সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর অসংখ্য দানের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দান আমাদেরকে তিনি ভাষা ব্যবহার করে কথা বলার মতা দিয়েছেন। আর মাতৃভাষার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ভাষা পৃথিবীতে নেই। যত বিদেশী ভাষাই আমরা শিখি না কেন মায়ের ভাষার সাথে কোনো ভাষার তুলনা হয় না। কবির ভাষায়Ñ মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা। ভাষা হচ্ছে প্রবহমান নদীর মতো। চলার পথে পরিবর্তন তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। পৃথিবীতে মতান্তরে পাঁচ হাজারেরও অধিক ভাষা রয়েছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় বাংলা ভাষা তার একটি। পৃথিবীর অনেক ভাষার মতো বাংলা ভাষাও নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে আসছে।
ভাষাকে মর্যাদার অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা মানুষের চিরায়ত বৈশিষ্ট্য। আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি যেমন শির উঁচু করে দাঁড়াতে চায়, তেমনি সে তার ভাষাকেও নিয়ে যেতে চায় গৌরবের স্বর্ণশিখরে। আমরা বাঙালি জাতিও তার ব্যতিক্রম নই। আমাদের মায়ের ভাষার রয়েছে কণ্টকাকীর্ণ ও গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি আমরা এ ভাষা। পৃথিবীর কোনো ভাষার েেত্র এরূপ ইতিহাস নেই। তাই এ ভাষা সংগ্রামের চূড়ান্ত দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেয়েছে।
বাংলা ভাষার অতীত ইতিহাস সব সময় এক রকম ছিল না। কখনও উপেতি হয়েছে আবার কখনও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। বাঙালির রাজ্যপট বরাবরই বিদেশীদের দ্বারা শাসিত হয়েছে। বিদেশী শাসনের চাপ বরাবরই বাংলা প্রচলনে বাধা প্রদান করে এসেছে। প্রাচীন যুগে বৌদ্ধ শাসকরা বাংলা ভাষার অনুকূলে ছিলেন বলেই চর্যাপদের মতো পুঁথি রচিত হতে পেরেছিল। কিন্তু দাণিাত্য থেকে আগত সেন রাজারা বাংলা লৌকিক ভাষা বলে রাজদরবারে স্থান তো দেনইনি, বরং ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে শিষ্টজনের জন্য এ ভাষার চর্চা নিষিদ্ধ করেছিলেন। সেন রাজাদের রাজভাষা ছিল সংস্কৃত। মুসলিম শাসনামলে বিস্তৃত পরিসরে ফারসি ছিল রাজভাষা। বাংলা ভাষার প্রচলনে মুসলিম রাজন্যবর্গ এক সময় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। সুলতানি আমল বাংলা ভাষা প্রচলনের েেত্র উজ্জ্বল হয়ে আছে। কিন্তু সে সময়ও বাংলা রাজভাষার মর্যাদা পায়নি, রাজভাষা ছিল ফারসি। বাংলা ভাষার প্রতি অবহেলা দেখে মধ্যযুগের কবি আব্দুল হাকিম তার নূরনামা কাব্যগ্রন্থে লিখেছেনÑ
যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সেসব কাহার জনম নির্ণয় ন জানি।।
দেশী ভাষায় যার মন ন জুয়ায়।
নিজ দেশ তেয়াগী কেন বিদেশে ন যায়।।
ইংরেজ আমলেও বাংলা ভাষার তেমন মর্যাদা ছিল না। ১৭৫৭ সাল থেকে ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এই সন্ধিযুগে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধি বিঘিœত হয়েছে। এ সময়ে মুসলিম কবিদের পুঁথিতে প্রচুর পরিমাণে আরবি, ফারসি শব্দের ব্যবহার ঘটলেও ইংরেজরা উৎকৃষ্ট বাংলা সাহিত্য সৃষ্টি হতে দেয়নি। ইংরেজদের রাজভাষা ছিল ইংরেজি। দেশ পরিচালনার প্রয়োজনে বাংলা শেখানোর তাড়না থেকে ১৮০০ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়। কলেজটিতে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ চালুর মাধ্যমে বাংলা গদ্যের সূত্রপাত শুরু হয়। ইংরেজদের উদ্দেশ্য যাইই থাকুক বাংলা গদ্যের বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালক্রমে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ বিখ্যাত কবি সাহিত্যিকদের সাধনায় বাংলা ভাষা সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়। ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান ও ভারত নামে দু’টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, সমগ্র পাকিস্তানে সাতটি ভাষা প্রচলিত ছিল। তার মধ্যে বাংলা ভাষায় ৫৪.