আমরা আধুনিক। সত্যিই কতটা আধুনিক হতে পেরেছি? সময়ের স্রোতে ভেসে থেকে জীবনের পাঠ কতটা রপ্ত করছি। প্রতিদিন নিয়মমতো ভোর আসে প্রকৃতির সজীবতা নিয়ে। আনন্দময় জীবনের সংবাদ দিতে। হ্যাঁ, আনন্দই; কারণ জীবন সুন্দর। সুন্দর বলেই বেঁচে থাকতে মন ইচ্ছে প্রকাশ করে। প্রকৃতির এক অনিন্দ্য সৃষ্টি ফুল। যা কিছুই সৃষ্টি সবই প্রয়োজনে আয়োজনে মিশে আছে সময়ের সাথে। সেই অনিন্দ্যসুন্দর ফুলেও কাঁটা আছে। কাঁটা আছে বলেই ফুল আরো আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তেমনি জীবনের পাঠ। সুখ যেখানে আছে দুঃখ তার সাথী হয়ে সঙ্গী হয়েই থাকে। তাই বলে কি জীবন থেমে যায়? যায় না। কেননা গতিই জীবন। শুধু আনন্দ নিতে জানতে হয়। নতুন করে ভাবতে শিখতে হয়। চিন্তারাজ্যে গতকালকে মনের একটি কোণে রেখে স্বপ্ন সাজাতে হয়। বেঁচে থাকার মতো আনন্দ কি আর কিছুতেই পাওয়া সম্ভব? এসবই ভাবনায় সৃষ্টি হয় নতুন অনুভব। নদী যেমন কূল খুঁজে ফিরে তেমনি জীবনও জীবনকে তালাশ করে।
পৃথিবীরই একটি অংশ আমি-আমরা। প্রশ্ন উঠে মনে আমরা কোথায় বাস করি? এটি মনে হতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে একটি ঘরের ছবি। শুধুই কি একটি ঘর আমাদের বেঁচে থাকার স্থান? এভাবে ভাবতে গেলেই একটা সমাজ এসে যায়। যেখানে সমাজেরই একটা পাঠ হয়ে উঠি আমরা। এসবের মধ্যেই মনে হয় আমরা কতটা আধুনিক জীবনে অভ্যস্ত। আমাদের আধুনিক জীবনের রসদ কতটা উপকারী। কিন্তু পরিকল্পিত একটা সমাজের কল্পনা প্রতিটি মানুষের অন্তরের আঁশ। ছেলেমেয়েদের উজ্জ্বল উচ্ছ্বাসময় জীবনচিত্রের ছবি প্রতিটি মানুষের আত্মার চাহাত। যখনই কোনো বাধা বা অনিয়ম চোখে পড়ে মনটা নিমিষেই ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। কেঁদে ওঠে মন। ভীষণ খরায় খুঁজের চেষ্টা থাকে উপায়ের। সব কিছুর পরও বেঁেচ থাকা আনন্দের। যেখানে থাকি বা যে অবস্থায় ভালো-মন্দ জীবনের অংশ হয়ে পাশে থাকে। জীবনকে এগিয়ে দেয় জীবনেরই প্রয়োজনে।
আজকের পৃথিবী দেখছি। অবাক চোখে দেখছি কেমন করে বদলে যায় তার রূপরেখা। প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদেরকে আজ উচ্চতার শিখরে নিয়ে এসেছে। অসাধ্য সাধনের চেষ্টা আজ অনেকেরই মনে। কিন্তু কখনো কি গভীরতায় ভেবেছি আধুনিকতাকে কিভাবে গ্রহণ করছি। গ্রাম থেকে শহরের প্রতিটি কোনায় আধুনিকতা স্পর্শ করেছে। ছোট্ট শিশুদের দেখছি। দেখছি কিশোরবেলার চিত্রও। আধুনিকতার মোড়কে বিশ্বাসটি আজ টলমলে। জন্ম নিয়েই পরিচয় হচ্ছে প্রযুক্তির সাথে। হেসেখেলে বড় হওয়ার বাগানে শুধুই প্রযুক্তির ব্যবহার। সত্যিই শিশুদের বিকাশে তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বা সময়ের ব্যবহারে কতটা উপকারী চিন্তার বিষয়। শিশু বেড়ে ওঠার সময় থেকে পরিণত মানুষ হতে প্রয়োজন সুন্দর পরিশীলিত পরিকল্পনাময় জীবন। নিজের মতো প্রকাশের পাশাপাশি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা হবে প্রশংসার্হ।
