সরালি
আমাদের দেশে যখন অতিথি পাখি আসা শুরু হয়ে, তখন জলের পাখিদের মধ্যে প্রধানত দেখা যায় হাঁসদের। আর হাঁসদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে সরালিদের। গাঢ় তামার ও মিশ্রিত বাদামি রঙের পাখি ওরা। এতটুকুতেই পাখিটাকে চেনা যায়। আরো ভালোভাবে চিনতে হলে একটু কাছেই যেতে হবে তার।
শক্তিশালী বাইনোকুলার চোখ লাগালে দেখা যাবে। ওর পা ও ঠোঁট ধূসর রঙের। নখ কালো, চোখের পাতা চকচকে হলুদ। শিষ দেয়ার মতো আওয়াজ করে ক্রমাগত ওড়াতে থাকে ওরা।
আমাদের দেশে যেসব অতিথি পাখি দেখা যায়, তার পর অনেকে মনে করেন সরালিও বুঝি শীতের দেশের দেশের পাখি। না ওরা আমাদের ভারতবর্ষের নিজস্ব পাখি। বলা যেতে পারে বাংলারই পাখি ওরা। বরং শীত শেষ হওয়ার আগে ওরা চলে যায় উত্তর ভারতের দিকে। আন্দামান নিকোর দ্বীপ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ ভিয়েতনাম, বর্নিও, সুমাত্রা ও জাভায়ও এদের দেখা মেলে। এর বাইরে কোথাও দেখা গেছে এমন তথ্য আমার হাতে নেই। তা হলে কী দাঁড়াল? সরালিকে সবাই অতিথি হিসেবে জানলেও এরা অতিথি নয়। বলা যেতে পারে স্থানীয়ভাবে...। যেখানেই শীত, সেখানেই ওরা থাকে। তবে এশিয়ার বাইরে নয়। এদের ইংরেজি নাম খবংংবৎ যিরংঃষরহম ফঁপশ, বৈজ্ঞানিক নাম উবহফৎড়পুমহধ লধাধহরপধ।
কখনো এক থাকে না সরালি। দু-একটির দলেও নয়। ওরা বেশ বড়সড় দল নিয়ে থাকে। ১০-২০টির দল থেকে শুরু করে শত শত, এমনকি হাজার হাজার সরালির দলও থাকে। আগাছায় পূর্ণ বিল,... এবং জলে ডোবা ধান ক্ষেত ওদের প্রিয় আস্তানা। খোলামেলা নদী, খাল-বিল, ওরা এড়িয়েই চলে। যেখানে ওরা আস্তানা গড়ে তার আশপাশের আকাশ মাতিযে রাখে ওরা। আস্তানাকে কেন্দ্র করে একদল নিচে নেমে আসে তো অন্য দল ফড়ফড় করে উড়ে যায় আকাশে। যেখানে মানুষের আনাগোনা কম কিংবা অন্য কোনো প্রাণী ত্যাক্ত বিরক্ত করে না, এমন জায়গায় দিন কাটায় ওরা। রাতের বেলায় খাবার সংগ্রহ করার জন্য বিলে-ঝিলে চলে যায়। ডুব সাতারেও পটু তারা। হ
জারুল ফুল
পাপড়ির নমনীয় কোমলতায়, দৃষ্টিনন্দন বর্ণচ্ছটা নিয়ে প্রকৃতিকে আরো সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে জারুল ফুল। ফুলটির ইংরেজি নাম : এরধহঃ ঈৎধঢ়ব-সুৎঃষব, বৈজ্ঞানিক নাম : খধমবৎংঃৎড়বসরধ ংঢ়বপরড়ংধ। বৃক্ষজাতীয় জারুল ফুলের আদি নিবাস শ্রীলঙ্কায়। নীলাভ ও গোলাপি দুরঙের জারুল ফুল বাংলাদেশের সর্বত্র চোখে পড়ে। এই পাতাঝরা বৃক্ষ শীতকালে পত্রশূন্য থাকে। বসন্তে গাঢ় নতুন সবুজ পাতা গজায়। জারুলের রং ও রূপ নয়নাভিরাম, ফুলে পাপড়ি ছয়টি, ফুলের মাঝখানে হলুদ রঙের পরাগ রয়েছে। গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়।
গাছের পাতা সবুজ, পুরু ও বেশ বড়। গাছের শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড শক্ত, শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে দণ্ড-বোঁটায় অসংখ্য ফুল ফোটে। বোঁটার নিচ থেকে প্রথম ফুল ফোটা শুরু হয়ে বোঁটার সামনের দিকে ধীরে ধীরে ফুল ফোটে।
গ্রীষ্মের শুরুতেই এর ফুল ফোটে এবং শরৎ পর্যন্ত দেখা যায়। ফুল শেষে গাছে বীজ হয়, বীজ দেখতে গোলাকার ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়। জারুল ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। বাংলাদেশ ভারত ছাড়াও চীন মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে জারুল গাছের দেখা মেলে। নিম্নাঞ্চলের জলাভূমিতেও এটি ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তবে শুকনো এলাকায়ও এদের মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় না। জারুল কাঠ লালচে রঙের, অত্যন্ত শক্ত ও মূল্যবান। ঘরের কড়ি-বড়গা, লাঙল, আসবাবপত্র প্রভৃতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। জারুল গাছের ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। এর বীজ, ছাল ও পাতা ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়াও জ্বর, অনিদ্রা, কাশি ও অজীর্ণতায় জারুল উপকারী। হ
