আসাদ চৌধুরী
এসো উপকার করি
এসো উপকার করি।
মধ্যাহ্নের বিশাল প্রান্তরে
বেজে উঠলো ব্যস্ততার চাকা,
করোটির হাঁ-করা বিবরে
স্মৃতিময় সুর শিরশির বয়ে গ্যালো।
উন্মুক্ত করো না আমাদের রক্তিম গোলাপ।
আশার সবুজ আলো বিমুখ প্রান্তরে অনায়াসে ঝরে গ্যালো।
প্রিয়তমা রমনীর পাশে শুয়ে শুয়ে একদা তুমিও
অহঙ্কার মেলে দেবে,
খুলে দেবে হৃদয়ের গোপন কপাট।
অস্থির শিশুর ঘুম ফিরে যাবে পাতা বিছানায়
স্মৃতিময় স্বপ্নগুলো ঢেউ হয়ে কেঁপে-কেঁপে
ভিড়ে যাবে তোমাদের চোখের পাতায়।
স্বচ্ছ পুকুরের মতো স্থির হবে এই রাজনীতি।
এসো উপকার করি
মধ্যাহ্নের প্রান্তরে বাজে
করোটির প্রেমের গজল।
সানাউল হক খান
প্রশ্নবোধক
হেলে পড়া সূর্যকে জিগ্যেস করি
বলুন, আগামীকাল আমার কী হবে?
আজ যাকে শরীরের মধ্যে
ভাঁজ খোলা পোশাকের মতো পরিধান করে আছি
সেই ভেজা প্রেম শুকোবে কি আপনার রৌদ্রে!
আকাশ জবাব দেয় অনন্তরাতের কণ্ঠে :
যে শ্রম নীরবে তপ্ত অসমাপ্ত যুদ্ধে
সেই সুখ বুঝতে পারো না, তুমি কেমন মানুষ!
পেছনে গোলাপি দিন, হ্যাঁ খুব সুগন্ধি বয়সের অপভ্রংশ
সামনে মোহান্ত মুগ্ধ নিরবধিকাল
আমি তাকে কালো বলতে চাই না আজও।
অথচ আমার পোষা পাখিগুলোর একটিও
উচ্চকণ্ঠে গাইছে না :
তোমার বিজয় অনিবার্য।
তাহলে কি পশুশ্রমের অক্ষরগুলো
আমার নখের নিচে মুখ লুকিয়ে রয়েছেÑ
নোংরা আর কুৎসিত প্রেমের মতো?
জাফরুল আহসান
কাকে ডরাও
অনেক কথাই হয়নি বলা কোন কথাটা বলি
কথার মালা হারিয়ে গেছে কুলুপ এঁটে চলি।
তোমরা রাজা চাই খাজনা? খাজনা দেবো কি সে!
বর্গীরা যে জ্বালছে আগুন পাকা ধানের শিষে!
সাত সকালে সন্ধ্যা নামে আমার দাওয়া জুড়ে,
মনের কথা হয়নি বলা বৈরী বাতাস ওড়ে।
তোমার আছে পাইক পেয়াদা অস্ত্রধারী লোক
মূল কথাটি বলতে গেলে উপড়ে নেবে চোখ।
অন্ধ যারা ভালোই তারা দেখছে সবই কালা,
সাদা কালায় আমার যত জ্বালা।
তারচে’ ভালো এবার আমায় অন্ধ করো প্রভু
সকাল-সন্ধ্যা দেখব না আর রঙিন আলো কভু।
চাপা কান্না উথলে ওঠে চোখ যে ভরে জলে,
দম্ভ তোমার ধার ধারি না বুকে আগুন জ্বলে।
নামব পথে পথেই তবে শেষ দেখাটি হবে
আঁধার চিরে আলোর রেখা পথ চিনিয়ে নেবে।
দেয়াল জুড়ে পিঠ ঠেকেছে সামনে ঘুরে দাঁড়াও,
মৃত্যু যখন ঠোঁট ছুঁয়েছে কাকে তুমি ডরাও।
হাসান হাফিজ
যে বৈশাখ অনন্যসুন্দর
বহিরঙ্গে রুদ্র তুমি খরতাপে তেজি
অভ্যন্তরে বহমান ফল্গুধারা
ক’জনা সে খোঁজ পায়
বলো হে বৈশাখ
বাজাও দুন্দুভি জ্বালো আপন ঐতিহ্যে আর
ক্লান্তি কষ্ট সুদূরে মিলাক...