৬ শতাংশ এবং উর্দু ভাষায় ৭.২ শতাংশ লোক কথা বলত। বেশি লোক বাংলা ভাষায় কথা বলাতে বাংলার জনগণ স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা। অথচ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত ও আশা আকাক্সাকে উপো করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মানুষের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়। বাংলার মানুষ এ সিদ্ধান্তের বিপে ফুঁসে ওঠে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ সময় ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন। পকিস্তানি সরকার তাকে কারাবন্দী করে। শুরু হয় দমন পীড়ন নির্যাতন। আন্দোলন আরও বেগবান হয়। যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। ঢাকার রজপথে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ অনেকে শাহাদত বরণ করেন। ভাষার অন্দোলন পূর্ব বাংলার গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সরকার মাথানত করতে বাধ্য হয়। পূর্ববঙ্গ আইন পরিষদে বাংলা ভাষার প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানের আলোকে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়া হয়। বাংলা ভাষা আমাদের রাষ্ট্রভাষা। এ ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে ত্যাগ তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম মুখ্যত বাংলা ভাষাতেই চলছে। কিন্তু তারপরও এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মাতৃভাষার প্রতি আমাদের অবহেলা ও ঔদাসীন্য যথেষ্ট রয়েছে। সর্বেেত্র এখনো বাংলা ভাষা চালু হয়নি। নির্ভুল বাংলা ভাষা চর্চা থেকে এখনো আমরা অনেক দূরে। বাংলা মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পরও বাংলা লিখতে, পড়তে ও বলতে আমরা অহরহ ভুল করছি। দেশের পত্রপত্রিকা, সাময়িকী, গবেষণাপত্র, বইপুস্তক, রাজনৈতিক প্রচার পত্রিকা, দেয়াল লিখন, পোস্টার, ব্যানার, টেলিভিশন, বেসরকারি রেডিও, দোকানপশারির নামফলক ও বিজ্ঞাপনে অজস্র বানান ভুল ও ভাষার অপপ্রয়োগ নিত্যই চোখে পড়ে। বিশেষ করে ভুলের চর্চা শিশু-কিশোরদের মনে বিরাট প্রভাব ফেলে। ভুল বানানটি মনের মধ্যে একবার গেঁথে গেলে পরে সঠিক বানানটিও বেঠিক মনে হয়। প্রকারান্তরে শুদ্ধাশুদ্ধি জ্ঞান লোপ পায়।
অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে যদি কাউকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনার লেখাতে এত ভুল কেন? তিনি কোনো লজ্জাবোধ ছাড়াই জবাব দেবেনÑ এমনই তো দেখেছি অথবা বলবেন বাংলা আসলে একটু কঠিন ভাষা। নিজের মাতৃভাষা সম্পর্কে পৃথিবীর অন্যকোনো জনগোষ্ঠী এত মূঢ় ও নির্লজ্জ উক্তি করে বলে মনে হয় না।
বাংলা ভাষায় আনুমানিক শব্দসংখ্যা সোয়া লাখের মতো। শব্দের সংখ্যা যে ভাষায় যত বেশি থাকে, সে ভাষা তত সমৃদ্ধ হয়। শব্দের ভাণ্ডার বাড়ানোর জন্য প্রত্যেক ভাষায় বিদেশী ভাষা থেকে শব্দ সংগ্রহ করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। অন্য ভাষা থেকে শব্দ সংগ্রহ করার মতা যে ভাষায় যত বেশি, সে ভাষা তত উন্নত। বাংলা ভাষায় অন্তত দুই হাজার ৫০০টি আরবি ও ফারসি, ৪০০টি তুর্কি, ৮০০টি ইংরেজি এবং ১৫০টি পর্তুগিজ ও ফরাসি শব্দ রয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য বিদেশী শব্দও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শব্দ এসেছে সংস্কৃত ভাষা থেকে। সংখ্যাটি ৫০ হাজারের বেশি। বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দের প্রচুর ব্যবহার দেখে একসময় অনেকে মনে করতেন সংস্কৃত থেকেই বাংলার জন্ম হয়েছে। সে অর্থে একটি মতবাদ প্রচলিত হয়েছিল যে, বাংলা হচ্ছে সংস্কৃতের দুহিতা। কিন্তু প্রকৃতপে সংস্কৃত থেকে বাংলা ভাষার জন্ম হয়নি। বাংলার জন্ম হয়েছে মাগধী প্রাকৃত নামক মুখের ভাষার বিবর্তনের মাধ্যমে। ভাষাতাত্ত্বিক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা ও সংস্কৃতের সম্পর্ক নির্ণয় প্রসঙ্গে বলেছেন,‘বাঙ্গালা সংস্কৃতের দুহিতা নহে, তবে দূর-সম্পর্কের আত্মীয়া বটে।’ প্রকৃতপে দুর্বোধ্য সংস্কৃতের সাথে আত্মীয়ের সম্পর্কের কারণেই বাংলাকে অনেকের কাছে কঠিন মনে হয়। জেনে রাখা ভালোÑ সংস্কৃত ভাষা মুখের ভাষা হিসেবে কখনও ব্যবহৃত হয়নি, এ ভাষা বইপুস্তকের ভাষা। বইপুস্তকে ছিল এবং আছে। তবে এ ভাষা পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষার একটি। আমার কাছে মনে হয়, বাংলা ভাষায় সংস্কৃত থেকে আগত যুক্তবর্ণের উচ্চারণ ও বানান অনেকে কঠিন মনে করেন। এ ছাড়া য-ফলা (্য), র-ফলা ( ্র), রেফ (র্ ), খণ্ড-ত (ৎ), বিসর্গ (ঃ), ং ও ঙ এর ব্যবহার, ন ও ণ এর ব্যবহার এবং শ, স, ষ এর ব্যবহার সঠিকভাবে না শেখার জন্য অনেকে বিড়ম্বনায় পড়েন। কিন্তু আয়ত্ত করার ইচ্ছা করলে যেকোনো শিতি ব্যক্তি অতি অল্প সময়েই এগুলো আয়ত্ত করে নিতে পারেন।
সহজ কথা সহজভাবে জানানোর পরও যদি কেউ মাতৃভাষাকে কঠিন ও অবহেলার যোগ্য মনে করেন তাকে মূর্খ ও পাষণ্ড না বলে উপায় নেই। প্রকৃতপে মাতৃভাষার চেয়ে অন্য কোনো ভাষা সহজ হতে পারে না। কারণ শিশু জন্মের পর থেকেই মায়ের ভাষার আশ্রয়ে ও পরিমণ্ডলেই বড় হয়ে ওঠে। চার-পাঁচ বছর বয়স হতে-না-হতেই বলার পাশাপাশি লেখালেখি শুরু হয়ে যায়। বিনা পরিশ্রমে কোনো কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়। ভাষার েেত্র তার ব্যতিক্রম কেন হবে? মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে বলা ও লেখার জন্য পরিশ্রম করে শিাগ্রহণ অপরিহার্য। শুদ্ধভাবে কথা বলাকে একটি শিল্পকর্ম হিসেবে দেখুন। হাতে-কলমে শিার পাশাপাশি অভ্যাস ও পরিশীলন দ্বারা তা অর্জন করতে হবে। শুদ্ধভাবে পড়া ও আবৃত্তি করা নিঃসন্দেহে প্রশিণের ওপর নির্ভরশীল। নিয়মনিষ্ঠভাবে চর্চার বিকল্প নেই। শুদ্ধ ও সুন্দর লেখা সাধনার ফসল। জীবনব্যাপী এ সাধনা চালানো উচিত।
বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী পুরুষ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) জীবনের কোনো একটি পর্যায়ে বাংলা ভাষাকে বাদ দিয়ে ইংরেজিকে ভালোবেসেছিলেন। ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য চর্চা করে আশান্বিত যশলাভে ব্যর্থ হন। তাঁর ব্যাপক পরিশ্রম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পরে তিনি বাংলাকে ভালো না বেসে কত ভুল করেছেন তা বুঝতে পারেন। বঙ্গভাষা কবিতায় তাঁর আপে উক্তি ব্যক্ত হয়েছেÑ
হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
ভুল ভাঙলে তিনি বাংলা ভাষায় সাহিত্য রচনা শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার মাধ্যমে তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও সাহিত্যিক হিসেবে নিজেকে গৌরবময় অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে সম হন।
মাতৃভাষা শিার েেত্র আমার চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে তরুণ ছাত্রসমাজ নয়, বরং চিন্তা শিতি শ্রেণীকে নিয়ে। আমরা যারা শিক, শুদ্ধভাবে ভাষা শেখাটা সবার আগে তাদের প্রয়োজন। যারা শেখাবেন অথচ শিখবেন না এটা কী করে হয়? যারা পণ্ডিত, বিশেষজ্ঞ, তারা শুদ্ধভাবে শিখবেন না ও শেখার চেষ্টা করবেন না; বরং অনেক বেশি জানেন এবং ভালোভাবে জানেনÑ এরূপ ভাব দেখাবেন সেটা মেনে নেয়া যায় কি? আমি বলব- লজ্জা ছাড়–ন। সময় থাকতে সংশোধন হোন। নিজে শিখুন, সন্তানাদিকে শেখান, ছাত্র সমাজকে শেখান, বন্ধুদেরকে শেখান তথা সর্বসাধারণকে শেখান। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মাতৃভাষা বাংলা যতটুকু লিখুন, শুদ্ধ ও নির্ভুলভাবে লিখুন এবং ব্যাকরণসম্মতভাবে লিখুন। সবাই শুদ্ধভাবে বলতে, লিখতে, শিখতে, শেখাতে থাকলে মাতৃভাষার সঠিক ব্যবহার যেমন সম্ভব হবে তেমনি ভাষার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ আরও বৃদ্ধি পাবে। এভাবেই আমরা আমাদের মাতৃভাষার জন্য প্রাণদানকারী মহান শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধ করতে সম হবো।
