একতলা পাকা বাড়িটার সামনে বাঁশের বেড়া দিয়ে একটা বাগান বানিয়েছে বুশরা ও তার মায়েদ চাচ্চু। তাতে নতুন টগর ও রজনীগন্ধা ফুলের চারা গাছ লাগানো। বুশরার আব্বু অফিস থেকে এসে বুশরার কাণ্ড দেখেতো অবাক। সকালে এ বাগান ছিল না। বিকেলে এসে নতুন এ ফুলের বাগান দেখে বুশরার আব্বু বুশরাকে ডেকে বললেন- মা এ বাগান কিসের জন্য করেছ? দশ বছরের হাসিমুখ বুশরা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে, আব্বু তুমি জানো না এ ফুলবাগান কত সুন্দর দেখতে। চোখ দুটো জুড়িয়ে যায়। জানো আব্বু, গাছগুলো যখন বড় হবে তখন এতে মৌমাছিরা ভিড় করবে আর হলুদ রঙের পাখিরাও ফুলের সৌরভে এখানে চলে আসবে ? কি সুন্দর দৃশ্য তাই না? বুশরার আব্বু মাথা নাড়ালেন। মেয়ের ফুল পাখিদের প্রতি মায়া দেখে বুশরার আব্বুরও ভীষণ ভালো লাগছে। নতুন এ বাগানের গাছগুলো ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। বুশরা প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার আগে এবং স্কুল থেকে ফিরে গাছগুলোর পরিচর্যা নেয়।
বুশরার মায়েদ চাচ্চু তাকে স্কুলে নিয়ে যায়। আসার পথে বুশরা নানান প্রশ্ন করে তার চাচ্চুকে। সব প্রশ্নই তার বাগানকে ঘিরে। কিভাবে বাগান আরো সুন্দর করা যায়, কী গাছ লাগালে বাগান আরো দৃষ্টিনন্দন হবে, এ নিয়ে বুশরা মামণির ভাবনার শেষ নেই।
এদিকে ধীরে ধীরে বাগানের গাছগুলো বড় হয়ে উঠছে। ঘরের ভেতর ও আশপাশে ফুলের ম ম গন্ধে একাকার। কদিন পর স্কুল শেষে ফিরে এসে বুশরা দেখে, তার বাগানে কিছু পাখি ঠুক ঠুক করে কী যেন কুড়িয়ে খায়। আর বেড়ার বেষ্টনীর উপর বড় পাখিরা তাকিয়ে সেসব দেখে চলছে। বুশরার মায়েদ চাচ্চু আর দেরি করেনি। ভেতর থেকে গুলতি এনে একটা হলুদ পাখিকে লক্ষ্য করে গুলতি ছুড়ে মারল। ওমনি হলুদ পাখিটি নিচে পড়ে গড়াতে শুরু করে।
বুশরার সে কী কান্না! চাচ্চু এই হলুদ পাখি তোমার কী ক্ষতি করেছে! কেন তুমি পাখিকে গুলতি মারলে? পাখি মারা কি ভালো? বুশরার মুখে তার মায়েদ চাচ্চু এসব শুনে কী বলবে বুঝল না!
আহত পাখিটাকে চাচ্চু নিয়ে এসে বুশরাকে বলল, মন খারাপ করো না। চলো আমরা এর চিকিৎসা শুরু করি। পাখিটা অবশ্যই ভালো হয়ে যাবে। বুশরা আর তার চাচ্চু তাই করল। হলুদ বাটা দিয়ে হলুদ পাখির ক্ষতস্থানে লাগিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। দু’দিন পর হলুদ পাখিটা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। বুশরার সে কী আনন্দ! বুশরা হলুদ পাখিটাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে তার ফুলের বাগানে ছেড়ে দেয়। হলুদ পাখিটা ফুড়–ৎ করে উড়ে বুশরার বাগানের এক কোণে এসে বসল। মুক্ত পাখিটা তার ছোট্ট ছোট্ট চোখগুলো দিয়ে বুশরার দিকে তাকিয়ে আছে।