কৈশর বয়সী আকাশ
কোন এক উপত্যকার বুকে দাঁড়িয়ে
যখন তুমি লজ্জাবনত মস্তকে সামনে এলে
দেখলাম তুমি নারী নও সদ্যোজাত শিশু।
বন্ধুত্বের অধিকারে দুনিয়া জয় করা গেলেও
জয় করা যায় না অনেক কিছু।
শৈশবের স্বাধীনতা যখন কুক্ষিগত হয়
তখন কোথাও একটা অনাস্থা জন্মে।
কৈশোর বয়সী আকাশটা যে দিন মারা যায়
সে দিন চিনলাম নারীরা পাখির জাত।
প্রয়োজনে প্রিয়জন বাড়ে সময় বাড়লে নদী
সামনে তাকাও পিছনে নয় ছুটে চল নিরবধি।
চাপারহাট, লালমনিরহাট
দিপু খান
আলেয়ার উৎসবে
যেখানে নিরার্থক হয়ে
থেমে যায় সমস্ত আক্ষেপ
সেখানে জন্ম নেয় চোরাবালি।
অদূরের ভবিষ্যৎ
ঘাড় মুড়ে ফিরে যায়
আঁধারের বুকে আলেয়ার উৎসবে
মাতোয়ারা পৃথিবীকে দেখে
হতবাক- চাঁদ মুখ লুকায়
ঘন মেঘের আড়ালে,
বার্ধক্যের ছাপ জরাজীর্ণ হয়ে
মিশে পড়ে রক্তের সাথে।
সোডিয়াম লাইটের আলোয় যখন
মেরুন রঙের পরিণতি হয় কালো রঙে,
তখন বিবাগী মনের এক কোণে
চলে অনাবরত দহন!!
সিঙ্গাপুর প্রবাসী
রোমানুর রোমান
কষ্টের প্রেম প্রলাপ
মেয়ে, তুমি বলেছিলে সেদিন,
জানি, তোমার কাছে গেলে
সুখী হবো না কোনদিন,
কারণ অন্যের কথা সইতে পারবো না।
কিছু দিন হয়তো তুমি কিছু বলবে না,
কিন্তু পরে তুমিও বলবে, এইটা সেইটা!
ছিলাম অন্যের বিবাহিতা।
জোরপূর্বক বিবাহ পাত্রও কোনদিন
মেনে নিতে পারবো না।
তাই ওর কাছেও কখনো সুখী হবো না।
তোমার সাথে ঝগড়াও করবো।
তবে তোমার বোঝা উচিত!
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি
দর্শনা, রংপুর
সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী
ঈদ এলো ঈদ
ফুরফুরে খুশি মন
ঈদ এলো ঈদ
ধুমধাম হইচই
চোখে নেই নিদ।
ঘরে ঘরে খুশি বয়
হাসি বয় মুখে
ছেলে মেয়ে সাজে আর
ঘুরে গাঁয়ে সুখে।
মিঠেখানা কী যে মিঠে
তৃপ্তিতে খায়
ঈদ এলো আনন্দেতে
মন ছুঁয়ে যায়।
ঈদ হোক সকলের
প্রীতি ভরা বুক
ধনী দুখি মিলেমিশে
খুঁজে পাক সুখ।
জয়নব জোনাকি
চাঁদ হাসেনি
ঈদের আগে ছুটছে কেউ
সবুজ ঘেরা বাড়ির টানে,
চিরচেনা নাড়ির টানে,
সেমাই জর্দা কোর্মা পোলাও-
পায়েস ভরা হাঁড়ির টানে।
কেউবা আবার যাচ্ছে ছুটে
আগুনঝরা মার্কেটে,
মানুষজনের ভার কেটে,
অভিমানে কেউ বেঁকেছেÑ
প্রিয়মনের তার কেটে।
ঈদগাহে যায় সবাই মিলে
জান্নাতের ঐ নূর পানে,
কেউবা ছোটে সুর পানে,
কোলাহলে ছুটছে কেউÑ
শহর ছেড়ে দূর পানে।
ব্যস্ত শহর থাকবে যেন
কয়েকটা দিন ফাঁকা যে,
ঘুরবে গাড়ির চাকা যে,
চাঁদ হাসেনি তাদের ঘরেÑ
দুঃখ যাদের আঁকা যে।
হাসান নাজমুল
পদচিহ্নের অপেক্ষায়
সিক্ত বালুকণা উত্তাপের
আসন্ন প্রদাহ বুকে গেঁথে নেওয়ার
দুরন্ত প্রয়াশে মত্ত;
অথচ আমার শতাব্দী হয় না শেষ,
নিজস্ব পায়ের ছাপ দেখেÑ
দৃষ্টি ফিরে নেই দৃষ্টির ভেতর,
আওয়াজ নেই কোন নতুন পায়ের
এমনকি পাখিদের পায়েরও নেই ছাপ
হয়তো কারও অভিসম্পাতে
নূপুর হারিয়ে ফেলেছে তার
বেজে উঠবার শক্তি;
আগামী সহস্র বছর
তোমার পদচিহ্নের রবো অপেক্ষায়।
প্রিয়জন-১৬১৬
