ডাকটিকিট সংগ্রহ করা একটি আনন্দের বিষয়। বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশ পায় এসব ডাকটিকিট। ২০১৯ এর ২ জানুয়ারি তারিখে এ বছরের প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক শওকত ওসমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে। এতে কথা সাহিত্যিককে দেখানো হয়েছে। দাম ১০ টাকা। নকশাকার ছিলেন সঞ্জীবকান্তি দাস। এটা বেশ মনোরম। ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে যে স্মারক ডাকটিকিট বের হয় সেটা ছিল শেখ মুজিব বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হওয়ার সুবর্ণজয়ন্তী। প্রতিটির দাম ছিল ১০ টাকা। প্রথমটিতে শেখ মুজিবকে ও দ্বিতীয়টিতে জনতার মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখানো হয়েছে। ডাকটিকিটের নকশাকার ছিলেন সঞ্জীবকান্তি দাস। ১৭ মার্চ ২০১৯-এ প্রকাশিত হয় শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট। ডাকটিকিটের ছবিতে শেখ মুজিবকে দেখানো হয়েছে। দাম ১০ টাকা। নকশাকার সঞ্জীবকান্তি দাস। এরপর ২৬ মার্চ প্রকাশিত হলো ১০ টাকা মূল্যমানের ডাকটিকিটে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। তার মাঝে বাংলাদেশ ও শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখানো হয়েছে। ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভারের নকশাকার সুধাংশুশেখর ভদ্র।
এরপর শুভ নববর্ষ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয় ১৪ এপ্রিল। ডাকটিকিটে মুখোশ ও বিভিন্ন ধরনের খেলনা দেখানো হয়েছে। ডাকটিকিটটি বেশ মনোরম। রঙের ব্যবহারও চমৎকার। এটির দাম ১০ টাকা। ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভারের নকশাকার সঞ্জীবকান্তি দাস।
১৭ এপ্রিল প্রকাশিত হলো ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট। ডাকটিকিটে মুজিবনগরের ছবি দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলার সময় মুজিবনগর ছিল বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী। ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভারের নকশাকার সুধাংশশেখর ভদ্র, পয়লা মেতে প্রকাশিত হলো মে দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ খাম ও একটি সিল। দাম ছিল ১০ টাকা। ১৭ মে প্রকাশিত হলো ১০টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট। উপলক্ষ ছিল বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সঙ্ঘ দিবস। এটি বেশ চমৎকার ডাকটিকিট।
১৯ মে প্রকাশিত হলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিট। ছবিতে স্যাটেলাইট-১ ও শেখ মুজিবকে দেখানো হয়েছে। ডাকটিকিট ও ফার্স্ট ডে কভারের নকশাকার সঞ্জীবকান্তি দাস। এটি বেশ চমৎকার ডাকটিকিট। ৩ মে ২০১৯-এ প্রকাশিত হলো দু’টি স্মারক ডাকটিকিট এক সাথে সি-টেনান্ট পদ্ধতিতে। প্রথমটিতে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশের একজন ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়ে আছেন ও বিশ্বকাপের ছবি। অন্যটিতে আছে বাংলাদেশের একজন বোলার উইকেট পাওয়ার পর অন্যান্য খেলোয়াড়রা আনন্দ প্রকাশ করছে। দু’টি স্মারক ডাকটিকিটের দাম ২০ টাকা (প্রতিটি ১০ টাকা)। এ উপলক্ষে যে ফার্স্ট ডে কভার প্রকাশিত হয়েছে তাতে বিশ্বকাপ ও একটি ক্রিকেট বলের ছবি। এটি বেশ মনোরম ডাকটিকিট।এর নকশাকার স্বনামধন্য আনোয়ার হোসেন। এ উপলক্ষে এ বছরের একমাত্র স্যুভেনির সিট প্রকাশিত হয়েছে, যার দাম ৪০ টাকা। এবারে বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। এই মহাসমারোহ চলে দেড় মাসব্যাপী। ডাকটিকিট ও স্যুভেনির সিট বেশ চমৎকার।
তোমরা হয়তো ভাবছ ডাকটিকিট জমিয়ে লাভ কি। এ ব্যাপারে জানাই বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ময়নামতির ওপর ২৫টি ডাকটিকিটের একটি সিট। এতে ময়নামতির নিদর্শনে দেখানো হয়েছে সে সময়ের বিভিন্ন তৈজসপত্র, ময়নামতির ছবি, দু’টি সে সময়ের মুদ্রা ও একটা পাথরের খোদাই করা মূর্তি। এটি প্রকাশিত হয় ২৬ নভেম্বর ১৯৯১ সালে। তোমরা হয়তো অবাক হয়ে যাবে এই সিটের বর্তমান দাম চার হাজার টাকা। ডাকটিকিটসমূহের নকশাকার বিশিষ্ট নকশাকার মাহবুব আকন্দ।
১৫ আগস্ট প্রকাশিত হলো জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে একটি ১০ টাকা দামের স্মারক ডাকটিকিট। ডাকটিকিটে দেখানো হয়েছে শেখ মুজিবকে। ফার্স্ট ডে কভারে শেখ মুজিব, ফাজিলাতুন্নেছা মুজিব ও তাদের পরিবারের অন্যরা। ডাকটিকিটের নকশাকার ছিলেন জসীম উদ্দিন। ২৯ জুলাই ১৯ একটি ফার্স্ট ডে কভার। নকশাকার শাকিল হক। ৯ অক্টোবর ১৯-এ বিশ্ব ডাকদিবস ও ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের ১৪৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট। যার নকশাকার সঞ্জীবকান্তি দাস। ৯ অক্টোবর ১৯-এ বিশ্ব ডাকটিকিট। সেদিনই উচিত ছিল এর প্রকাশ। কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় ২২ অক্টোবর। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত হলো বাংলাদেশের প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো: হানিফ উদ্দিন (১৯২৯-২০০৭) একটি স্মারক ডাকটিকিট। ছবিতে মো: হানিফ উদ্দিন মিয়াকে দেখানো হয়েছে। নকশাকার ছিলেন সঞ্জীবকান্তি দাস। বছরের শেষ স্মারক ডাকটিকিট বের হয় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট। দাম ১০ টাকা। নকশাকার সঞ্জীবকান্তি দাস। এ বছর প্রকাশিত হয় মোট ১৫টি স্মারক ডাকটিকিট, একটি স্যুভেনির সিট ও দু’টি বিশেষ খাম।
ডাকটিকিট সংগ্রহ করা একটি আনন্দের বিষয়। বিভিন্ন উপলক্ষে প্রকাশ পায় এসব ডাকটিকিট। ২০১৯ এর ২ জানুয়ারি তারিখে এ বছরের প্রথম স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়। বিশিষ্ট...
