পানি আল্লাহ তায়ালার অপার এক নিয়ামত। পানি হলো একটি অজৈব স্বচ্ছ স্বাদহীন গন্ধহীন এবং প্রায় বর্ণহীন এক রাসায়নিক পদার্থ। পৃথিবীর সব ধরনের প্রাণের বেঁচে থাকার জন্য পানি অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা পানির অফুরন্ত ভাণ্ডার রেখেছেন সমুদ্রে। আর সমুদ্রের পানিকে তিনি লবণাক্ত করে সৃষ্টি করেছেন। কারণ এ পানি যদি মিঠা হতো তাহলে কিছু দিনপর নষ্ট হয়ে যেত। কারণ সমুদ্রের পানি লবণাক্ত বিধায় এতে অজস্র প্রাণী পচে ও গলে গেলেও, সমুদ্রের পানি নষ্ট হয় না। স্বাদ ও গন্ধে কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় না। আল্লাহর অশেষ কুদরতের কারিশমা কত নিপুণ, তিনি সমুদ্রের পানিকে নীরবে বাষ্পাকারে উঠিয়ে নেন ও মেঘমালায় পরিণত করেন। আর বর্ষণ করেন মেঘমালা থেকে সুমিষ্ট পানি। সেজন্য তিনি ভাসমান মেঘমালার পানি পাহাড়ে বর্ষণ করে জমাট আকারে পাহাড়ে সংরক্ষণ করেন। পানির মনোরম এ হিমাগার পাহাড় চূড়ায় হৃদয়গ্রাহী দৃশ্য সৃষ্টি করার পাশাপাশি আমাদের পিপাসাও নিবারণ করে।
উপরন্তু মানুষকে নিজে গিয়ে সে তুষার ভাণ্ডার থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় না। বরং তিনি সূর্যের তাপ দ্বারা বরফ গলিয়ে নদী ও পাহাড়ি ঝরনা তৈরি করেন এবং পৃথিবীর কোনায় কোনায় পানি সরবরাহের এমন পাইপ লাইন বিছিয়ে দেন যে, মানুষ পৃথিবীর যে প্রান্তেই মাটি খনন করে পানি আবিষ্কার করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর আমি পানিকে জমিনের বুকে সংরক্ষিত করি।’ (সূরা মুমিনুন ১৮) পানির যে ঢোক আমরা এক মুহূর্তে কণ্ঠনালী দিয়ে গড়িয়ে দেই এর প্রতিটি ফোঁটা আল্লাহর এক বিশাল কুদরতি ব্যবস্থাপনা অতিক্রম করে আমাদের অবধি পৌঁছে।
এ নিয়ামত পান করার কিছু আদব রয়েছে। যা সঠিক নিয়মে পান করলে পানি পান করাও হলো, আবার নবিজী সা: এর সুন্নতের ওপর আমলও হলো। এ ব্যাপারে মুসলিম শরিফে প্রায় ছয়টি হাদিস বর্ণিত আছে পানি পানের আদব সম্পর্কে।
এক. পানি পানের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া এবং শেষে আলহামদু লিল্লাহ পড়া।
দুই. বসে বসে পান করা, দাঁড়িয়ে পান না করা।
তিন. ডান হাত দ্বারা পান করা, বাম হাত দ্বারা পান না করা। কেননা শয়তান বাম হাত দিয়ে পানি পান করে।
চার. তিন নিঃশ্বাসে পানি পান করা, নিঃশ্বাস ফেলার সময় পাত্র থেকে মুখ আলাদা করা। পাত্র যদি ভাঙা থাকে পাত্রের ভাঙা অংশের দিক দিয়ে পান না করা ।
পাঁচ. বড় পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান না করা। কেননা এতে বেশি পানি চলে আসার বা সাপ-বিচ্ছু থাকার সম্ভাবনা থাকে।
ছয়. সোনা জাতীয় পাত্রে পান না করা। পানি পান করার পর অন্যজনকে দিতে হলে প্রথমে ডান পাশের জনকে দেবেন। সেও তার ডান পাশের জনকে দেবে, এভাবেই চলবে। চা ও অন্যান্য পানীয় এ নিয়মেই পান করতে হবে।
পানি পানের ব্যাপারে মহানবী সা:-এর নির্দেশিত পদ্ধতিকে অনেক সুন্দর, বাস্তব ও স্বাস্থ্যসম্মত বলে সাব্যস্ত হয়েছে, যে পদ্ধতিটি আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে তিনি শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষের দিনেও নবিজীর সুন্নত ও সৌন্দর্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিজ্ঞানীরা বলেন, দাঁড়িয়ে পানি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। প্রচণ্ড পিপাসার সময় এক শ্বাসে অনেক পানি পান করা আরো বেশি ক্ষতিকর।
মানুষ যখন প্রথম এক ঢোক পানি পান করে, এরপর নিঃশ্বাস নেয় তখন পানির পরপরই তার দেহে এক ধরনের অক্সিজেন প্রবেশ করে। এরপর তিনবার যখন সে এ কাজটি করে তখন তার মস্তিষ্কে ও রক্তের শিরা-উপশিরা যথেষ্ট অক্সিজেন সষ্ণার হয়, ফুসফুস আরাম পায়, খাদ্য ও শ্বাসনালী নিজেদের সেরা পারফর্ম করে, পাকস্থলী ধীরে ধীরে সে পানিগুলো গ্রহণ করে। বিভিন্ন নালি ও শিরা পানিটাকে ফিল্টারিং করে, পানিতে কোনো জীবাণু বা ময়লা থাকলে উপকারী জীবাণুরা সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
পানি আল্লাহ তায়ালার অপার এক নিয়ামত। পানি হলো একটি অজৈব স্বচ্ছ স্বাদহীন গন্ধহীন এবং প্রায় বর্ণহীন এক রাসায়নিক পদার্থ। পৃথিবীর সব ধরনের প্রাণের বেঁচে থাকার...
