আজ তোমরা জানবে বেগুনি কালেম নামের পাখি সম্বন্ধে। মুরগির আকারের বেগুনি রঙের এক ধরনের পাখি এ বেগুনি কালেম। এদের বেশি দেখা যায় হাওর, বিল, তৃণপূর্ণ জলাভূমি, নলবন প্রভৃতি জায়গায়। তবে বেশি পছন্দ স্রোতহীন জলাভূমি। ডাহুক যেমন জলাশয়ের কচুরিপানার ফাঁকে ফাঁকে বিচরণ করে, তেমনি এদেরও দেখা যায় এমন স্থানে। যেসব জলাশয়ে লতা, গুল্ম, শাপলা ইত্যাদি প্রচুর রয়েছে এমন সব জায়গাও এদের পছন্দ। এমনকি বেগুনি কালেমদের মাঝেমধ্যে কাদাভূমি, লোনা পানির জলাশয়, ধানক্ষেত, বনের ধারে, মৌসুমি জলাশয়গুলোতেও মনের আনন্দে বিচরণ করতে দেখা যায়।
বাংলায় বেগুনি কালেম পাখির অনেক নাম রয়েছে। বেশি সুন্দর নামগুলো হলো কায়িম, কায়েম, সুন্দরী পাখি, কাম পাখি ইত্যাদি। সুন্দরী পাখি বলে হাওর অঞ্চলের মানুষ। নিউজিল্যান্ডে কালেমকে বলা হয়ে থাকে পুফেকো।
বিশ্বের অনেক স্থানেই এদের কমবেশি দেখা যায়। বেশি দেখা যায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ওশেনিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। এদের আবাস পৃথিবীর এক বিশাল এলাকাজুড়ে। জানা গেছে, বেগুনি কালেমের আবাস প্রায় এক কোটি ৮৫ লাখ বর্গকিলোমিটার।
বেগুনি কালেমের দৈর্ঘ্য ৩৪ সেন্টিমিটার থেকে ৪৮ সেন্টিমিটার। ঠোঁট ৪.৫ সেন্টিমিটার। ডানা প্রায় ২৭ সেন্টিমিটার। লেজ প্রায় ১০ সেন্টিমিটার। আর শরীরের ওজন প্রায় ৬৫০ গ্রাম থেকে ৭০০ গ্রাম হয়ে থাকে। সবুজ দীপ্তিময় এদের ডানা। কালো পালকে ঢাকা লেজের কালো অংশ। এদের লেজতল ঢাকনি সাদা। লাল মুকুটের মতো আবরণ দেখতে পাওয়া যায় ঠোঁটের গোড়া থেকে পেছন পর্যন্ত। স্ত্রী ও পুরুষ উভয় কালেমের চোখ রক্তের মতো লাল। টেকটকে লাল ঠোঁট। ঠোঁটের আগার রঙ প্রায় অনুজ্জ্বল। দেহ তুলনায় পা যথেষ্ট দীর্ঘ এবং খুবই শক্ত। পায়ের রঙ উজ্জ্বল লাল। গলার রঙ হালকা বেগুনি। ধূসর রঙ দেখতে পাওয়া যায় মুখ, ঘাড়ের উপরি ভাগ ও বুকে।
কালেম পাখিরা ডিম পাড়ে ৪ থেকে ৬টি। ডিম ফুটতে সময় নেয় ১৮ থেকে ২০ দিন প্রায়। স্ত্রী কালেম ডিমে তা দেয়। আর ডিম পাহারা দেয় পুরুষ কালেম। এরা ডিম দেয় বর্ষাকালে। ভালো সঙ্গী না জোটা পর্যন্ত ডিম পাড়তে চায় না। ছানাদের গায়ের রঙ হয় ধূসর কালো। মুরগি ছানাদের মতো কালেম ছানারা মা-বাবার পিঠে চড়ে খেলা করে। কালেম পাখি হাঁস-মুরগির মতো পোষ মানে। তাই এদের পালাও যায়।
বেগুনি কালেম বেশি খায় শামুক, চিংড়ি, ব্যাঙ, ব্যাঙাচি, ছোট মাছ, পোকামাকড়, কচি ঘাস, ধান, গম, ভুট্টা ইত্যাদি। ঘাসফড়িং আর তেলাপোকাও বেশ পছন্দ। এদের ঠোঁট মোটা ও শক্ত। আগা তীক্ষè ধারালো। ঠোঁট দিয়ে শিকারিতে বেশ পটু।
বেগুনি কালেমের অনেক উপপ্রজাতির কথা জানা যায়। যেমনÑ কাছ পিয়াস, ফরফিরিও, মাদাগাসকারিনসিস, ভিরিডিস, মেলানোটাস, ইনডিকাস, পালভেরুলেনটাস ইত্যাদি। কিছু কিছু উপপ্রজাতিকে আলাদা প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হয়। কালেমকে আবাসিক এমনকি পরিযায়ী পাখিও বলা হয়ে থাকে।
বেগুনি কালেম পাখির বৈজ্ঞানিক নাম পরফিরিও। এরা রেলিডা গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। বেগুনি কালেমের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থও বেগুনি কালেম। এদের ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