আধুনিক আমরা তাই আমাদের সংস্কৃতিকে ভিন্ন ধারায় দেখতে চাই। যেখানে সময়ের সাথে প্রতিযোগিতায় নিজেকে ধরে রাখতে পোশাক থেকে সর্বত্র আনতে হবে পরিবর্তন। মানুষের সাথে মানুষের আজ নতুন পরিচয়। নতুন আদান-প্রদান। আধুনিক হওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা। কিন্তু খুব কষ্টের হয়ে ওঠে তখনই, যখন দেখা যায় নৈতিক মানদণ্ডে সমাজের মূল উদ্দেশ্য আজ বাধাগ্রস্ত। ক্রমেই এক নিষ্ঠুর সময় আমাদের জন্য অপেক্ষমাণ। মানবিকতা, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, দয়া, মমতাÑ এসব শব্দ আজ শুধুই শব্দের প্রবঞ্চনা। এসব বিষয়ই একমাত্র আধুনিক জীবনধারায় প্রভাব ফেলতে পারে; অথচ অবাক বিস্ময়ের হলো অনৈতিকতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, স্বার্থপরতা, জিঘাংসা, হিংসা, বিদ্বেষ এ-জাতীয় সব নেতিবাচক দিকগুলো সুন্দরকে ধ্বংসের লীলায় মেতে উঠেছে। অনাবিল আনন্দের রূপরেখাকে আধুনিকতার নামে অনাধুনিক বা আনন্দহীন জীবনে ঠেলে দিচ্ছে।
আধুনিকতার মোড়কে সামাজিক অবক্ষয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একটি পরিবারের দিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার বহর। সময়মতো বাসা থেকে বের হলে সময়ের মধ্যে ঘরে ফেরা। বন্ধুদের সাথে খেলতে গেলে সঠিক সঙ্গ পাচ্ছে কি না, এমন ভাবনা। কয়েকটি শিশু একসাথে খেলতে দেখলেও আনন্দময়তার মধ্যেও কষ্ট অন্যায় কিছু শিখছে কি না। এর কারণ কী? কারণ প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার থেকে দূরে সরে তা নেশায় পরিণত হওয়া। ফলে উপযুক্ত সময় আসার আগেই একটি শিশু পরিণত অনেক বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছে। এবং ধীরে ধীরে তা অপরাধের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমনই চিত্র এখন অনেক পরিবারে। ফলে দুশ্চিন্তা এখন রোজদিনের ঘটনাপ্রবাহ। এমন দুশ্চিন্তার চিত্র ছোট থেকে বড় সবার মধ্যেই। সব বয়সই আজ প্রযুক্তির এ আকর্ষণে নিমজ্জিত।
সংবাদপত্র থেকে মিডিয়া সর্বত্রই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ছবি। শিশু থেকে বয়স্ক কেউই বাদ নেই এ সংবাদ থেকে। সৃষ্টির এত এত সৌন্দর্যের মধ্যে থেকেও আজ আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ছি। জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলছি। ভালোবাসা-সম্প্রীতি দুরুহ হয়ে উঠছে। এসবই আজ বড্ড বেশি বেদনার। কষ্টের। হাহাকারের। সূর্যের আলোর রশ্মি যেমন প্রতিদিন আলোকিত করে পৃথিবী তেমনি প্রয়োজন সঠিক উপলব্ধির। সুন্দরকে জয় করার ইচ্ছা আজ এতটাই দুর্বল যেন আধুনিক হয়েও আমরা পরাধীনতার অসুন্দরে নিপতিত। সামাজিক অবক্ষয় আজ যে পর্যায়ে মনে হয় বিবেকশূন্য জাতি আমরা। সামাজিক ও পরিবেশগত অবস্থা মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, অশান্তির জন্ম দিচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন মানুষকে আগ্রাসী করে তুলছে। নৃশংসতা যেন সহজ হয়ে উঠেছে। আত্মবিশ্বাসী মনোভাবের মৃত্যু ঘটেছে। ফলে নিজে যেমন ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িয়ে যাচ্ছে তার পাশে থাকা মানুষটিও অনিরাপদ হয়ে উঠছে সহজেই। এসব বিষয়ের গুরুত্ব এতটাই যে কষ্টের পাহাড় হয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি বেদনার বিষয় হলো মেয়েরাই এর স্বীকার হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। স্রষ্টার এক অনন্য সৃষ্টি নারী। সেই নারীকেই লাঞ্ছিত, অপমানিত, অবহেলিত জীবনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ লজ্জা কার? এর সমাধান কে দেবে? এর কোনো উত্তর আদৌ কি কারো জানা আছে। নেই বোধ হয়। সত্যিকারার্থে আধুনিক জীবনধারায় এমন চিত্র কতটা কাক্সিক্ষত? শোভনীয়? গ্রহণীয়? এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের প্রতিচ্ছবি সমাজেরই অংশ। এসবই আমাদের অবক্ষয় একই সাথে সামাজিক সঙ্কটের চিত্র। অনেক ক্ষেত্রেই সবার অজান্তে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য ও অসাম্য বিস্তার লাভ করছে ভয়াবহ আকারে।
