মেটে হাঁস
স্থানীয়ভাবে পরিযায়ী জলের পাখি মেটে হাঁস। এক সময় সারা দেশে এটা ছিল। নদী জলাশয় কমে আসায় ওদেরও সংখ্যা কমে আসছে। আমাদের দেশের পাতিহাঁসের মতোই মোটামুটি বড়সড় মেটে হাঁস। অনেকেই এই হাঁসকে পহিহাঁসই মনে করে। কমে যাওয়ার পাশাপাশি জলাশয়গুলো বর্জ্যাশয়ে পরিণত হওয়ায় এদের সংখ্যা কমে গেছে। আমাদের দেশে যে জলাশয়গুলো টিকে আছে তাতে এখনও ওদের দেখা যায় ছড়ানো ছিটানো অবস্থায়।
লম্বায় প্রায় ৬০ সেমি পর্যন্ত হয় মেটে হাঁস। এদের ইংরেজি নাম ংঢ়ড়ঃ-নরষষবফ ফঁপশ, বৈজ্ঞানিক নাম অহধং ঢ়ড়বপরষড়ৎযুহপযধ. শরীরের উপরের অংশ ধূসর এবং কিছুটা পাটকিলে। ডানায় আছে কিছু সবুজ পালক। সেই সবুজ পালকের উপরে ও নিচে কয়েকটি সাদা পালকও চোখে পড়ে। ওড়ার সময় সবুজের চেয়ে সাদা অংশটিই বেশি চোখে পড়ে। উজ্জ্বল লাল রঙা পা তার। কালো রঙের ঠোঁটের আগার দিকে হলুদ এবং কপালের দুই পাশে ঠোঁটের গোড়ায় কমলা রঙের ছোপ দিয়ে তাকে আলাদা করে চেনা যায়। পুরো ..পুরুষ পাখিটির। মেয়েটি প্রায় একই রকমের দেখতে হলেও আকারে একটু ছোট এবং গায়ের রঙও একটু ফিকে। ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার নিজস্ব পাখি ওরা। সাধারণত ঘুরে বেড়ায় নলখাগড়ায় পরিপূর্ণ বিল-ঝিল, আগাছায় ওরা অগভীর পুকুরে। তবে মাঝে মধ্যে ছোট ছোট নিরিবিলি নদীতেও এদের দেখা মেলে।
সাধারণত ওরা জোড়ায় জোড়ায় ঘুরে বেড়ায়। তবে কখনও কখনও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ছোট ছোট দলেও থাকে। উড়তে পারে ভালোই। সোজাসুজি ওড়ে। ডুব দিয়ে খাবার সংগ্রহ করা তাদের অভ্যাসে নেই। খাঁচার খোঁজে হাঁটতে পারা জায়গায় এবং জলাশয়, ধানক্ষেতে।
অন্যান্য হাঁস যা খায়, মেটে হাঁসের খাবারের মেন্যুও প্রায় একই রকম। তবে নরম ঘাসপাতা, জলজ আগাছার ডগা, বীজ ও ধান ওদের প্রধান খাবার। জলজ পোকামাকড় ও শূক পেলে মাঝে মাঝে গলাধিকরণ করে।
নানা রকম ঘাসপাতা ও আগাছা দিয়ে বাসা বানায় ওরা। সে বাসা খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর। সেই নিরাপদ বাসায় ৮ থেকে ১২টি ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে বাচ্চা বেরুতেই ২২ থেকে ২৪ দিন লাগে। মা পাখি যতটা যতœবান ডিম বাচ্চার প্রতি, বাবারা ততটা নয়। ওদের নির্দিষ্ট কোনো প্রজনন ঋতু নেই। তবে বছরে দুইবার ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফোটায় তারা। হ
