মিষ্টি মেয়ে নাফসি। শহরে তার বসবাস। নাফসি খাতায় যেমন পাখি আঁকতে পছন্দ করে তেমনি পাখিকে খুব ভালোবাসে। একদিন বাবা নাফসির জন্য পাখি নিয়ে এলো। নাফসি পাখি পেয়ে খুব খুশি। পাখির নাম রেখেছে তার নামের প্রথম অক্ষরের সাথে মিল রেখে নামি। করোনাকালে স্কুল বন্ধ থাকায় নাফসির অবসর সময় কেটেছে পাখিটার সাথে। বেলকনিতে একটা জায়গায় পাখিটাকে খাঁচায় বন্দী করে রেখেছে। খাঁচার ভেতর পাখিটার জন্য একটা পানির বাটি আরেকটা খাবার বাটি রেখে দিয়েছে। পাখিটা এখন নাফসির পরিবারের একজন সদস্য। মা বাবাও পাখিটাকে খুব আদর করে। পাখিটাকে নতুন নতুন কথা শেখায়।
বাসায় নতুন মেহমান এলে সালাম দেয় এবং বসতে বলে। পাখিটার মিষ্টি কণ্ঠে নাফসির প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
একদিন পাখিটা খুব চুপচাপ বসে আছে। কোনো কথা বলছে না। নাফসি বলল কি হলো নামি কথা বলছ না যে? শরীর খারাপ নাকি তোমার? পাখিটা কোনো কথায় সাড়া দিচ্ছে না। নাফসি বলল বাহির থেকে ঘুরে আসবা? পাখিটা হ্যাঁ বলার মতো একটা আওয়াজ দিলো। নাফসি ভাবতে লাগল যদি ছেড়ে দেয় আর যদি ফিরে না আসে। নাফসির মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে। অবশেষে ছেড়ে দিলো। ছেড়ে দেয়ার সময় বলল দ্রুত বাসায় ফিরবে মনে থাকে যেন। ঘণ্টা দুয়েক হলো পাখিটার কোনো খোঁজ নেই।
একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল । ছাদে গিয়ে খুঁজতে লাগল কোথাও দেখা যাচ্ছে না। নাফসি মুখটা ভার করে ঘরে চলে এলো। কিছুক্ষণ পরই পাখিটা চলে এলো। চলে এসে নাফসি নাফসি বলে ডাকতে লাগল।
নাফসি পাখিটাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগল আর বলল নামি কোথায় গিয়েছিলে আমাকে একা রেখে?
পাখিটা ফিরে আশায় নাফসি খুব খুশি।
পাখিটাকে আবার খাঁচায় বন্দী করে দিলো। এভাবেই পাখির সাথে করোনাকালীন স্কুল বন্ধের সময়টা কেটে গেল নাফসির।
এ দিকে অনেক দিন পর স্কুল খোলার আভাস পাওয়া গেল। নাফসি খবরটা শুনে খুব আনন্দিত। অনেক দিন পর সহপাঠীদের সাথে সাক্ষাৎ হবে।
১২ তারিখ স্কুল খোলা। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে স্কুলের হালকা নাশতা সেরে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি। স্কুলে যাওয়ার সময় পাখিটা কে টাটা বলে চলে গেল। অনেক দিন পর স্কুলে গিয়ে নাফসি অনেক খুশি। প্রাণ খুলে দীর্ঘশ্বাস নিচ্ছে। বাসায় ফিরে পাখিটাকে স্কুলের গল্প বলতে লাগল।
হঠাৎ মাথায় এলো এত দিন ঘরে বন্দী থাকার পর স্কুলে গিয়ে এত আনন্দ পেলাম। পাখির তো খাঁচায় বন্দী অনেক কষ্ট হয় পাখি ইচ্ছেমতো উড়তে পারে না। ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারে না। পাখিরও তো বন্ধু বান্ধবী আছে নিশ্চয় । পাখিটাকে ছেড়ে দেবো খোলা আকাশে। আর খাঁচায় বন্দী করে রাখবো না। যদি ছেড়ে চলে যায় যাক। তবুও পাখিকে আর কষ্ট দেবো না।
নাফসি পাখিকে বলতে লাগল তোমাকে যদি খোলা আকাশে ছেড়ে দেই তবে ফিরে আসবে তো? পাখিটি মুক্ত আকাশে উড়ে ঘোরে। আবার ফেরে নীড়ে। এভাবেই কাটে নাফসি ও পাখির দিন।
মিষ্টি মেয়ে নাফসি। শহরে তার বসবাস। নাফসি খাতায় যেমন পাখি আঁকতে পছন্দ করে তেমনি পাখিকে খুব ভালোবাসে। একদিন বাবা নাফসির জন্য পাখি নিয়ে এলো। নাফসি...
