তোমরা হয়তো ব্যাবিলনের শূন্যোদ্যানের কথা শুনে থাকবে। একে ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানও বলা হয়। এটি সপ্তমাশ্চর্যের একটি। বর্তমানে এ বাগান বা উদ্যানের অস্তিত্ব নেই। আছে শুধু ইতিহাস।
ধারণা করা হয়, এ উদ্যান নির্মাণ করেছিলেন রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার। উদ্যানটি ছিল স্ত্রী অ্যামিটিসের প্রতি তার বিশেষ উপহার। অ্যামিটিস ব্যাবিলনের মরুভূমিতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন। তিনি তার পিতৃভূমির মতো বন ও পর্বতমালার আকাক্সক্ষা করতেন। তার পিতৃভূমি ছিল মেডিয়া, যা বর্তমানের কুর্দিস্তান। কুর্দিস্তান বর্তমানে কয়েকটি দেশের অংশ।
নেবুচাদনেজার স্ত্রীর মন ভালো করার জন্য বা মনোরোগ দূর করার জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৬ শতকে এক অনিন্দ্য বাগান নির্মাণ করার আদেশ দেন। বর্তমান ইরাকের ব্যাবিলন নগরে নগরদেয়ালের মধ্যে এ উদ্যানের অবস্থান ছিল।
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান তৈরি করা হয়েছিল এক ধরনের ঢিবিতে অনেক ধাপ তৈরি করে। পর্যায়ক্রমে এ ধাপগুলো সমতল থেকে ওপরের দিকে চলে গেছে। অনেকটা সিঁড়ির মতো বলা যায়। এ ধাপগুলোতে লাগানো হয়েছিল বিভিন্ন ধরনের গাছ, ভেষজ উদ্ভিদ ও ফুলগাছ। দূর থেকে এ সিরিজ ধাপের বাগান দেখে মনে হতো শূন্যে বা ওপরে যেন ভেসে আছে, ঝুলে আছে। ইউফ্রেটিস নদী থেকে পাম্প করে পানি আনা হতো ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানে। ছবি : সংগ্রহ