মেঘের বাড়ি
প্রজীৎ ঘোষ

মেঘের বাড়ি যাবো আমি
লাগছে ভালো তাই;
ও সাদা মেঘ! নাও না আমায়
সাদা মেঘের নায়।

পেঁজা তুলোর মত তোমার
নরম সারা দেহ;
তোমায় দেখে হৃদয়েতে
বাড়ে আদর-স্নেহ।

এত্ত পানি কেমন করে
ধরো ছোট্ট বুকে?
কাঁদো নাকি হাসো তুমি
সুখে কিংবা দুখে।

এই কথাটি হয়নি জানা
কোথায় তোমার ঘর?
ও সাদা মেঘ! বলোনা গো
আমি তোমার পর?

তুমি আমার বন্ধু ও মেঘ!
যাবো তোমার বাড়ি;
আজ না নিলে কাল থেকে ঠিক
তোমার সাথে আড়ি।

শরৎ হাওয়া
পঞ্চানন মল্লিক

বছর ঘুরে শরৎ এলো বাংলা মায়ের ঘরে,
নদীর ধারে কাশের বনে হাওয়ার নাচন ধরে।
পাখপাখালি গাছের ডালে উঠলো সুরে গেয়ে,
বন বনানী জুঁই কামিনী খুশি শরৎ পেয়ে।
গাছে গাছে পাকা তালে গন্ধে মাছি ওড়ে,
ধপাস করে শব্দ করে তলাতে তাল পড়ে।
শিউলি তলে, ছাতিম ডালে হাজার ফুলের মেলা,
ফুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে যাচ্ছে কারো বেলা।
বর্ষা ঋতু চলে গেছে হচ্ছে তবু বিষ্টি,
কদিন পরে উত্তরেতে ছাড়বে হাওয়া মিষ্টি।

শরৎ
মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

ঋতুর রানী তোমায় মানি
মন ভোলানো সাজ
চারিদিকের সবই যে আজ
লাগছে কারুকাজ।

বিলে-ঝিলে ফুটছে শত
শাপলা শালুক ফুল
শুভ্র-সাদা কাশ ফুলে ওই
ভরছে নদীর কূল।

নীল আকাশ ও বকের সারি
আহা! কী যে রূপ
মৌমাছিরা ঘুরছে ফুলে
নেই যে তারা চুপ।

আলো-ছায়া করে খেলা
দেখতে সে-ও বেশ
প্রকৃতিতে শরৎ এলে
হেসে ওঠে দেশ।

শরৎ
শাহজাহান মোহাম্মদ

শুভ্র মেঘের হাতছানিতে
আলোছায়ার খেলা
লুকোচুরি রোদ বৃষ্টির
কেটে যায় বেলা।

মাঠে-ঘাটে নদীর ধারে
কাশফুলের মেলা
শিশির মাখা দূর্বাঘাসে
শিউলি ফুলের ভেলা।

সোনালি আলোর ঝলমলানি
মাঠের সবুজ ধানে
বলাকারা ফিরলো নীড়ে
গোধূলি বেলার টানে।

দোল খেয়ে যায় পালের নৌকা
মৃদু সমীরণে
স্নিগ্ধ জোছনায় মায়াবী রাত
ডাকছে ক্ষণে ক্ষণে।