হৈমন্তী চলে যাবে যাবে, নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে নিচ্ছে। প্রকৃতির মায়া ত্যাগ করে, চলে যাচ্ছে আবার আসবে বলে। বিদায় বিদায় জানিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। হলদে পাখি ডালিম গাছে উঁকি দিচ্ছে খোলা জানালার পাশে ডাকে শিষ দিয়ে। কুয়াশামাখা কাকভোরে ধূসর রঙে শীতকালে।
পূর্বদিকের সূর্যের আলো সরিষা ফুল বাংলার প্রান্তরে। ভোমরা এসে ফুলের পরাগ গায়ে মেখে তার আবছায়া নাচে সরিষা মাঠের ফাঁকে ফাঁকে। সরিষার মাঠে কাকতাড়ুয়া দাঁড়িয়ে আছে একপায়েÑ ফিঙ্গে, বুলবুলি, দোয়েল আরো কত পাখিরা লুকোচুরি খেলা খেলে ঘাসফড়িং খেয়ে। কৃষকে দেখলে লুকিয়ে যায়, সরিষা ফুলের ঝাড়ে। কৃষক বাঁশের হাক বাজিয়ে পাখিদের দৌড়ায় ভয় দেখিয়ে। পাখিরা হুট করে, বেরিয়ে যায়, তার পাশ দিয়ে।
এ দেশে প্রতি বছর পৌষ-মাঘ মাসে বিশ্বের বিভিন্ন হিমায়িত অঞ্চল ত্যাগ করে। নিজের প্রাণ রক্ষা করতে দলবেঁধে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে চলে আসে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে অনেক বাধা পেরিয়ে। আরো দেখা অদেখা অনেক পাখি বেরিয়ে আসে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। বয়ে চলে নদী চলে নিরবধি স্রোতের টানে সূর্যের আলো এলে, বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, আকাশ পানে। এ দেশে বিভিন্ন নদী, জলরাশি, জলপ্রপাত, সমুদ্রের তীরে চলে আসে। সুন্দরবনের হাওড়, বিভিন্ন অঞ্চলে- কুন্তিহাঁস, জিরিয়া হাঁস, নীলশির, লালশির, পাতারি হাঁস, বুনোহাঁস, বামনীয়া, ভুটি হাঁস, সখা হাঁস, বালি হাঁস, বড়-সরালী, ছোট-সরালী, রাজহাঁস, কানি-বক, সাদা-বক, লাল-বক, ধূসর-বক, জলময়ূর, ডুবুরি, ছোট-ডুবুরি, চা-পাখি, সবুজ-পা, লাল-পা, হটটিটি, গঙ্গা পাখি, দললিপি, পানকৌড়ি কচুরিপানা ভেতর নানা রকমের পাখি এ দেশে আসে। এসব পাখির আগমন হয়।
এ দেশের সবুজ শ্যামল পাহাড়ের বনলতা। সন্ধ্যা হলে উড়ে যায়, অতিথি পাখিরা গোধুলি লাল-রঙে আকাশে পাশ দিয়ে ফিরে যায়। বাঁশ-বাগানে, গাছ-বাগানে, পাহাড়ের বটবৃক্ষের নীড়ে অথবা সুন্দরবনের সুন্দরী, গেওয়া, গরান, ম্যানগ্রোভ, বাইন, হিন্তাল গোলপাতা ইত্যাদি। এসব বৃক্ষে তারা রাত কাটিয়ে দেন। সকাল হলে খাদ্যের সন্ধানে ফিরে যায়। দলবেঁধে উড়ে যায়, আমাদের এই বাংলা রূপসী নগরে নগরে।