মিতুলদের বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি ফুলের বাগান। মিতুল আর তার নানুভাই দু’জনে এ বাগানটি করেছে। ফুলের বাগান তাদের কাছে খুব প্রিয়। মনের সুখে আজ দু’মাস হলো এ বাগানটি করেছে। বাগানে আছে ছোট-বড় সাদা-লাল বিভিন্ন ধরনের ফুল। ফুলগুলো দেখতে যেমন নজরকাড়া তেমনি সুগন্ধময়। একেক ফুলের একেক ঘ্রাণ। নানা-নাতীন দু’জনে সারা দিন ব্যস্ত থাকে এই ফুলের বাগান নিয়েই। পথচারীরাও বাগানটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ কেউ আবার ফুল ছিঁড়েও নিয়ে যায়। তাই খুব ভালো করে সারাক্ষণ বাগানটির দিকে খেয়াল রাখতে হয়।
আজ বাগানে অনেক সুন্দর একটি গোলাপ ফুলের কলি এসেছে। মিতুল তার নানুভাইকে আগে থেকেই বলে রেখেছেÑ নানুভাই! এ গোলাপটি ফুটলে আমি তোমাকে দেবো না। আমি আমার রুমের ভেতর নিয়ে রেখে দেবো। তার নানুভাই অনেক করে বুঝিয়েছেÑ মিতুল, ফুল হাতে শোভা পায় না। বাগানেই সৌন্দর্য দেখায়। তাই ফুল ছেঁড়া যাবে না। বাগানেই থাকবে, কিন্তু মিতুল তা মেনে নিলো না।
পরদিন সকালে সদ্য একটি লাল টকটকে গোলাপ ফুল ফুটে আছে বাগানে। মিতুল ঘুম থেকে উঠেই বাগানে চলে গেল। বাগানে গিয়ে দেখতে পেল ফুলের ওপর একটি সুন্দর প্রজাপতি বসে আছে। প্রজাপতিকে দেখে মিতুল ফুলটি আর ছিঁড়ল না। এভাবেই রেখে দিলো। আর নানুভাইকে জলদি গিয়ে বললÑ নানুভাই, নানুভাই! আজ আমার ফুলে একটি সুন্দর প্রজাপতি বসেছে। তাই আজ থেকে সেই প্রজাপতিও আমাদের বন্ধু। তার পর থেকে মিতুল সেই প্রজাপতির দিকে সারাক্ষণ খেয়াল রাখে, বারবার বাগানে যায় আর আসে। প্রজাপতিটি মিতুলের অনেক ভালো লেগেছে।
একদিন সকালে মিতুল ঘুম থেকে উঠে জলদি বাগানে গিয়ে দেখতে পেল প্রজাপতিটি ফুলের ওপর নেই, তখন সে কান্না শুরু করে দিলো। তার নানুভাই মিতুলের কান্না শুনে জলদি ছুটে এলো। দেখতে পেল সত্যিই প্রজাপতিটি নেই। তখন দু’জনে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর দেখতে পেল, বাগানের এক কোণে প্রজাপতিটি পড়ে আছে আর কে যেন তার একটি ডানা ভেঙে দিয়েছে। এ নিয়ে পুরো বাড়ি গরম করে তুলল মিতুল। সবাইকে চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলÑ কে গিয়েছিল আমার বাগানে? আর কে আমার প্রজাপতিটির ডানা ভেঙে দিয়েছে? নানুভাই আর মিতুল দু’জনে মিলে প্রজাপতির গায়ে পানি দিলো। তারপর অনেক যতœ করতে শুরু করল। এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর মিতুল একদিন স্কুল থেকে আসার পর দেখতে পেল তার প্রজাপতিটি মারা গেছে। তখন সে কান্নায় ভেঙে পড়ল। কারো সাথে কোনো কথা বলে না, স্কুলে যেতে চায় না। খাবারদাবার ঠিকমতো করে না। যে বাগানে প্রজাপতি নেই, সেই বাগান রেখে কী লাভ হবে? এখন সে শুধু সারাক্ষণ কান্না করে।