যে বয়সে একটা শিশু কৈশোরে পা ফেলে, সেই সময়ে তাকে জীবনের রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। আলোচিত যেসব ঘটনা আমরা দেখতে পাই এর বাইরেও অনেক গল্প রয়ে যায়, যা মিডিয়াতে বা পত্রিকায় আসে না। এমন একটি গল্প কৈশোরে পা দেয়া এক ছেলের মায়ের। যার ভুবনজুড়ে শুধুই তার ছেলের স্বপ্ন। যার বাবা অনেক কষ্টে বিদেশে থেকে টাকা উপার্জন করে এবং স্বপ্ন বোনে তার ছেলে এক দিন অনেক বড় হবে। মা জানে তার ছেলে নামাজ পড়ে নিয়মিত পড়াশোনাও করে ঠিকঠাক। মায়ের আঁচলে মুখ লুকানো ছেলে যে ভেতরে ভেতরে বন্ধুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মাদকে আসক্ত হচ্ছে এটি তার মা ধরতে পারে না। বাসার প্রয়োজনীয় জিনিস হারিয়ে যাচ্ছে। কে করছে এসব। দিন দিন ছেলের পরিবর্তনের হেতু বুঝতে না পেরে ছেলের বাবাকে সব খুলে বলে। অনেক চাপাচাপিতে ছেলে স্বীকার করে সে মাদকাসক্ত। শুধুই কি তা। নেশার জিনিস কিনতেই সে নিজেরই বাসা থেকে চুরি করা শিখেছে। এর বাইরেও তার ছেলে অপরাধ জগতের একজন সদস্য হয়ে উঠেছে; অথচ অবাক করা বিষয় হলো ছেলেটির বয়স। মাত্র তেরো বছর। এ বয়সের একটি ছেলের আজ খেলাধুলায় মত্ত থাকার কথা। হাসি-আনন্দই তার জীবনের পথ হওয়ার কথা। এত অল্প বয়সেই একটি গোছানো পরিবার এক নিমিষেই অন্ধকারের কবলে আটক। মা-বাবার স্বপ্ন যেন কাচের টুকরোর মতো ভেঙে খান খান। সমাজের এ চিত্র আজ আর নতুন কিছুই নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এর স্রোত কতদূর গিয়ে থামবে।
যুগ যুগ ধরেই প্রেম-ভালোবাসা আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে। স্রষ্টাকে ভালোবাসলেই জীবনের প্রকৃত মর্মার্থ উপলব্ধি করা সম্ভব। সৃষ্টির যা কিছু সবই আমাদের প্রয়োজন পূরণার্থে। তবুও আমরা কতজন মনে রাখি তা। সেই ভালোবাসাই সময়ের স্রোতে নর-নারীর মধ্যে প্রবাহমান। কিন্তু যদি প্রেমকে সংজ্ঞায়িত করি তা হলে বলতেই হয় প্রেম এক দিকে জাগতিক অন্য দিকে আধ্যাত্মিক। প্রেম অবিনশ্বর। সেই প্রেম আজ প্রশ্নবিদ্ধ। ভালোবাসার নামে আজ সর্বত্র বেলাল্লাপনা। ফেসবুক, টুইটারসহ আকাশ সংস্কৃতিতে ঢালাওভাবে চলছে সংস্কৃতির অপচর্চা। সৌন্দর্যই ভালোবাসাকে ঋদ্ধ করে সেখানে ভালোবাসায় আজ অসুন্দর জায়গা করে নিচ্ছে সহজেই। এ থেকে পরিত্রাণের পথ কারোরই জানা নেই। কেবল নৈতিক মানদণ্ডই পারে অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে। বিশ্বাসই ভালোবাসার প্রধান হাতিয়ার। সে জায়গায় অবিশ্বাসে ভরে উঠেছে এ আঙিনা। বাগানে তখনই ফুল ফুটবে প্রজাপতিরা ঘুরে বেড়াবে যখন পরিচ্ছন্নতা স্পর্শ করবে। সুন্দরকে গ্রহণ করার সাহস থাকতে হবে। মনকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা থাকতে হবে। তবেই ভালোবাসায় পূর্ণতা আসবে। ঘৃণা দিয়ে নয়, ভালোবাসাই পারে অনেক অন্যায়ের মূল উৎপাটন করতে।
