কোনো স্বাধীন দেশের নিরাপত্তার সাধারণত দু’টি স্তর থাকে। বহিঃস্থ নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে অনেক সময় কোমল নিরাপত্তাও বলা হয়ে থাকে। বর্তমান ইউনিপোলার বিশ্ব ব্যবস্থায় কোন দেশ অন্যকোন দেশে আক্রমণ চালায় না বা দখল করে না। তবে লোভাতুর স্বার্থের কারণে পশ্চিমাশক্তিগুলোর অন্যান্য দেশে আক্রমণ চালিয়ে পরোক্ষভাবে দখলের উদাহরণ রয়েছে। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন এ ধরনেরই কয়েকটি আক্রান্ত দেশ। এগুলো ছাড়া সাধারণভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ রকম আক্রমণের দৃশ্যত কোনো পরিবেশ থাকে না। তারপরও সব দেশকেই বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিরক্ষার জন্য সর্বদাই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি রাখতে হয়। সেই দিক থেকে আমাদের অত্যন্ত চৌকস ও পেশাদার সেনাবাহিনী নিয়ে আমরা গর্ব করতে পারি এবং সেনাবাহিনীর ওপর দেশ রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করে নিশ্চিন্ত থাকতে পারি। কিন্তু বহিঃস্থ নিরাপত্তার পাশপাশি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অথচ আমরা জাতি হিসেবে এই কোমল নিরাপত্তা বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয়ে খুব একটা সজাগ হতে পারছি না। আমাদের এই শিথিলতাই বর্তমানে আমাদের জন্য জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। কাজেই প্রিয় মাতৃভূমিকে নিরাপদ রাখতে হলে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ নিরাপদ দেশ হস্তান্তর করতে হলে আমাদের এই কোমল নিরাপত্তা বিষয়সমূহকে চিহ্নিত করে হুমকিমুক্ত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এই প্রবন্ধে সেই বিষয়সমূহ চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা চালানো হবে।
দুর্নীতি : দুর্নীতি একটি দেশের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ শত্রু। এটি সব উন্নয়ন ও অর্জনকে ম্লান করে দেয়। পিছু টেনে ধরে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে। এই দুর্নীতির বিস্তার হয় সর্বক্ষেত্রে; অর্থনীতি, রাজনীতি, শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা ইত্যাদি সব কিছুকেই গ্রাস করে ফেলে দুর্নীতি। সেই যে ২০০১ সালে আমরা দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান হয়েছিলাম অদ্যাবধি আমরা সেখান থেকে খুব বেশি উপরে উঠতে পারিনি। আমাদের দেশের কোথায় নাই দুর্নীতি? পর্দা-বালিশ কেনা হচ্ছে লাখ লাখ টাকায়, টনকে টন কয়লা উধাও হয়ে যাচ্ছে, নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ দেয়া হচ্ছে, ই-কমার্সের নামে হাজারো মানুষকে পথে বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। ছাত্রনেতা, চাকরিরত ড্রাইভার, রিকশাচালকরা আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি উল্লেখ করতে গেলে হাজারো উদাহরণ চলে আসবে। এই দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে আমাদের দেশের কোমল নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কঠোর আঘাত আসবে। তবে একটি দেশ থেকে কখনো দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিন্তু এটিকে একটি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থা : শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই নিরাপত্তা। দেশকে দেশের মানুষকে নিরাপদ করার জন্য যুগোপযোগী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা কখনো অগ্রগণ্যতার মধ্যে আসে না। সেটা আমাদের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ দেখলেই বোঝা যায়। অথচ জাতির মেরুদণ্ডস্বরূপ এই শিক্ষাকে শক্তিশালী করতে হলে এটিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে। কিন্তু শিক্ষার অবকাঠামো, সার্বজনীনতা, গবেষণা, শিক্ষকতা ইত্যাদিকে আমরা মোটেও গুরুত্ব দিচ্ছি না। ফলে সমাজের মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহিত হয় না। বিশেষ করে শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকপর্যায়ে সাধারণত শিক্ষিত বেকাররা শিক্ষকতা করতে আসেন, কিছু কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। তাছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় নানান ধরনের নানামুখী কারিকুলাম এবং উচ্চ-নিম্ন বৃত্তের ভিন্ন ধারার ব্যবস্থা আরো সমস্যা এবং বৈষম্য সৃষ্টি করছে। আর বস্তুনিষ্ঠ কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় আমরা দক্ষ নাগরিক তৈরি করতে পারছি না। একই সাথে এখানে রয়েছে দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং অদূরদর্শিতা। কাজেই দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা প্রশাসকদের সমন্বয়ে ভিন্ন একটি কমিশন গঠন করে গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। বিশেষ করে করোনা-উত্তর শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনরুদ্ধারের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে অগ্রসর হতে হবে।
কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি : কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। প্রায়শই দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোরদের মধ্যে খুনোখনির সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অসৎ নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে এসব গ্যাংয়ের উত্থান বলে অপরাধ বিজ্ঞানীরা মনে করেন। সঙ্কীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থে এসব কিশোরকে অপরাধ জগতে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে এরা মাদকাসক্ত হচ্ছে, পরস্পরকে খুন করে নিজের এবং অন্যদের জীবনে বিপর্যয় ডেকে এনে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। পরিণতিতে দেশে একটি অপরাধজগৎ ছায়া বিস্তার করছে এবং সমূহ প্রজন্ম বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসছে।
স্বাস্থ্যখাত : একটি জাতির সমৃদ্ধশালী হওয়ার প্রথম সিঁড়ি হলো সেই জাতির স্বাস্থ্যব্যবস্থা। যে জাতির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যত উন্নত সেই জাতি শিল্প-সাহিত্য, ক্রীড়া-সংস্কৃতিতে ততটা অগ্রগামী হয়। ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জাতিকে ধ্বংসের হুমকিতে ফেলে দেয়। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা একেবারে ভঙ্গুর না হলেও এর দুর্বলতা আমরা চলমান করোনা মহামারীতে উপলব্ধি করতে পেরেছি। নেহায়েত আল্লাহ তায়ালার রহমতে আমরা আপাত রেহাই পেয়েছি পৃথিবী বিধ্বংসী এই মহামারী থেকে। নইলে অত্যন্ত দুর্বল স্বাস্থ্যখাত, ঘনবসতিপূর্ণ জনপদ আর ভয়ানক জন অসচেতনতার মাঝেও আমরা এই দেশে করোনার সর্বগ্রাসী রূপ দেখতে পাইনি। যদিও অল্প যা দেখেছি তাতেই আমরা বুঝতে সক্ষম হয়েছি আমাদের স্বাস্থ্যখাত আরো কত উন্নত হওয়া প্রয়োজন। এরই মধ্যে সীমাহীন দুর্নীতি, অমানবিকতা, অত্যন্ত দুর্বল অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি পুরো জাতিকে ভবিষ্যতে এই ধরনের আরো মহামারীর আবির্ভাবে ধ্বংসের খাদে নিক্ষেপ করতে পারে। কাজেই জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম ফ্রন্ট এই স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করার জন্য এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
যানবাহন দুর্ঘটনা : আমাদের দেশে সড়ক এবং নৌপথের দুর্ঘটনাসমূহ জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। দেশে প্রতিদিনই গড়ে ১০-১২ জন করে নাগরিক বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। এছাড়া মাঝে-মধ্যেই বড় বড় নৌদুর্ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণ যায়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় আমরা এইভাবে মানুষের প্রাণ হরণ বন্ধ করার জন্য কোনোরূপ পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছি বারবার। ট্রাফিক শৃঙ্খলা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, মালিকপক্ষের মুনাফা সর্বোচ্চকরণের প্রবণতা, চালকের অযোগ্যতা ও বিশ্রামহীনতা এবং ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ইত্যাদি কারণেই মোটাদাগে দুর্ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়ে থাকে। কিন্তু আমরা সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পদক্ষেপ না নেয়ার জন্য নিত্যনৈমিত্তিকভাবে এসব দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। সেই সাথে দেশের সম্পদহানি হচ্ছে আর মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করে দারিদ্র্যের সংখ্যাটাই শুধু বাড়াচ্ছে। অথচ রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট সড়ক-মহাসড়কে ও নৌপথে দুর্ঘটনা রোধ করা। অবশ্য এই যান চলাচল ব্যবস্থাপনার সাথে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য জড়িত। সেখানে উপকারভোগী হলো বিভিন্ন সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাজনৈতিক সংস্থাসমূহ এবং সেগুলোর কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ। এই সুবিধাভোগী বলয় থেকে পরিবহন ব্যবস্থাকে বের করে না আনতে পারলে সাধারণ মানুষের জীবনের হুমকি সড়ক ও নৌপথে থেকেই যাবে।
