বন্ধুরা, তোমরা তো বই পড়তে ভালোবাসো। আর তা যদি হয় কিশোর কবিতার বই তা হলে তো মজাটাই আলাদা! আজ তোমাদের এমনই একটি মজার কিশোর কবিতার বইয়ের সংবাদ জানাবো। পাশাপাশি বইটি কেন মজার কিংবা কেন তোমরা পড়বে সে নিয়েও সংক্ষেপে আলোচনা করব।
বইয়ের নাম ‘মেঘলা দিনের মিষ্টি আকাশ’। বইটি লিখেছেন তোমাদের প্রিয় লেখক, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক গিয়াস উদ্দিন রূপম। সবচেয়ে মজার বিষয় হলোÑ বইটির সব কবিতাই বর্ষা নিয়ে। বর্ষা নিয়ে এমন ব্যতিক্রমী বই আর একটিও নেই। কবি এ বইটিতে বর্ষাকে বিচিত্রভাবে উপস্থাপন করেছেন। একেকটি কবিতা একেক স্বাদ ও বর্ণের। পড়তে গেলে কোনো বিরক্তিভাব আসবে না। প্রথম কবিতাটি এভাবে শুরু হয়েছেÑ
‘বিষ্টি ভেজা গাঁ
কোলাব্যাঙের ছাÑ
ডাকছে ঘ্যাঙর-ঘ্যাং
চলতে পথে পিছলে কারো
ভাঙছে জোড়া ঠ্যাং।’
কবি তার প্রতিটি কবিতায় গ্রাম বাংলার বর্ষার বর্ণনা দিয়েছেন। বর্ষায় প্রকৃতি ফিরে পায় নতুন সুখের উচ্ছ্বাস। রূপবৈচিত্র্যে অনন্য হয়ে ওঠে বর্ষার রূপ। কবি তাই লিখেছেনÑ
‘ডানাকাটা মেঘ/বাতাসের বেগ/বিজলির আলো/এই চমকালো।’
বৃষ্টির দিনগুলো খোকা-খুকুর মনে যেমন আনন্দ এনে দেয় তেমনি প্রকৃতির বুকেও দিয়ে যায় প্রশান্তির দোলা। যেমনÑ
‘কদমকুঁড়ি/পাপড়ি ফুঁড়ি/দেয় ভরিয়ে গন্ধে।/ইলশেগুঁড়ি
জলের নুড়ি/ঝরছে মহানন্দে।’
বৃষ্টি কখন পড়ে, কোথায় পড়ে তোমরা তা নিশ্চয়ই জানো। কবি ছন্দের তালে তালে তোমাদের তা মনে করিয়ে দিবেন। এভাবেÑ
‘বিষ্টি পড়ে দিষ্টিকাড়া
বউটুবানি ঘাসে
বিষ্টি পড়ে সিষ্টিসুখের
আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে।’
বৃষ্টি প্রকৃতির মাঝে শুধু আনন্দই বয়ে আনে না। সাথে কিছু কষ্টও নিয়ে আসে। পুকুর-নদী, খাল-বিল পানিতে থই থই করে। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। গরিব দুঃখীর মাটির বাড়িঘর ভিজে একাকার হয়ে যায়। তাই কবি তাদের সাথে দুঃখ করে বললেনÑ
‘সাঁই সাঁই সাঁই বানের জল
ডুবছে চাষির মাঠ-ফসল।
ভাঙছে পুকুর-নদীর বাঁধ
গর্ত যেন মরণ-ফাঁদ।
বিষ্টি আনে কষ্ট ঢের
গরিব-দুঃখী পাচ্ছে টের।’
ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২০টি কবিতার এক অনন্য আয়োজন ‘মেঘলা দিনের মিষ্টি আকাশ’। শুধু ভালো কবিতাই নয়, বইটিতে রয়েছে মজার সব অলঙ্করণ। কবিতার পাশাপাশি সুন্দর সব অলঙ্করণ বইটিকে আরো ভালো লাগার উচ্চ আসনে আসীন করেছে। তোমরা বইটি সংগ্রহ করে পড়তে পারো। আশা করি তোমাদের খুবই ভালো লাগবে।
বইটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. এবং প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ করেছেন মীর শামীমুজ্জামান
