তোমরা সবাই কম বেশি জোনাকি পোকা চেনো। তোমরা কেউ কি জোনাকি পোকাদের আলো রহস্য সম্পর্কে জানো? চলো আজ আমরা জোনাকি পোকার আলো রহস্য সম্পর্কে জানব!
ল্যামপিরিডি পতঙ্গ পরিবারের একটি গুবরে পোকা বর্গ হলো কলিওপ্টেরা। বাংলায় এর নাম তমোমণি। এরা মূলত পাখাওয়ালা গুবরে পোকা যাদেরকে সাধারণভাবে জোনাকি পোকা বলা হয়। কারণ তারা জৈব রাসায়নিক ব্যবস্থায় নিজের শরীর থেকে আলো উৎপন্ন করে। এরা এই আলো শিকারের উদ্দেশ্যে জ্বেলে থাকে। এরা কোল্ড লাইট বা নীলাভ আলো উৎপন্ন করে কোনো আল্ট্রাভায়োলেট বা ইনফ্রারেড তরঙ্গ ছাড়া। এই আলোর রং হলুদ, সবুজ বা ফিকে লাল হতে পারে। আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য হলো ৫১০ থেকে ৬৭০ ন্যানোমিটার। পূর্ব আমেরিকার ধীরে ধীরে জ্বলজ্বলে নীল ভূত এর মতো কিছু প্রজাতি নীল আলো (৪৯০ ন্যানোমিটার) নির্গমন করতে পারে বলে মনে করা হয়, যদিও এটি পারকিনেজে প্রভাবের কারণে তাদের সত্যিকারের সবুজ নিঃসরণ আলো সম্পর্কে একটি মিথ্যা ধারণা রয়েছে। প্রায় ২০০০ জোনাকির প্রজাতি পাওয়া গেছে গ্রীষ্ম এবং নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলের এলাকায়। অনেকেই ভেজা, কাঠ আছে এমন এলাকা বা ডোবা জাতীয় এলাকায় থাকে যেখানে তাদের লার্ভা বেঁচে থাকার অনেক খাদ্য পায়। তাদের ছানা বা কীটগুলো থেকেও আলো নির্গত হয় এদের গ্লোওয়ার্ম বলা হয়। আমেরিকায় এই গ্লোওয়ার্মকে চযবহমড়ফরফধব বলা হয়। অনেক প্রজাতিতেই নারী-পুরুষ উভয় পতঙ্গ উড়তে পারে, কিন্তু কিছু প্রজাতির স্ত্রীরা উড়তে অক্ষম।
জোনাকি এক প্রকারের পতঙ্গ। এ পতঙ্গের তলপেটে স্বয়ংপ্রভ নীলাভ-সবুজ দ্যুতি থাকে। রাতের অন্ধকারে এদের তারার মতো মিটমিট করতে দেখা যায়। এরা সমবেতভাবে এক ছন্দে মিটমিট করতে পারে। এই দ্যুতি আসে লুসিফারিন অক্সিজেনের এটিপির সংমিশ্রণে লুসিফারেজ দ্বারা অনুঘটিত জারণ থেকে। পৃথিবীতে লাল ও সবুজ আলোর জোনাকি পোকা দেখা যায়। রাতের আঁধারে জোনাকির আলো আনন্দময় খুব। সুযোগ পেলে দেখে নিও তোমরা।