সামাজিক এরূপ অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি অবক্ষয়ের স্বীকার আজ যুবসমাজ। যাদের হাতে একটি দেশ, পরিবার নির্ভর করছে। দেশ ও জাতির কর্ণধার হলো যুবকরা। অথচ কী নিদারুণ বাস্তবতা। আজ তারা আধুনিকতার দোহাই দিয়ে শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে জড়িয়ে পড়ছে অপরাধের কবলে। সে স্বশিক্ষিত না হয়ে হচ্ছে বখাটে, মদ্যপ, ধর্ষক ও সন্ত্রাসী। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিবারে। সম্পর্কগুলো যেখানে শক্তি- প্রেরণা হয়ে জীবনকে আলোকিত করার কথা সেখানে পারিবারিক কলহ, অশ্লীলতা, ধর্ষণ, খুন, সামাজিক সব সম্পর্কে ফাটল ধরছে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছে। নির্ভরতা কমে যাচ্ছে। ফলে অকল্পনীয় ঘটনার স্বীকার হচ্ছে পরিবার। সন্তানের হাতে মা-বাবার লাঞ্ছনাসহ খুন হয়ে যাচ্ছে। কোথাওবা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে খুন হয়ে যাচ্ছে বাবার হাতে সন্তান। ভালোবাসা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সামাজিক দায়বদ্ধতা আজ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিহাস ঐতিহ্য আর ক্রমবর্ধমান সভ্যতার প্রতি কোনো রকম দিকপাত না করে অনায়াসে এসব কর্ম করে যাচ্ছে। প্রশ্নœ কেবলই প্রশ্ন জাগে মনে। সামাজিক এ অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণ কী? সমাজপতি থেকে বিশেষজ্ঞরা একই মতপ্রকাশ করেন। নৈতিক মূল্যবোধের অপমৃত্যু ও বিচারহীনতাই এর প্রধাস কারণ। পাশাপাশি এটিও উল্লেখ করেন প্রযুক্তির ব্যবহার যুবসমাজ থেকে সব বয়সের মানুষকে হিপনোটাইজড করে ফেলছে। যেখানে মানুষ তার স্বাভাবিক চিন্তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত সবাই জড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধ জগতে।
আকাশ সংস্কৃতির কুপ্রভাব, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, নৈতিক শিক্ষার অভাব ও নেশাজাতীয় দ্রব্যাদির অবাধ বিচরণ মানুষের অন্তরের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে জাতীয় সমস্যা। তাই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা এবং বিচারব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগই পারে এহেন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে। বয়সভেদে আকাশ সংস্কৃতির ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারিও হতে পারে একটি পদক্ষেপ। রাষ্ট্রের পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর পারিবারিক পরিকল্পনা। প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষার প্রসারতা। ধর্মীয় অনুশাসনের অনুশীলন। একটি শিশু কখন কী করছে, কোথায় যাচ্ছে। কোন ধরনের ফ্যাশনে সে অভ্যস্ত হচ্ছে। তার চিন্তা-চেতনায় কী কী বিষয় ঘুরপাক খায়। বন্ধু ও পরিবার নির্বাচন। সব বিষয়ে সচেতন দৃষ্টিই পারে পরিবর্তনের সূচনা করতে। দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যও কখনো কখনো বিপদের কারণ হয়ে ওঠে। অবশ্যই সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে উদার দৃষ্টির প্রয়োজন। জীবনের পাঠ হবে আনন্দের। পরিবার হবে সুখের। সমাজ হবে দৃষ্টিনন্দন।