বিহারপুর গ্রামে অনেক বড় একটি বরই গাছ আছে। সেই গাছে প্রচুর বরই ধরে। এবারো তার ব্যতিক্রম হলো না। গাছের ডালে ডালে ধরে আছে পাকা পাকা বরই। গ্রামের সব মানুষই সারাক্ষণ লেগে থাকে বড়ই গাছটিতে। শুধু মানুষই নয় বরং তাদের সাথে হাজার রকম পশুপাখিও গাছের বরই খেতে আসে।
আজো বিহারপুর গ্রামের বরই গাছটিতে অনেক পাখি এসেছে। গাছে অনেক বড়ই ধরছে। পাখিগুলো বরই কামড়াচ্ছে মনের আনন্দে। আর কিচিরমিচির করে গল্প করছে। উত্তর দিকের মধ্য ডালটিতে বসে আছে একটি মা পাখি ও তার ছানা। কয়েক দিন আগে ছানাটি হয়েছে। মা পাখি ছানাটিকে অনেক আদর করে। এখনো ছানাটি উড়তে পারে না ঠিকমতো। এ জন্য মা পাখি সব সময় ছানাটাকে কাছে রাখে। আগে খাবারের জন্য মা পাখিও যেত। এখন যায় না। বাবা পাখি খাবার নিয়ে আসে। সেটাই ভাগ করে খায়।
ছানাটি অনেক দুষ্টু। শুধু উড়তে চায়। পড়ে যায় তার পরও উড়তে চায়। মা পাখি মানা করে, শোনো এভাবে উড়তে যেয়ো না। পড়ে গেলে ব্যথা পাবে।
ছানা বলে, মা আমি নিজে উড়তে না চাইলে কিভাবে উড়তে পারব? সবাই কি সুন্দর উড়তে পারে। আমি কেন উড়তে পারব না? মা পাখি হাসে। তুমি উড়তে পারবে তো। আরেকটু বড় হও। তুমি উড়ে কী করবে?
-আমি অনেক দূরে যাবো। অনেক দূরে।
- দূরে গেলে তো হারিয়ে যাবে।
- নাহ হারাবো না। রাস্তা দেখে দেখে যাবো। আবার সে রাস্তা দেখে ফিরে আসবো। দেখো না, বাবা কত দূরে চলে যায়। আবার আমাদের কাছে ফিরে আসে। মা পাখির ভালো লাগে ছানার কথা শুনে। কী মিষ্টি গলায় কথা বলে।
- ঠিক আছে তুমি অনেক দূর যেয়ো। তবে সে জন্য আগে তোমাকে বড় হতে হবে।
ছানা বলে, মা আমি বরই খাবো। সবাই খাচ্ছে। আমিও খাবো। ওরা তো বড়। তাই খাচ্ছে। তুমি এখনো ছোট। তোমার ঠোঁট অনেক নরম। তুমি খেতে পারবে না।
- খেলে কী হবে?
- তোমার ঠোঁট ভেঙে যাবে। ব্যথা পাবে।
ছানাটি বিশ্বাস করে না। বলে, নাহ ঠোঁট ভাঙবে না। আমি বরই খাবো। এবার মা পাখিটা বলে, বরই অনেক টক। তোমার খারাপ লাগবে।
অন্য পাখিগুলোর দিকে দেখিয়ে ছানাটি বলে, নাহ খারাপ লাগবে না। ঐ দেখো সব পাখি কী আনন্দে খাচ্ছে। আমিও খাবো।
নিরুপায় হয়ে মা পাখি বরই একটা মুখে নেয়। তারপর সেটা নরম করে ছানার মুখে দেয়।
ছানা সেটা খেতেই চিৎকার দিয়ে ওঠে। এত টক কেন? মুখ চুলকাচ্ছে।
মা পাখি বলে, আমি তো আগেই বলেছিলাম তোমাকে। তুমি তো আমার কথা শুনলে না। ছানা কান্না জুড়ে দেয়। মা পাখি বলে, দেখো, নিষেধ করেছি। তা না শুনে এই অবস্থা।
দাঁড়াও পানি এনে দিচ্ছি তোমাকে।
ছানা জিজ্ঞেস করে, মা, পানি খেলে কী হবে?
এই যে তোমার টক লাগছে তা পানি খেলে চলে যাবে। মুখ আর চুলকাবে না।
এবার পাখিটা কান্না করতে করতে বলে, আমি পানি খাবো। তাড়াতাড়ি পানি দাও।
-একটু অপেক্ষা করো। এখন পানি কোথা হতে আনবো?
না, অপেক্ষা সয় না ছানার । ওর অনেক টক লাগছে। মুখও চুলকাচ্ছে। চিৎকার দিয়ে বলে, না এখনই লাগবে। আমাকে এখন পানি এনে দাও।
মা পাখিটা বুঝানোর চেষ্টা করে, শোনো, এখানে কাছে কোনো নদী নেই। একটা পানির কল আছে। আর সেখানে অনেক মানুষ। এখন যাওয়া যাবে না। তোমার বাবা আসুক তারপর।
ছানা বোঝে না। এখনি পানি লাগবে তার। ছানার কান্না বাড়তেই থাকে। শেষে মা পাখিটা আর না পেরে অনের দূরের একটি নদী থেকে পানি আনার জন্য উড়াল দেয়। জলদি পানির জন্য নদীতে নেমে পড়ে, ঠিক তখনি একটি পাখি শিকারির চোখ পড়ে মা পাখিটির উপর। তখন সে আনন্দে বলতে থাকে আজ সারাটা দিন ধরে একটি পাখিও পাইনি এখন পেলাম তোমাকে আর হাতছাড়া করা যাবে না। শিকারি পাখিটিকে গুলি করে মাটিতে ফেলে দিয়ে বাড়িতে নিয়ে গেলো। মা পাখিটা চিৎকার করে বলে, আমাকে ছেড়ে দাও, আমার ছানার টক লেগেছে তাকে জলদি পানি খাওয়াতে হবে। কিন্তু না, শিকারি তাকে মেরেই ফেলল। আর ছানাটি তার মায়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু তার মা আর কোনো দিন ফিরে আসেনি। তাই ছোট্ট বন্ধুরা! এসো, আমরা পাখিদেরকে ভালোবাসতে শিখি।তাদের উপর অত্যাচার না করি। কারণ তাদেরও আমাদের মত প্রাণ আছে। আছে ভালোবাসা আর বুক ভরা স্বপ্ন আশা।
