আহমাদের ইচ্ছে টিয়া পাখি পালবে। টিয়া পাখিটা মানুষের মতো কথা বলবে,সবসময় সঙ্গে সঙ্গেই থাকবে। ঠিক যেন মীনা কার্টুনের টিয়া পাখিটার মতো। আহমাদ খুব চিন্তিত,টিয়া পাখি পাবে কোথায়? তার বয়সও তেমন বেশি না, দশ-এগারো বছর হবে।
আহমাদ টিয়া পাখি ধরার সন্ধান পেল। পাশের গ্রামের বাড়ির দিকে একটি বিরাট উঁচু প্রাচীন মঠ আছে।
সেই মঠে ছোট ছোট গর্ত আছে, সেই গর্তগুলোতে থাকে টিয়া পাখি। কিছু কিছু গর্তে সাপও থাকে।
আহমাদ বন্ধুদের নিয়ে মঠের দিকে যায়। কিন্তু এই মঠের উপরে উঠাও সম্ভব নয়। তাহলে টিয়া পাখি ধরবে কী করে? তার বন্ধুরা মঠ
‘গর্তে হাত দিলে সাপে কামড়ও মারতে পারে। ক’দিন আগে একলোক উপর থেকে পড়ে
হাত,পা ভেঙে গেছে।’এই বলে একজন
ভদ্রলোক সতর্ক করে দেন
এবং তারা বাড়ির দিকে চলে আসে।
আহমাদের মন খারাপ। তাহলে কি টিয়া পাখি পালা হবে না?
আহমাদ টিয়া পাখি ধরার হাল ছাড়ে না।
সে একদিন একা একাই মঠের দিকে যায়। বিসমিল্লাহ্ বলে উঠতে থাকে। ভদ্রলোকটিকে দেখে আহমাদ নিচে নেমে লুকিয়ে রইল। ভদ্রলোকটি যাওয়ার পর আবার সে উঠতে থাকে। বেশি উঁচুতে উঠতে পারল না। হাতের সামনে যে গর্তগুলো আছে,
সেই গর্তগুলোর দিকে ভয়ে ভয়ে উঁকি মেরে দেখতে থাকে। যদি সাপ থাকে,কামড় তো মারবেই। ক’টি ডিম দেখতে পেল, ডিমগুলো হয়ত টিয়া পাখির। এর একটু উঁচুতেই এক গর্তে বড় একটি টিয়া পাখি ঢুকতে দেখতে পায়। সে আরও একটু উঁচুতে উঠতে থাকে। উপরে উঠতে উঠতে টিয়া পাখিটা গর্ত থেকে বাইরে চলে আসে। তারপর অপর একটি গর্তে সাপ দেখতে পেল। হাত, পা কাঁপতে থাকে। এই সময় ঐ ভদ্রলোকটি দেখে, তাকে ধমক দিয়ে নামালেন এবং এই দিকে আসতে না বললেন। তারপর সে
বাড়িতে চলে আসে।
আহমাদ রাত্রে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখে যে, মঠের উপরে ওঠে টিয়া পাখি ধরে নিয়ে এসে, যত্ন করে লালন-পালন করতে থাকে এবং ভাষা শিখাচ্ছে। মীনা কার্টুনের টিয়া পাখিটার মতো কথা শিখেও ফেলছে। সঙ্গে সঙ্গেই টিয়া পাখিটা থাকে।
আহমাদের সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি, মঠের দিকে যেতে দেরি হলো না। কত টিয়া পাখি ওড়াউড়ি করছে, তা দেখে অবাক!
টিয়া পাখির ধরার কৌশলটা খুঁজে পাচ্ছে না। টিয়া পাখির দিকে ঢিল মারতে থাকে, টিয়া পাখির দিকে ঢিল লাগছে না। একটি ঢিল ঐ ভদ্রলোকের মাথায় গিয়ে লাগলে ভদ্রলোকটি ক্ষ্যাপে যায়।
আহমাদ একপাশে লুকিয়ে থাকল।
ভদ্রলোকটি বললেন, ‘ঢিলটি কে মারলো রে?’ তিনি কাউকে খুঁজে পাচ্ছেন না।
এর ক’কদিন পর বিকেল দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখা যাচ্ছে, ঝড়-তুফান আসবে।
আহমাদ ভাবে হয়ত ঝড়-তুফানে টিয়া পাখি উপর থেকে নিচে পড়তে পারে। মঠের দিকে গেল। গতিবেগে বাতাস আসছে। মঠের উপর থেকে টিয়া পাখির ক’টি বাচ্চা মাটিতে পড়ে, বাচ্চাগুলো নিয়ে চলে আসে। এই বাচ্চাগুলো পালতে থাকে। বাচ্চাগুলোর জন্য সুন্দর খাঁচাও আছে। টিয়া পাখির বাচ্চাগুলো বেশ বড় হয়েছে। মানুষের মতো কিছু কথাও শিখেছে।
একসময় রাত্রে কে যেন টিয়া পাখিগুলো
চুরি করে নিয়ে যায়; আহমাদ কাঁদতে থাকে।
তার মা-বাবায় সান্ত্বনা দিতে লাগলেন এবং আশা দিলেন ঠিকমতো পড়াশোনা করলে-
মেলা হলে, সেখান থেকে টিয়া পাখি কিনে এনে দিবেন।
আহমাদের ইচ্ছে টিয়া পাখি পালবে। টিয়া পাখিটা মানুষের মতো কথা বলবে,সবসময় সঙ্গে সঙ্গেই থাকবে। ঠিক যেন মীনা কার্টুনের টিয়া পাখিটার মতো। আহমাদ খুব চিন্তিত,টিয়া পাখি...
