মধ্য এশিয়ার একটি শহর। নাম বলখ। শহরে ছিল এক ধনী লোক। তার ছিল একটি সুন্দর ফুল ও ফলের বাগান। নজর কাড়ার মতো। সেই বাগানে ফুটত হরেক রকম ফুল। ফলতো সুস্বাদু ফল।
একদিন এক দুষ্টু পাখি কোথা থেকে এসে বাগানের যত কাঁচা পাকা ফল ছিল সব একটা একটা করে ঠুকরে ঠুকরে মাটিতে ফেলতে লাগল।
বাগানের মালী দুষ্টু পাখিটাকে যে কিভাবে তাড়াবে পথ খুঁজে পাচ্ছিল না। অবশেষে ফাঁদ পাতল। দুষ্টু পাখি ফুড়ৎ করে উড়ে এসেই ফাঁদে আটকা পড়ল।
ঝোপের আড়াল থেকে মালী বের হয়ে খপাৎ করে পাখিটার গলা টিপে ধরে।
পাখি মালীর দিকে মিট মিট চোখে তাকায়। বলে, তুই খুব চালাক। আমাকে মারবি মার। তোর ইচ্ছে পূরণ হোক।
মালী বলে, তোর যা বলার বল। মৃত্যু যখন নিশ্চিত ওসব বলে লাভ নেই।
দুষ্টু পাখি বলে, মারার আগে আমার কয়েকটি কথা শোন। আচ্ছা। এখান থেকে দিগন্তজোড়া পশ্চিমে গেলে দেখবি একটি বিশাল মাঠ। ওখানে আছে একটি মরুদ্যান। একদিন ওই মরূদ্যানে বসে আছি। দেখলাম কাঠঠোকরা আর বুলবুলি একটি ফড়িং ধরার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে। বুলবুলির জয় হলো। কিন্তু কাঠঠোকরা ছোঁ মেরে বুলবুলির ঠোঁট থেকে ফড়িংটা ছিনিয়ে নিলো।
বুলবুলি বলল, অন্য পাখিদের মুখে তোমাদের কথা শুনেছি। তোমরাই নাকি বাদশাহ সোলাইমান আ:-কে ‘শেবা শহরের’ খবর দিয়েছিলে? তাতে তোমরা বাদশাহ থেকে কী পেলে?
তিনটি পুরস্কার পেয়েছি। মাটির কত নিচে পানি আছে বলতে পারি, মাথার সুন্দর ঝুঁটি, কোন ফল কী রকম হয়।
আমি কাঠঠোকরার মুখ থেকে সেদিন এই বাগানের কথাও শুনেছি। বলছে, এই বাগানের সব ফল বিষাক্ত হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি উড়ে এলাম। ভাবলাম, ছোট ছেলেমেয়ে খেলে তো বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই ঠুকরে ঠুকরে ফলগুলো ফেলছিলাম। তাহলে উপকারী বন্ধুকে কেন মারবে? এসব কথা শুনে মালী দুষ্টু পাখিটাকে ছেড়ে দিলো। ডানা ঝাপটে পাখি গাছের ডালে গিয়ে বসল। বলল, মূর্খ মালী এসব আমার মিথ্যে কথা। মালীর চোখ তো ছানাবড়া...!