রুক্ষতার আপাতকৌশলে বর্মে
নিজেকে লুকিয়ে রাখো
সমৃদ্ধি ও প্রগতির
ছবিটিও সুনিপুণ আঁকো
হঠাৎ ঝঞ্ঝার তোড়ে ঝলসে ওঠো
ধুলো শ্রান্তি আবর্জনা
অপ্রাপ্তির এঁটোকাঁটা
দুরন্ত ঘূর্ণিতে উড়ে
পথ পায় না পালানোর
সজল বর্ষণে সবই ধুয়ে মুছে যায়
রুক্ষ মাটি পিপাসা নিবৃত্ত করে
মন দেয় ফলনের দিকে...
তমিজ উদদীন লোদী
হাঁটতে হাঁটতে
হাঁটতে হাঁটতে শেষ হচ্ছে না পথ...
আজ অবিশ্বাস্য মনে হয় সেইসব এবড়ো থেবড়ো পথঘাট, বন্ধুরতা।
সেইসব নিমগ্ন সময় আমরা লিখিনি। লিখিনি করুণ গাথা, কোনো স্তব।
সত্যের বাইরে গিয়ে আমরা ফুটো বেলুনের চুপসে যাওয়া দেখেছি আর
লিখে গেছি অপলাপ। আমরা প্রান্ত ছুঁয়ে দেখিনি, দেখিনি পথের শেষ।
কোনো বশংবদ রটওয়াইলারের মতো শুধু নেড়ে গেছি বাঁকানো লেজ।
যদিও সমূহ প্রসন্নতা থেকে আমরা উড়ে যেতে চেয়েছিলাম গোলার্ধ থেকে গোলার্ধে
চেয়েছিলাম সব পরিপ্রেক্ষিত ভুলে আমরা একটি কুটিরেই মিলিত হবো।
যদিও জানতাম আমাদের একটা খোলস রয়েছে। জানতাম এই খোলস
আমাদের ছেড়ে আসতেই হবে। আমরা খুব ভালো করেই জানতাম মরিচের ঘ্রাণ
পান্তার জৌলুস, জানতাম কত সামান্যতেই আমাদের হো হো হা হা। অথচ
দেখো আজো হাতড়ে ফিরছি পথ, পথের শেষ। কেন মনে হচ্ছে আমাদের পথ
আগলে দাঁড়িয়ে আচ্ছে ডোবারম্যান পিনশার, কুষ্ঠরোগীর ক্ষয়ে আসা ঘা।
হায়, হাঁটতে হাঁটতে শেষ হচ্ছে না পথ...
রেজাউদ্দিন স্টালিন
ভালোবাসার ভাষা
জগতের আছে একটি মাত্র ভাষা
ভালোবাসা ভালোবাসা
জ্বলন্ত সব চাকার ওপর দিয়ে
ভালোবাসা তার ব্যাপ্তিকে যায় নিয়ে
নীরবতা দিয়ে ঢাকা তার শব্দেরা
বেহুলার চোখে লখিন্দরের ফেরা
না বোঝা কথার যত অবগুণ্ঠন
আর নিভে আসা ঝাড়বাতি দশানন
ভাষা ভুবনের রহস্য চাবিকাঠি
চোখ ও পলক দুজনাই সহপাঠী
মুক্ত মাঠের রাখাল ছেলেরা জানে
মূক ভাষা পায় কতটা অম্লজানে
প্রিয়তম জানে প্রতীক্ষা কত দামি
বলিদান বোঝে শাশ্বত সংগ্রামী
কত বিজ্ঞানী দার্শনিকের মতো
জানা-অজানার দোলাচলে বিক্ষত
কত অভিবাসী সাত সমুদ্র পারে
কোনোমতে বাঁচে দোভাষীর কারাগারে
আর মুক্তির প্রসঙ্গ যদি আসে
তারাই স্বাধীন যারা শুধু ভালোবাসে
জীবন ও জগতে একটাই পরিভাষা
ভালোবাসা ভালোবাসা
সৈয়দ রফিকুল আলম
অবিশ্বাসের কিংখাবে
স্বভাব ধারার সূত্র ধরে পথচলা শুরু হয়
মানুষের নৈমিত্তিক জীবনাচার, কিন্তু কোন
ব্যাঘাত ঘটলে শুরু হয় বিভ্রান্তির কোপানল।
জানা-অজানার মাঝে স্থিতি ও অস্থিতি মিশকালো
মেঘের বিষম ঘূর্ণিপাক খায় অমা নিরালোকে।
শুভ আর সুন্দরের মাঝে অদৃশ্য ক্লেদাক্ত পোকা
কিলবিল করে যায়, যা ফাঁকি সর্বৈবে স্থূল
চোখের আড়ালে থেকে যায়। বোধ ও বিশ্বাসে
উদার মনোবৃত্তির বৈসাদৃশ্য তা অবস্থানের
প্রেক্ষিতে মানুষ ক্ষয়ে ক্ষয়ে মরে ও বাঁচার মতো
তিল তিল পোড়াখণ্ডে জ্বলে। এ তো প্রতিকূলতার
সত্য-মিথ্যা জটাজালে কোথায় আশ্রয় পাবে?
