‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে/ডালে ডালে ফুলে ফলে পাতায় পাতায়/আড়ালে আড়ালে কোণে কোণে।’
ষড়ঋতুর এই দেশে বসন্তের বার্তা আজ বনে বনে, হাওয়ায় হাওয়ায়। কুয়াশার নিষ্পেষণে মুমূর্ষু প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন জাগিয়ে তুলতেই আগমন ঘটে ঋতুরাজ বসন্তের। তাই তো ফাগুনের হু হু করে বয়ে যাওয়া দক্ষিণা হাওয়ায় গাছের শাখা থেকে মলিন বিবর্ণ পাতারা ঝরে পড়ে মর্মর শব্দ তুলে। নিষ্পত্র শাখাগুলো ভরে ওঠে অজস্র ফুলের রক্তিম আভায়। কোকিলের কণ্ঠে মন উচাটন করা কুহু কুহু সুর জানান দেয় ঋতুচক্রের পালা বদলে আবার আসছে বসন্ত।
সখী ভালোবাসা কারে কয়
‘একটুকু ছোঁয়া লাগে/একটুকু কথা শুনি/তাই দিয়ে মনে মনে/রচি মম ফাল্গুনী/ কিছু পলাশের নেশা/কিছুবা চাঁপায় মেশা/
তাই দিয়ে সুরে সুরে/রঙে রসে জাল বুনিÑ’
কবি ঠিকই বলেছেন, নিসর্গের এই বিপুল পরিবর্তনের প্রভাব মানব হৃদয়েও দ্যোতনার সৃষ্টি করে। অনুভূতি জাগায় ভালোবাসার। ব্যাকুলতা জাগে তা প্রকাশের। হৃদয়ের বন্ধ দরজা খুলে গোপন কথাটি মেলে ধরতে উৎসুক প্রিয়জনকে। বসন্ত ও ভালোবাসাকে বরণের জন্য বাসন্তী রঙের ছটা ছড়িয়ে যাবে শহরময়। এরই সাথে ফাগুনের রঙ দ্বিগুণ করেই আসছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ইতিহাসের পাতায় সেন্ট ভ্যালেন্টাইন্স ডে। শুরুটা পাশ্চাত্যে। অনেক দেশ-মহাদেশ পাড়ি দিয়ে এ দিবসটি বাংলাদেশেও পৌঁছেছে। এখন এ দিবসটি বাঙালির বসন্ত দিনের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। তারপরেও মনে রাখতে হবে ভ্যালেন্টাইন্স ডের মূল সুরÑ ‘আত্মকেন্দ্রিকতা থেকে মুক্ত হও। পরের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করো।’ কারণ এ ভালোবাসা দিবসের পেছনের গল্প যে আত্মদানের গল্প।
অভিবাদন হে বসন্ত
‘রঙ লাগালে বনেবনে/ঢেউ জাগালে সমীরণে/আজ ভুবনের দুয়ার খোলা /দোল দিয়েছে বনের দোলা’
কবিরা চিরকাল বসন্তের খ্যাতিকে, যৌবনের দূত হিসেবে দেখেছেন। ফাগুনের রঙ শুধু মনেই রঙ ধরায় না , রক্তেও আগুন ধরায়। বসন্তকে এক অর্থে বাঙালির আন্দোলনের ঋতুও বলা যায়। কেননা এ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, এ বসন্তেই বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ও শুরু হয়েছিল। তাই ফাগুনের হাওয়ায় হাওয়ায় ফিরে আসা হে ফুলেল বসন্ত, তোমায় স্বাগতম।
সবশেষে বিশ্ব কবির ভাষায় আরো একবার বলতে হয়Ñ
আজিকার বসন্তের আনন্দ অভিবাদন/ পাঠায়ে দিলাম তার করে /আমার বসন্তগান তোমার বসন্তদিনে...