নকীবের ব্যক্তিগত একটা বিশেষ আয়োজন হচ্ছে একান্ত নিরিবিলি থাকা। উদাস মনে ভাবের জগতে হামাগুড়ি খাওয়া এবং নতুন নতুন ছবি আঁকা। এক স্বচ্ছ বিকেলে নকীব মনের খোরাক মিটাতে পাগলা পথিকের ন্যায় ছুটে বেড়াচ্ছে ঝুম পাহাড়ে!
আর কণ্ঠ খাঁকিয়ে বলছে, ঝুম পাহাড়ে যাচ্ছি জয়ে!
আসলে নকীবকে তার প্রিয় লেখক মনিরা মিতার ‘ঝুম পাহাড়ে যাচ্ছি জয়ে’ বইটি খুব বেশিই ভাবাচ্ছে। তাই এখন সত্যি সত্যিই জয়ের হাতছানি দিতে যাচ্ছে। সেই তার রঙতুলি নিয়ে ভাবতে শুরু করে কিভাবে নকশা করা যায় সবুজের শামিয়ানা। কল্পিত সেই স্বপ্নের ঝুম পাহাড় কিভাবে আঁকা যায়।
স্বর্গের তুল্য এই স্রষ্টার সৃষ্টি বসুন্ধরা এবং পাখিদের কলরব।
হঠাৎ কি যেন মনে হলো শুভ্র একটা কাগজের বারান্দায় রঙিলা রঙ ঘষতে শুরু করে নকীব।
সেই আনমনা ঘষতে ঘষতে একপর্যায়ে একটি পাহাড়িয়ার জীবনযাত্রার চিত্র ফোটে উঠল!
নকীবের আঁকা এমন দৃশ্য দেখে ফিরে গেলাম পাহাড়িয়া জীবনে!
আমার বন্ধু শাহেদ। তার বাড়ি হচ্ছে বান্দরবান পশ্চিমে শেষ সীমান্তে এবং চন্দনাইশের পূর্বের শেষ প্রান্তে। অর্থাৎ একটা ছোট্ট নদীই তাদের স্থান ভাগ করে দিয়েছে। সেখানে বছরে একবার যাওয়া হয় আরো সহপাঠীদের নিয়ে। আসলে সত্যি আমরা বন্ধুরা যখন বিকেল বেলা ঘুরতে বের হই আহ! পাহাড়িদের কত আনন্দ। কত উল্লাস তাদের পথঘাট। এসব দেখে আমারই মন আঁকতে চায় বেশ। কিন্তু আমি তো লেখক শুধু গল্পেই আঁকতে পারি তার সৌন্দর্য। মেষের পাল,
পাহাড়ের বিস্তীর্ণ সবুজ গিরি, মাথার ছাদ স্পর্শ করা মেঘের পাল। নানান জাতের পাখির দল। পাহাড়িয়া শিশুদের বৈচিত্র্য খেলা। রূপময় সুন্দর পাহাড়ি আকাশ। পারি না রঙতুলিতে আঁকতে সেই স্বাদের দৃশ্য।
গল্প সেই কখনো কাক্সিক্ষত রেখায় শেষ নয়। এটা মাত্র বৈকি!
অথচ শিল্পীর তুলিতে ধুমকে দাঁড়ায় কত বৈচিত্র্যময় দৃশ্য।
নদী-নালা, গাছপালা, বন, পশু-পাখি, মানুষ এবং মহামনীষী, কত রকম আমোদে হাসে হাতের কারুকাজে এসব চিত্র।
নকীবও যে একজন দুর্দান্ত শিল্পী তার আঁকাতে বোঝা যায়।
সত্যিই সেই আঁকতে পারছে ঝুম পাহাড়। জয় করে প্রিয়দের ভালোবাসা এবং জল্পিত ওয়াদা।
সবারই এক প্রত্যাশা নকীব একদিন শিল্পীর শীর্ষ স্থানে জায়গা পাবে। তার অঙ্কনই তাকে জায়গা করে দেবে!
মানুষকে যে স্রষ্টা কত ভালোবাসে তা এসব আশ্চর্যময়, বিস্ময়কর প্রতিভা দেখলেই বোঝা যায়।
আল্লাহর কি অশেষ রহমে বারিধারা সৃষ্টিকে মানুষও রঙতোলে।
নকীব এই ভাবতে ভাবতে আরো মুগ্ধ হয় যে আসল শিল্পীই তো তিনি। যিনি এত রূপময় পৃথিবীর সব কিছু এঁকেছেন নিজ হাতে।
এই ছবি আঁকা যেন মনের খোরাক, মনের বিলাসিতা, বেঁচে থাকার এক অট্টহাসি! বেঁচে থাকার এক মুচকি হাসি!
ভালোবেসে ছবি আঁকা, ভালো বলে ভালো থাকা।
