নিতু তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। তার একটা লাল মোরগ আছে। গত বছর নানী তাকে এ লাল মোরগটা দিয়েছেন। এক বছর আগে নিতু নানীবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল। মোরগের বাচ্চাটা পাওয়ার পর থেকে এটাকে নিয়ে বেশি সময় কাটাতো। মা বলতেন বেশি নাড়া নাড়াচাড়া করলে বাচ্চাটা বড় হবে না। এত টুকুন বাচ্চা আজ অনেক বড় হয়েছে। গাঢ় লাল রঙের মোরগের বাচ্চাটি সারা ঘরবাড়ি চষে বেড়ায়। প্রতিদিন বাচ্চাটাকে চালের গুঁড়ো খাইয়ে তারপর স্কুলে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজায় বসে হাতে করে চালের খুঁত খেতে দেয়। খাওয়া শেষ হলে মোরগটা চলে যায় অন্য মোরগের সাথে। তারপরে হাত-মুখ ধুয়ে পড়তে বসত নিতু। এটা তার নিত্যদিনের কাজ। স্কুল থেকে বিকেলে বাড়ি ফিরে খোঁজ করে মাকে জিজ্ঞেস করে মোরগটার কথা। সন্ধ্যার আগে মোরগটাকে নিজ হাতে খাইয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করা ছিল তার সন্ধ্যাকালীন কাজ।
ছোট মামা কাল রাতে ঢাকা থেকে বেড়াতে এসেছে। নিতু অনেক খুশি কারণ তার মামা তার জন্য অনেকগুলো চকোলেট নিয়ে এসেছেন। মামা জানেন নিতু চকোলেট খুব বেশি পছন্দ করে। মামা ঢাকায় চাকরি করেন। শনিবার বিকেল চলে যাবেন অফিস খোলা। নিতুর মা চিন্তা করে মোরগটি বড় হয়েছে কবে আবার শিয়ালে ধরে নিয়ে যায় তাই ভাইকে খাওয়াবে বলে মা ভেবে রেখেছেন। রাতে সবাই যখন খেতে বসেন মা বলেন, নিতু কাল সকালে মোরগটাকে ছেড় না। সে বুঝতে পারে লাল মোরগটি জবাই করে দেবে। এ কথা শোনার পর নিতু খাওয়া রেখে চুপ করে উঠে চলে যায় পড়ার টেবিলে। মুখ কালো করে বসে পড়ে। সবাই অবাক হয়ে যায় নিতুর কাণ্ড দেখে। মামা নিতুর মায়ের কাছে জানতে চান ব্যাপার কী আপা? মা সব বুঝতে পারে। মামাকে সব খুলে বলে। মামা খাবার রেখে নিতুর কাছে যান। মামা বলেন, কী হয়েছে নিতু? কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিতু বলে, মামা আমি লাল মোরগটিকে খুব ভালোবাসি। মোরগটাকে খেয়ে ফেললে আমি কোনো দিন স্কুলে যাবো না। মামা বলে, কান্না করো না। নিতু বলে, মামা তুমি রাগ করো না তোমাকে খাওয়াবো বলে আমি রাগ করিনি মামা, আমি লাল মোরগটাকে খুব ভালোবাসি। এটা খেলে আমি ভীষণ কষ্ট পাবোÑ এ কথা বলে চোখ মুছতে থাকে। মামা বলে, তুমি নিশ্চিত থাকো তোমার মোরগটা কেউ কোনো দিন খেতে চাইবে না। আমি বলে দিয়েছি সবাইকে। নিতু মামার দিকে করুণ চোখে তাকায় আরেকবার। মামা তার মাথায় আদর করে বলে, হু। নিতু তখনো চোখে মুছতে থাকে। মামা বলে, প্রমিজ আর কেউ এটাকে খেতে চাইবে না। হ
