তোমরা তো ফুল, পাখি, গাছ, ফল ইত্যাদির অনেক নাম জানো। কিন্তু প্রজাপতির যে অনেক নাম আছে তা হয়তো খুব একটা জানো না। শুনলে অবাক হবে, নানা নামের প্রজাপতির নানা উপপ্রজাতিও রয়েছে। এগুলোর সংখ্যাও একেবারে কম নয়।
আজ তোমরা এমন এক ধরনের প্রজাপতি সম্বন্ধে জানবে, যার নাম খোড়ে বাঘা। ডানা বন্ধ অবস্থায় খোড়ে বাঘাকে যেমন দেখা যায়, ডানা খোলা বা মেলা অবস্থায় এদের অন্যরকম দেখা যায়। অর্থাৎ ডানা মেললে শরীরের বিচিত্র নানা রঙ একটু বেশিই দেখা যায়। ডানা বন্ধ অবস্থায় প্রচুর ডোরাকাটা সাদা দাগ চোখে পড়বে। পাশাপাশি সামান্য লাল ও কালো রঙ রয়েছে। আর ডানা খোলা বা মেলা অবস্থায় চোখে পড়বে বেশি লাল। এই লালকে গাঢ় খয়েরি ও কমলা রঙের মিশেলের মতোও মনে হবে। এ প্রজাতিকে অনেকে ডোরাকাটা বাঘ প্রজাতির সাথে তুলনা করে। ডানার যে সাদা ও লাল রঙের অংশ রয়েছে সেগুলো বেশ লম্বাটে। পাশাপাশি ছোপ ছোপ কালোসহ অন্যান্য রঙও দেখা যায়। ডানার নিচেও নানা বাহারি রঙ দেখতে পাওয়া যায়। ডানার শেষের দিকে ফ্যাকাশে কমলা কিংবা হলদেটে আভাযুক্ত রঙ লক্ষ করা যায়। ডানার শিরাগুলো দেহের তুলনায় বেশ চওড়া। পুরুষ খোড়ে বাঘার শিরার গোড়ার দিকটা সামান্য কালো। এদের মাথা এবং বুকের নিচের অংশ কালো। পেটের নিচের অংশ কমলা।
এরা শারীরিকভাবে অন্যান্য শ্রেণীর প্রজাপতির তুলনায় কিছুটা দুর্বল। যে কারণে একটু ধীরে ওড়ে। মাটি থেকে খুব বেশি উঁচুতে ওড়ে না। তবে কোনো কারণে ভয় পেলে বা কোনো কিছুর তাড়া খেলে দ্রুত উড়তে পারে। এমনকি উঁচুতেও উড়তে পারে।
যেসব গাছে ফুল ও ফলের রস বেশি সেসব গাছে বেশি বসে রস খাওয়ার জন্য। নানা ধরনের ফুলের মধুও এদের প্রিয় খাবার। ওড়ার সময় মাঝেমধ্যে বিশ্রাম নেয় গাছের ডালের শীর্ষে বসে। এরা রোদ পছন্দ করে। তাই বেশির ভাগ সময় রোদের মধ্যে ওড়ে। ভেজা মাটি খোড়ে বাঘাদের একেবারেই পছন্দ নয়। যে কারণে ভেজা মাটিতে একেবারেই বসতে চায় না। শুকনো মাটিতে বসে। এরা অনেকটাই পরিযায়ী স্বভাবের। যে কারণে পাহাড়ি অঞ্চলে বেশ উঁচুতে ওড়ে। অনেক সময় এদের উড়তে দেখা যায় ঘন জঙ্গলে ও এর আশপাশে। বিশেষ করে জঙ্গলসংলগ্ন গ্রামাঞ্চলে এ প্রজাপতিকে বেশি দেখা যায়। সুন্দরবন অঞ্চলেও দেখা যায় মাঝে মধ্যে।
খোড়ে বাঘা প্রজাপতি বেশি দেখা যায় মিয়ানমার, ভারত, বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি দেশে। ভারতের আন্দামান, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে এদের দেখা মেলে কমবেশি। ভারতের সুন্দরবন অঞ্চলেও দেখা যায়।
খোড়ে বাঘা উপপ্রজাতিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম হচ্ছে ডি.এম সেলেবেনসিস, ডি.এম এডমনডিল, ডি.এম হারুহাছা দোহারটি, ডি.এম ইনডিকাস, ডি.এম কেটেওস, ডি.এম মেলানিপাস ইত্যাদি। খোড়ে বাঘার বৈজ্ঞানিক নাম ডানাউস মেলানিপাস। বৈজ্ঞানিক আরেক নাম ক্রেমার। এরা ইনসেকটা শ্রেণীভুক্ত প্রাণী। আর এদের পরিবার নিমফালিডা। এরা মাঝারির চেয়ে বড় সাইজের প্রজাপতি।