গণিকার মতো কটু হাসির কপট অস্পৃতায়?
বিশ্বাসের তরবারি আজ অবিশ্বাসের কিংখাবে।
মোশাররফ হোসেন খান
বৈশাখ ১৪২৬
বয়সের এই প্রান্তে এসে এখন আর
গুনতে পারি না কতটি বৈশাখী ঝড়
বয়ে গেল হৃদয়ের ওপর দিয়ে!
সেদিন বসে আছি একাকী, চুপচাপ। ঘরের ভেতর।
গোটা বিশ্বের মানচিত্র কেবলই দোল খাচ্ছে মাথার ভেতর!
অকষ্মাৎ অন্ধকার হয়ে এলো চারদিক।
সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো।
নিগূঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেল দৃষ্টির সীমা।
আচমকা দমকা হাওয়া! তারপর ঝড়োহাওয়া
প্রবল বেগে বইতে থাকলো। সে কি ভয়ঙ্কর!
প্রথমেই ভেঙে গেল দৃষ্টির সীমার ভেতর গাছগাছালি
ঘরবাড়ি দরজা জানালা!
তুমুল ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল মুহূর্তেই গোটা এলাকা।
পথঘাট সবকিছু যেন কত কালের অচেনা!
বৈশাখের উত্তাল ঝড়ে
কতবার উড়ে গেছে ঘরের চালের খড়
কতবার ভেঙে গেছে ঘর বাড়ির বাঁশের খুঁটি
কতবার উজাড় হয়ে গেছে প্রান্ত থেকে কত প্রান্তর !
কালবৈশাখী ঝড় মানেই তো এমনই!
কিন্তু তারপরও ভাবি... বৈশাখী ঝড়ের চেয়েও এক প্রবল তাণ্ডব
বয়ে চলেছে হৃদয়ের ভেতর।
যার সীমানা অসীম... পৃথিবীর প্রান্তসীমা
অতিক্রম করে সেই ঝড়ের আস্ফালন
আরো কত দূর গিয়ে আছড়ে পড়েছে সেটাও বোধের অগম্য!
মূলত হৃদয়ের ঝড়ের কাছে
বৈশাখী ঝড় বরাবরই পরাজিত!
আহমদ আখতার
সম্ভ্রমে তাকাবো এবার
যদি ওড়ে পিতার পাণ্ডুলিপির কোন পাতা
ভয় হয়, শেষের সেদিন...
নির্মেষ আকাশে তখন রোদ্দুরের ভ্রুকুটি প্রবল
নিরুদ্দেশ মেঘগুলো নীলিমায় রাখেনি পাহারা
ধ্রুপদ পাণ্ডুলিপির ছিন্ন কোন পাতা...
ওড়ে যদি সম্ভ্রমে তাকাবো এবার।
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
বৈশাখকে শুধু বলি
বৈশাখকে শুধু বলিÑ এসো, এসো
কিন্তু চৈত্রকে একবারও
থাকতে বলি না।
আমাদের কাছে পুরনো
ঝেড়ে ফেলার নেশা।
আমাদের শুধু নতুনের ভালোবাসা।
যে ফুল ফোটে সেই তো একদিন
ঝরে যায়।
যে বছর বৈশাখে শুরু
সেই বছরই তো চৈত্রে হয় শেষ।
শেষের দিকে আমরা খুব বিচলিত।
জার্নি শেষে
বিষণœ ক্লান্ত।
শাহাজাদা বসুনীয়া
বৈশাখ
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ গ্রীষ্মকাল, ধরা যেন আলো-উত্তাপে ভরা,
গরমে অতিষ্ঠ পথিক প্রাণ জুড়ায় গাছের ছায়ায়,
আর সূর্যের খরতাপে বৃষ্টি বন্দনা খোদার তরে,
কাঁঠালচাঁপার গন্ধ আর আম-কাঁঠালের মধুমাস জ্যৈষ্ঠমাস॥
বাংলার নিসর্গে যেন লাজুক ঋতু চুপিসারে আসে
বার্তাবাহক হেমন্ত শীতের খবর ছড়ায় প্রকৃতির মাঝে,
চুপি চুপি পা ফেলে কার্তিক অগ্রহায়ণে দক্ষিণা হাওয়া,
হেমন্তের শিশির ভেজা সকালে শীতের আমেজ মধুর লাগে,
ভোর বেলা ঘরে ঘরে রেখে যায় শীতের ছোঁয়া,
হেমন্তের বার্তায় কৃষকেরা লেগে যায় ফসল তোলার কাজে॥
