মনে আছে সেই ঈদের কথা? যে ঈদে বৃষ্টি হয়েছিল! প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এরপর রিমঝিম বৃষ্টি। শেষে একেবারে মুষলধারে। এমন বাঁধভাঙা বৃষ্টির জোয়ারে ঈদের খুশিকে আমি উবে যেতে দিলাম না। আমার মন বৃষ্টির সাথে ভেসে যেতে চাইল। ঈদের দিনও যদি নাহিদার সাথে দেখা না হয় তাহলে ঈদ পানসে হয়ে যাবে। তাই আমি ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সোজা নাহিদাদের ঘরের পেছনে চলে গেলাম। তারপর ওর ঘরের পেছন দিক থেকে উঁকি মেরে ওকে দেখার চেষ্টা। এক সময় হাঁপিয়ে উঠলাম। এই ঈদের বৃষ্টিতে সে কি করছে জানতে খুব ইচ্ছে হলো। আবারো উঁকি। না এবারো নাহিদাকে দেখতে পেলাম না। দেখলাম তার বড় বোন মাহমুদাকে। ঈদের সাজগোজ নিয়ে মহাব্যস্ত। নাহিদাকে না দেখে ফিরে যাবো ঠিক এই সময় পেছন ঘুরতেই চমকে উঠলাম। আমার সামনেই সাক্ষাৎ ভাষ্কর্য নাহিদা দাঁড়িয়ে। সেও বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। মনটা আমার খুশিতে লাফিয়ে উঠল।
যা হোক, আমার মতো সেও ঈদের দিন বৃষ্টিতে ভিজছে। বৃষ্টিতে ভেজার কারণে আরো অপরূপা লাগছে তাকে। আমি দুচোখ কচলিয়ে ভালো করে তাকে দেখে মুগ্ধ হলাম। সে তার মুক্তোসাদা দাঁত বিকশিত করে জানতে চেয়েছিলÑ
‘এখানে কী করছেন’?
আমি আমতা আমতা করে বলেছিলাম, ‘তোমাকে ঈদ মোবারক জানাতে এসেছি’। মুচকি হেসে সেও আমাকে বলেছিল, ‘ঈদ মোবারক’।
আমি বোকার মতো আবারো বলেছিলাম, ‘ঈদ মোবারক’!
সেও বলেছিল, ‘ঈদ মোবারক’।
এরপর খিলখিলিয়ে হেসে বলেছিল, ‘ভাইয়া বৃষ্টি থেমে গেছে!’
আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেছিলাম, সত্যিই বৃষ্টি নেই! ওর ঈদ মোবারকসহ এক বুক ভালোলাগা নিয়ে সেদিন আমি দ্রুত কেটে পড়েছিলাম। আর আজ আমি চাই না কোনো ঈদে বৃষ্টি আসুক। অন্যের ঘরে থেকে ঈদ উৎযাপন করা নাহিদার মনে পড়ুক আমাকে!
প্রিয়জন-১৬২৪, পূর্ব শিলুয়া, ফেনী
মনে আছে সেই ঈদের কথা? যে ঈদে বৃষ্টি হয়েছিল! প্রথমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। এরপর রিমঝিম বৃষ্টি। শেষে একেবারে মুষলধারে। এমন বাঁধভাঙা বৃষ্টির জোয়ারে ঈদের খুশিকে...
