বাংলাদেশের বুকে অনেকটা জায়গাজুড়ে রয়েছে বিল। বিল হচ্ছে বৃহৎ আকৃতির জলাধার। সাধারণত এটা অগভীর। তবে বড় বিলগুলো গভীর হয়। সারা বছর কম বেশি পানি থাকে। কিন্তু ছোট বিলগুলোর অধিকাংশই শীতকালে শুকনো থাকে। বর্ষাকালে জলে টইটম্বুর। টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার অলোয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত নিকলা বিল ছোট্ট একটি বিল। বিলটি আকারে অন্যান্য বিলের মতো বড় না হলেও নান্দনিক দিক থেকে অনেকটাই মনোমুগ্ধকর। ছোট্ট বিলটির আয়তন প্রায় ২৭.৭৬ একর ও গভীরতা প্রায় ১৬ মিটার। বিলের পশ্চিম পাড় ঘেঁষে বিল নিকলা, দক্ষিণে খোলা মাঠ ফসলের জমি যা বর্ষাকালে বিলের সঙ্গে একাকার হয়ে যায়।
অথৈ জলে অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে। পূর্ব ও উত্তরে পাকা রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে দৃষ্টিনন্দিত গাছ। যার সুশীতল ছায়া নিমিষেই পথিকের ক্লান্তি দূর করে। হৃদয়ে আনে প্রশান্তি। এই রাস্তা থেকে ভূঞাপুর শহরের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। এছাড়া রাজধানী শহর থেকে ভূঞাপুর সড়কপথের দূরত্ব প্রায় ১২৩ কিলোমিটার। শুকনো মৌসুমে বিলের বুক ভরা কান্না থাকলেও বর্ষাকালে থাকে অথৈ জল। তখন এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামের প্রধান যান হয়ে ওঠে ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ও কলাগাছের ভেলা। বর্ষার পড়ন্ত বিকেলবেলা যেন অপার সৌন্দর্যের মেলা বসে। শহর থেকে ছুটে আসে ভ্রমণপিপাসুরা। কিছুক্ষণের জন্য হলেও হারিয়ে যায় ফুটন্ত শাপলা ফুলের অরণ্যে। শহুরে মানুষের কাছে শাপলার প্রতি বাড়তি আকর্ষণ রয়েছে। কেউ কেউ ফেরার পথে দুই হাত ভরে নিয়ে যায় বিলের ফুটন্ত শাপলা। বিশেষ করে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সাঁতার কেটেও শাপলা তোলে। সাঁতার কেটে শাপলা তোলার মজাই আলাদা। নি¤œবিত্ত পরিবারের অনেকেই শাপলা ও শালুক শহরের হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এছাড়া ঢ্যাপের বিচির খইও বেশ মজার। ঢ্যাপের বিচির দানা ছোট হওয়ায়; খই তুলতুলে হয়। একবার ঢ্যাপের খই খেলে নিশ্চই আবার খাওয়ার ইচ্ছে জাগবে। এককথায় এ বিলের শাপলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যা শুধু অর্থের জোগান দিচ্ছে না, খাদ্যেরও যোগান দিচ্ছে। এই ছোট্ট বিলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ১৫০-২০০টি পরিবার। যাদের একমাত্র জীবিকার উৎস হলো মাছ ধরা। মাছ ধরেই এরা জীবিকা নির্বাহ করছে। এ বিলে পাওয়া যায় বোয়াল, রুই, মাগুর, শিং, কৈ, পুঁটি, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন জাতের দেশী মাছ। এ মাছগুলো খুবই সুস্বাদু। ফলে ফরমালিনমুক্ত এ মাছের চাহিদা শহরে অনেক বেশি। প্রতিবছর প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায়ই প্রজনন হয় বিভিন্ন জাতের দেশী মাছ। তবে দিন দিন বিলে পলি জমে গভীরতা কমে যাওয়ায় বিলের পাড় ঘেঁষে বোরো ধানও চাষ হচ্ছে। এছাড়া শীতকালে অল্প পানি থাকায় অতিথি পাখির আগমনে সরগরম থাকে বিলটি। বিল হয়ে ওঠে পাখির অভয়ারণ্য। অর্থাৎ এ বিলটি একেক সময় একেক রূপে সজ্জিত হয়। তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলতে পারি একবার এ বিলটি দেখলে যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মনে দাগ কেটে যাবে। নিমিষেই মনটা ফুরফুরে হয়ে উঠবে।
