কিছু দিন আগে স্কুলে বিশেষ একটি ক্লাস করানো হয়েছিল। সেদিন টিচার সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা দিলেন। হাত-পা কেটে গেলে, চোখে কিছু পড়লে, মাথায় আঘাত পেলে কী কী করতে হবেÑ এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন। নীতু খুব মনোযোগ দিয়ে সব কিছু বুঝে নিলো। বলা তো যায় না, কখন যে কোন কাজে লাগে? তা ছাড়া নীতু নতুন কিছু শিখতে বরাবরই আগ্রহী। প্রাথমিক চিকিৎসা জ্ঞান অর্জন করে নীতু মনে মনে নিজেকে একজন ডাক্তার ভাবতে শুরু করে। যদিও সে ডাক্তার নয়, তবে তার দৃঢ়বিশ্বাস, প্রয়োজনে যে কাউকে সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারবে।
এই তো সেদিনের কথা। নীতুর আব্বু-আম্মু অফিসে আর বাসায় রহিমা খালা কিচেনে কাজ করছেন। নীতু স্কুল থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে তার রুমে রেস্ট নিচ্ছে। এমন সময় কিচেন থেকে রহিমা খালার চিৎকার শুনে সে চমকে ওঠে। কী হলো দেখতে সে দৌড়ে কিচেনে গেল। রহিমা খালার অবস্থা দেখে নীতুর চক্ষু চড়কগাছ। তিনি সবজি কাটতে গিয়ে খুব বাজেভাবে আঙুল কেটে ফেলেছেন। তিনি আঙুল চেপে বসে আছেন, তবুও তার আঙুল দিয়ে রক্ত বের হয়ে মেঝেতে পড়েছে। খুব ভয়ানক একটা অবস্থা। তিনি নীতুকে দেখে অসহায়ের মতো তাকিয়ে রইলেন। নীতু প্রথম দিকে ভয় পেলেও সাহস হারাল না। অন্য কেউ হলে হয়তো মাথা ঘুরিয়ে পড়ে যেত।
ওদের বাসায় একটা ফাস্ট এইড বক্স আছে। সে দৌড়ে গিয়ে ফাস্ট এইড বক্সটা নিয়ে এলো। সেটা খুলে তরল অ্যান্টিসেপটিকের বোতল ও পরিমাণমতো কটন (তুলা) নিলো। তারপর তরল অ্যান্টিসেপটিকে কটনের কিছু অংশ ভিজিয়ে নিলো। রহিমা খালা ছোট্ট নীতুর কাজকর্ম দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। যেন তার আঙুল কাটার ব্যথা ভুলেই গেলেন। নীতু যেই না অ্যান্টিসেপটিকে ভেজা কটন দিয়ে তার আঙুলের কাটা অংশ ভালো করে মুছে দিলো, তখনই রহিমা খালা আবার উফ করে চেঁচিয়ে উঠলেন। আসলে কাটা অংশে অ্যান্টিসেপটিকে একটু জ্বালা হয়। তারপর নীতু ফাস্ট এইড বক্স থেকে একটা ব্যান্ডেজ বের করে রহিমা খালার আঙুলে সুন্দর করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দিলো। এতে করে রহিমা খালার রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে গেল এবং আপাতত ইনফেকশন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা রইল না।
তবে এখানেই শেষ নয়। নীতু রহিমা খালাকে বলে দিয়েছে, সে যা কিছু করেছে, এটা হচ্ছে প্রাথমিক চিকিৎসা। যেহেতু তার আঙুল ছুরিতে কাটা, তাই একটা টিটেনাস ইনজেকশন নেয়া দরকার হতে পারে। নয়তো পরে ইনফেকশন হলে আঙুলে পুঁজ হয়ে যাবে। এমনকি আঙুলে পচন পর্যন্ত ধরতে পারে, তখন আঙুল কেটে ফেলতে হবে। সে রহিমা খালাকে পরামর্শ দিলো, তিনি তার বাসায় যাওয়ার সময় একজন ডাক্তার দেখাতে। ডাক্তার যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে টিটেনাস ইনজেকশন দিয়ে দেবেন। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তিনি ব্যথানাশক ওষুধও দিয়ে দেবেন।
রহিমা খালা অবাক বিস্ময়ে নীতুর দিকে তাকিয়ে তার সব কথা শুনলেন। তিনি ভাবছেন, প্রাইমারি স্কুলপড়–য়া ছোট্ট নীতু ডাক্তারি কিভাবে জানে?
নীতু রহিমা খালার মনের অবস্থা বুঝতে পেরে বলল, সে তার স্কুলে এসব শিখেছে। সে আরো বলল, সবারই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজন। রহিমা খালা তখন খুব খুশি হয়ে নীতুর কপালে চুমু দিয়ে বললেন, নীতু খুব বুদ্ধিমতী ও লক্ষ্মী মেয়ে। তিনিও নীতুর কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চান। তখন নীতু বলল, সে স্কুলে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে যা যা শিখেছে, সব কিছুই রহিমা খালাকে শেখাবে।
কিছু দিন আগে স্কুলে বিশেষ একটি ক্লাস করানো হয়েছিল। সেদিন টিচার সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে খুব ভালো ধারণা দিলেন। হাত-পা কেটে গেলে, চোখে কিছু পড়লে,...
