তিনুর বয়স ৯ বছর। সে এবার চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। পড়াশোনায় একটু ডাউন সে। ক্লাসে সবার শেষে। এ জন্য তিনুকে প্রতিদিন নানা রকম কথা শুনতে হয়। কেউ বলে হাবা ছেলে। কেউ বলে বোকার গাড়ি সে বহন করে। আর বিশেষ করে অঙ্ক শিক্ষক তাকে আস্ত গাধা বলে। কোনো দিন তিনু একটা অঙ্ক করে দেখাতে পারেনি। তিনুকে যে যাই বলুক না কেন তিনু কোনো দিন তাদের ওপর রাগ করে না। সে জানে সে এক দিন ক্লাসের সবার আগে থাকবে। তখন সবাই তার বন্ধু হবে। অঙ্ক স্যার আর তাকে গাধা বলবে না। কারণ তিনু এখন থেকে কঠোর অধ্যবসায় করবে। তিনু এখন থেকে রোজ সকালে ওঠে ফজরের সালাত আদায় করে পড়তে বসে। সে অঙ্কে দুর্বল দেখে অঙ্কটাই সবার আগে শেষ করে। প্রতিদিন সকালে পড়া শেষ করে বাড়ির কাজে মাকে সাহায্য করে। ৯টা বাজলে স্কুলে যায়। তিনুর এ রকম পরিবর্তন দেখে মা তো অবাক। তিনুর মা ছেলের এ রকম পরিবর্তন দেখে খুব খুশি হয়। স্কুল থেকে ফিরে তিনু আবার মাকে বাড়ির কাজে সাহায্য করে। তারপর সন্ধ্যাবেলা আবার পড়তে বসে। মন দিয়ে সব বই তিনু পড়ে।
এমনি করে পাঁচ মাস চলে গেল। এবার তিনুর বার্ষিক পরীক্ষা। স্কুল শেষের দিন অঙ্ক স্যার তিনুকে দাঁড় করিয়ে বলল, কিরে গাধা এবার তুই তো পরীক্ষায় ঘোড়ার ডিম পাবি। আর ঘোড়ার সেই ঘোড়ার ডিমটা আমি তোর খাতায় বড় করে দেবো। সাথে সাথে ক্লাসে সবাই হো হো করে হেসে উঠল। সে দিন তিনু একটু মনে কষ্ট পেল। তবুও তিনু কারো কাছে প্রকাশ করল না। দেখতে দেখতে তিনুর সব পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। এবার ফলাফল প্রকাশের পালা। সবাই স্কুলে উপস্থিত। তিনুও উপস্থিত ছিল। এবার স্কুলের প্রধান শিক্ষক এক এক করে সব শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশ করল। শেষে চতুর্থ শ্রেণীর ফলাফল প্রকাশ করা শুরু করলেন। প্রধান শিক্ষক বলল, এবার চতুর্থ শ্রেণীর প্রথম স্থান অধিকার করেছে কিছুক্ষণ তিনি থেমে গেলেন। অঙ্ক স্যার বলল, কী হয়েছে স্যার বলেন। প্রধান শিক্ষক বলল, এবার চতুর্থ শ্রেণীর প্রথম স্থান অধিকার করেছে আমাদের তিনু। সবাই তো অবাক। অঙ্ক স্যার তার চোখে জল আবিষ্কার করল। অঙ্ক স্যার তিনুকে ডেকে কান্না জড়িত কণ্ঠে জড়িয়ে ধরল। সবার সামনে বলল, তুই আমাকে ক্ষমা করে দিস তিনু। তিনু তার চোখে জল আবিষ্কার করল। প্রধান শিক্ষক তিনুকে ডেকে বলল, তিনু তুমি কী করে এই বাজিমাত করে ফেললে সবাইকে একটু বলো? তিনু সবার উদ্দেশে বলল, কোনো কিছু অর্জন করতে হলে কঠোর অধ্যবসায় করতে হয়। আর আমি সেটাই করেছি। যখন আমাকে স্যার গাধা বলত তখন আমি সেটাকে স্যারের গাল হিসেবে নেইনি বরং স্যারের আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছি। আর তোমরা আমাকে যা বলেছো সেগুলো আমি তোমাদের দোয়া হিসেবে নিয়েছি। তোমাদের সবার জন্য আজ আমি এই পর্যন্ত আসতে পেড়েছি। তোমাদের সবার প্রতি আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকব। সেদিন যারাই ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে ছিল সবাইর চোখে সেদিন জল ছিল।
এখন তিনুর অনেক বন্ধু। আর সব থেকে কাছের বন্ধুটি হলো তার অঙ্ক স্যার...। হ