প্রকৃতির রূপসী কন্যা যেন লুকায়িত সমুদ্র সৈকতে,
সে তো সূর্যাস্তের দৃশ্য রহস্যাবৃত অনন্য সুন্দর,
রক্তিমাভা ছড়িয়ে সূর্য ডুবে যায় যেন এক অজানার দেশে,
প্রান্ত ছোঁয়া সূর্যোদয় পৃথিবীর দেহে যেন এক বড় জাদুকর,
রাত বড় নির্দয়, অন্ধকার-ঘনান্ধকার, সবকিছু অদৃশ্যমান
তার মাঝে মিটমিট করে নিশাচর জোনাকিরা জ্বলে,
রাতের গায়ে চাঁদের আলো বিছিয়ে রাখে স্বর্গীয় চাদর॥
শাহীন আরা আনওয়ারী
রুদ্রতার দহন
কালবোশেখী কালবোশেখী
কালের স্রোতে তুমি আসো
জগৎ কাঁদে তুমি হাসো
মনচাতালের উতলা ভূমি
একটুখানি থামাও তুমি
রুদ্রতাকে ধারণ করি, অসময়ে হরণ করি
ঘরের চালা বাতাস ওড়ায়
বৃক্ষ-পাতা কান্না ছড়ায়
দুঃখ কাঁদে শিরায় শিরায়।
তুমি ওগো ধ্বংস জানো
রুদ্রতারই স্বপ্ন বোনো
তোমার পালে তোমার পালে
দুঃখ জ্বলে স্বপ্ন গলে আকাশতলে
তোমায় আঁখি হয় না পাখি কষ্ট জলে মাখামাখি
কষ্ট দুঃখের দহন জ্বালাÑ জীবন করো ফালা ফালা
আসবে তুমি কাঁদবে ভূমিÑ দেবে তুমি মরণজ্বালা
তোমার দহন কাছে সবই ম্লান এবং চিরম্লান।
জাকির আবু জাফর
প্রলয় বৈশাখ
হে আমার ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ প্রলয় বৈশাখ
তোমাকে উৎসবের লাল ভেবে গোটা হৃদয়টা
করেছি লালের প্রান্তর
বুকের গহনে তারই লোহিত কম্পন
আকাশকে বলিÑ সরে যাও আরো খানিকটা দূরে
এখানে নামবে আমার নতুন বৈশাখ
নামবে জীবন চাঞ্চল্যের বায়ু
এই তো প্রাচীন পৃথিবীর বুকে সময়ের নতুন শিশু
হোক ছোট্ট জীবনÑ তবু জীবনের গল্পটা বড় করে তুলতে চাই
নতুন আনন্দে কারো চোখে ওড়ে সুখের কপোত
কারো নয়নজুড়ে অশ্রুর নদী
অথচ সুখের কোনো দীর্ঘ সভা নেই
অশ্রুরও নেই স্থায়ী কোনো জলাধার
গোপন দহন শুধু জীবনের নিত্যতায় জ্বলে
সম্পদ অথবা ক্ষমতার উল্লম্ফন কি জমা থাকে জীবনের কাছে
একদিন রাজা ও প্রজার সমান বাসরÑ
সেই সাড়ে তিন হাত প্রাসাদ
তবে কেনো পৃথিবী পুরে নিতে চাও হে মানব বোয়াল
বৈশাখ আমাকে অপ্রতিরুদ্ধ সাহসটুকু দিয়ে বললোÑ
মৃত্যুর কাছে নয় মৃত্যু যেনো হেরে যায় জীবনের কাছে
জামসেদ ওয়াজেদ
আলোক আগামী
বিগত ব্যথিত দিনে দুপুর নিখোঁজ ছিলো জানি
রাতের শরীর হতে আলোরা যে কোথায় পালায়
শান্তির প্রত্যাশা করে যে নকল প্রদীপ জ্বালায়
সহসা আগামী দিনে মুছে যাক অতীতের গ্লানি
আমার স্বদেশ ভূমি সবুজ জ্যাকেট গায়ে পরে
দীর্ঘকাল অপেক্ষায় সুষমের এই আঙিনায়
নদীর ক্রন্দনে দেখি পানকৌড়ি সময় হারায়
এ উনান জলযান; শূন্যমনে কী যে খেলা করে
উদার আকাশ এক জমিনের দুঃখ শোনে রোজ
আগামীর সান্ত্বনায় প্রস্তাবিত আলোর দোকান
শাসনের ঢং দেখে অহেতুক বাড়ে অভিমান
মানবিক মূল্যবোধ বিপর্যয়ে সুখেরা নিখোঁজ
অসীম অনন্ত পানে প্রত্যাশিত আলোক আগামী
আদম আশ্রিত ভূমে ক্রমাগত আমি দূরগামী
