেই তার পছন্দ হয়ে যায়।
শরীফ আস্তে আস্তে গাছ-পাতার আড়াল দিয়ে নিঃশব্দে পাখিটার পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। খপ করে ধরে ফেলে পাখিটাকে। পাখিটা চিৎকার দেয়া শুরু করে। শরীফ বেশ আনন্দ পায়।
তুমি আমাকে কেন ধরলে? পাখির মুখে কথা শুনে শরীফ তো আরো অবাক। এমন সুন্দর করে পাখি আবার কথা বলতে পারে?
আমি তোমাকে বিক্রি করব। তুমি দেখতে কী সুন্দর, তার ওপর তুমি সুন্দর করে কথা বলতে পারো। তোমাকে বিক্রি করে আমি অনেক টাকা পাবো।
কিন্তু তুমি তো এখনই অনেক ধনী আছো। আরো টাকা দিয়ে তুমি কী করবে?
আমি আরো ধনী হতে চাই। আরো অনেক চাই আমার।
কিন্তু তুমি তো আমাকে বিক্রি করতে পারবে না। আর তুমি ধনীও হতে পারবে না।
কেন? অবাক হয় শরীফ।
কারণ বন্দী অবস্থায় আমার এই সুন্দর রঙ থাকবে না। আমি কালো হয়ে যাবো। আমার কণ্ঠ থেকে তখন আর কথা বের হবে না। আমি বোবা হয়ে যাবো।
কথা শেষ হতেই ধীরে ধীরে পাখিটা রঙ বদলাতে শুরু করল। কিছুক্ষণ পর একদম কালো হয়ে গেল। দেখতে কাকের মতো লাগল পাখিটাকে।
শরীফ রাগে ফুঁসতে লাগল।
আমি তোমাকে জবাই করব। তারপর তোমার গোশত খাবো। এতেই আমার লাভ হবে।
তেমন লাভ হবে না। তুমি দেখছো, আমি এতটাই ছোট যে আমার গায়ে গোশত নেই। তুমি কিছুই পাবে না। তার চেয়ে ভালো তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে দুটো বিষয় বলব যা খুবই সহজ। কিন্তু এ দ্বারা তুমি অনেক লাভবান হবে।
শরীফ ভাবল তার অনেক অনেক মুনাফা দরকার। পাখিটাকে না খেয়ে যদি অনেক মুনাফা পাওয়া যায় মন্দ কি? সে আরো ধনী হতে পারবে।
বলো কী সেই বিষয়।
কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে। আমাকে মুক্ত করে দিতে হবে। তারপর আমি সেগুলো বলব।
শরীফ হেসে ওঠে। আমি তোমাকে ছেড়ে দিই আর তুমি উড়ে চলে যাও। তোমার চালাকি আমি বুঝি না।
সেটা তোমার ইচ্ছা। যদি লাভবান হতে চাও তাহলে আমাকে মুক্ত করো। আর আমাকে আটকে রেখেও তোমার কোনো লাভ নেই। আর আমি কথা দিয়ে কথা রাখি।
শরীফ চিন্তা করে দেখল, পাখিটা ঠিকই বলেছে। তার চেয়ে একটা সুযোগ নেয়া যেতে পারে।
ঠিক আছে তোমার কথাই রইল। বলেই পাখিটাকে ছেড়ে দেয় শরীফ।
ফুড়–ত করে পাখিটা উড়ে গিয়ে উঁচু একটা ডালে বসল। আস্তে আস্তে তার গায়ের সেই সুন্দর রঙও ফিরে আসতে লাগল। শরীফ বেশ অবাক হয়।
এবার বলো তোমার সেই দুটো বিষয়।
প্রথমটা হলো, যা তোমার কাছে নেই তার জন্য কখনো দুঃখ করবে না। আর দ্বিতীয়টা হলো, যা তোমার হাতের মুঠোয় আছে তা কখনো ছুড়ে ফেলবে না।
শরীফ রাগে ফোঁস ফোঁস করতে লাগল।
তোমার এই ফালতু কথা শোনার জন্য আমি তোমাকে মুক্তি দিয়েছি। এ কথা তো সবারই জানা আছে। তুমি আমার সাথে ধোঁকাবাজি করেছ।
তুমি উত্তেজিত হবে না। একটু ঠাণ্ডা মাথায় আমার কথাগুলো চিন্তা করো। উদাহরণ হিসেবে তুমি আমাদের আচরণগুলো একটু ভেবে দেখো। একটু আগেই আমি তোমার হাতের মুঠোয় ছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে ছুড়ে ফেলেছ। আর এখন আমি তোমার হাতে নেই বলে তুমি আফসোস করছো। এ বিষয়গুলো খুবই সহজ। কিন্তু আমরা কখনোই এগুলো মেনে চলি না। মেনে চললে জীবন আরো সুন্দর হতো।
কথা শেষ হতেই সুন্দর পাখিটা উড়াল দিলো। চোখের আড়ালে চলে গেল শরীফের।
