বোশেখের ছড়া
ইকবাল কবীর মোহন
এক.
পুরনো দিনের হিসাব-নিকাশ
হচ্ছে না আর মানা
নতুন দিনের বার্তা নিয়ে
বোশেখ মেলে ডানা।
নতুন বছর জীবনটাকে
বদলে দেবার দিন
পয়লা বৈশাখ আসছে ও ভাই
সুখের খবর নিন।
দুই.
বোশেখ মাসে মাতাল হাওয়া
দামাল ছেলের মতো
শান্তি সুখের ঘর ভাঙে সে
পাষাণ হলে কত!
বোশেখ আনে মনের মাঝে
বাঁচার নতুন দিন
ফেলে আসা দুঃখ যত
বোশেখে হয় লীন।
বোশেখ
ইদ্রিস সরকার
বোশেখ আবার নিয়ে এলো
বাংলা নতুন সন
বৃষ্টি বাদল ঝড় তুফান আর
সবুজ শ্যামল বন।
নতুন বছর এলো বলে
বুকে অনেক আশা
সুখপাখিটা আসবে ঘরে
গড়বো সুখের বাসা।
শহর-নগর গাঁওগেরামে
বসে রঙের মেলা
দিনে-রাতে চলতে থাকে
ফুলপাখিদের ভেলা।
এই তো আমার সোনার বাংলা
যার তুলনা নাই
বোশেখ আসুক বারে বারে
মনে-প্রাণেই চাই।
মা
প্রজীৎ ঘোষ
মা যে আমার চোখের মণি
দুই নয়নের আলো;
মা আমাকে নিজের থেকেও
অনেক বাসে ভালো।
মায়ের হাসি মায়ের খুশি
স্বর্গ সুখের ছোঁয়া;
মা ছাড়া এই পৃথিবীটা
কষ্ট ধোঁয়া ধোঁয়া।
মায়ের মনে কখনো তাই
কষ্ট দেবো নাকো;
মাকে বলি ‘ও মা তোমার
চরণ তলে রাখো।’
মা
সালাম হাসেমী
মায়ের নামটি মুখে নিলে সুখে ভরে বুক,
দূর হয়ে যায় এই জীবনের আছে যত দুখ।
হৃদয় মাঝে সদায় ভাসে মায়ের কোমল মুখ,
এই ধরণীর বুকে যে মা জান্নাতের এক সুখ।
মা যে শীতল ছায়া ধরায়
জুড়ায় কায়া শত খড়ায়।
মা যে ফুলের মধুর হাসি
আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি।
মা বিনা এই জীবন আমার
হয় যে সাগর গভীর ব্যথার।
এই জীবনে মা যে তুমি আমার জীবন বায়ু,
থেকো তুমি আমার হয়ে আমার জীবন আয়ু।
গ্রীষ্ম
পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তী
মাঠ ফাটা কাঠ ফাটা রাস্তা-ঘাট রুক্ষ
বুকে নেই জল নদীর তাই এত দুঃখ।
আনারস, কাঁঠাল আর গাছপাকা আম
গাছভরা লিচু ও কালো রঙ জাম।
করলা, কাঁকরোল আর ঝিঙের ফুল
বৈশাখী বাতাসে খেয়ে যায় দুল।
বউ কথা কও-ফিঙে দুপুরের অক্ত
থাকে বুক পিপাসায় যখন উত্তপ্ত।
আচমকা হানা দেয় বৈশাখী ঝড়
উড়ে যায় খড়-খুটো উড়ে যায় ঘর।
মন ছুটে যায়
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
মন ছুটে যায় মন ছুটে যায়
মন ছুটে যায় গাঁয়ে
ফেলে আসা দিন যে ডাকে
সবুজ বনের ছায়ে।
মন ছুটে যায় মন ছুটে যায়
পুকুর নদী ঘাটে
সবুজ-শ্যামল, ফুল-ফসলের
চোখ জুড়ানো মাঠে।
মন ছুটে যায় মন ছুটে যায়
হাজার পাখির গানে
রাখালিয়া বাঁশরি আর
ভাটিয়ালীর টানে।
মন ছুটে যায় শৈশবেরই
স্মৃতিমাখা বাঁকে
হাতছানিতে ডাকে আমায়
যায় না ভোলা তাকে।