সংখ্যালঘু ইস্যু : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় একটি অত্যন্ত লাভজনক রাজনৈতিক পণ্য। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আমরাও এর বাইরে নই। সামাজিকভাবে আমাদের দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করলেও মাঝে-মধ্যেই হীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে এই সম্প্রীতি নষ্টের জন্য ধর্মভিত্তিক দাঙ্গা বাধানো হয়। সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হয়, লুটপাটের শিকার হয়। কিন্তু অজানা কারণে তার কোন বিচার হয় না। গত ৯ বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিন হাজারেরও বেশি আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। কিন্তু একটিরও বিচার শেষ হতে দেখিনি আমরা। হামলার পর মামলা হয়েছে, হাজার হাজার অজ্ঞাত আসামি হয়েছে, দোষী-নির্দোষ অনেকে গ্রেফতার হয়েছে, তদন্ত হয়েছে। কিন্তু কোন তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি এবং কোনোটিরই সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন করা যায়নি। এই অবস্থাটি দেশ ও জাতির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত নাজুক একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছে। এই সমস্ত হামলার সুষ্ঠু বিচারই একমাত্র আমাদের এই ধরনের জাতিকে দ্বিধা-বিভক্ত করণের হুমকি থেকে মুক্তি দিতে পারে।
বিভক্তির রাজনীতি : আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি হলো রাজনৈতিক বিভাজন। এই বিভাজন এমন একটি পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে, আমরা এখন জাতির ক্রান্তিলগ্নে কঠিন বিষয়সমূহেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারছি না। এমনকি বিবদমান দলসমূহ একে অন্যকে যুদ্ধ ময়দানের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে পরস্পরকে নিঃশেষ করে দিতে চাচ্ছি। ফলে জাতি হিসেবে আমরা আরো দুর্বল হয়ে পড়ছি। আর হুমকির মুখে পড়ছে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা।
গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠহীনতা : গণমাধ্যম একটি রাষ্ট্রের অন্যতম স্তম্ভ, জাতির বিবেক। এই বিবেক যখন নষ্ট হয়ে যায় জাতি তখন নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে। কারণ গণমাধ্যম জাতিকে সঠিক পথটি দেখাতে ব্যর্থ হয়ে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। সম্প্রতি বেশ কিছু বিষয়ে আমাদের গণমাধ্যম পক্ষপাতহীন ভূমিকা রাখতে পারেনি। সুস্পষ্টভাবে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছে বিভিন্ন বিষয়ে। তারা সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচার আদায় করতে পারেনি। কলেজছাত্রী মুনিয়া হত্যা মামলায় আলোচিত শিল্পপতির বিচারের বিষয়ে সোচ্চার হতে পারেনি।
এমনকি সাংবাদিকদের একটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সেই শিল্পপতির নিকট থেকে আর্থিক অনুদান গ্রহণ করেছেন সগৌরবে। আর অজানা কারণে মিডিয়া অঙ্গন মুনিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সবলের পক্ষ নিয়েছিল। অন্যদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দের বিপক্ষে এই গণমাধ্যম ছিল অত্যন্ত সরব। ওইসব নেতাদের গোপনে রেকর্ডকৃত ব্যক্তিগত কথোপকথন অবারিতভাবে প্রকাশ করে তাদের চরিত্র হননের সব বন্দোবস্তই করেছে। এখানে মিডিয়া স্পষ্টতই দুর্বলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মোদিবিরোধী আন্দোলনে হেফাজতের প্রায় ২১ জন কর্মী-সমর্থক নিহত হলেও গণমাধ্যমগুলো সেই হত্যার কথায় নীরব থেকে শুধুমাত্র বিক্ষুব্ধ মিছিলের আক্রমণে ধ্বংসযজ্ঞের ছবিই প্রকাশ করেছে একতরফাভাবে। এইভাবে জাতির বিবেক গণমাধ্যম বিবেকহীন হয়ে পড়লে সেই জাতির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা অনুমান করা মুশকিল।
নির্বাচন প্রক্রিয়া : নির্বাচন প্রক্রিয়া একটি দেশের গণতন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রধান নিয়ামক। নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, যা দেশ ও সরকারের অন্যান্য সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। চর্চিত হয় জনকল্যাণকর রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি এবং সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত হয় শৃঙ্খলা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে গত পরপর দু’টি সাধারণ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায়। জবাবদিহিতার অভাব সর্বত্রই পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফলে দেশের কোমল নিরাপত্তার অন্য ইস্যুগুলোতে এর নোতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রতিফলিত হচ্ছে পড়ছে। দেশে দু’টি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অলঙ্ঘনীয় একটি বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। যার ভিত্তিতে পুরো জাতি বিভক্ত হয়ে পড়ছে। এই বিভক্তি দেখা যাচ্ছে প্রায় সব ধরনের রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ও পেশাজীবী অঙ্গনসমূহে। এই নাজুক অবস্থান থেকে জাতিকে উদ্ধার করার জন্য একটি প্রশ্নবিদ্ধহীন নির্বাচন অত্যন্ত জরুরি। নইলে এই বিভক্ত জাতি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়সমূহে ঐক্যবদ্ধ হতে ব্যর্থ হবে। এই ভয়াবহ অনৈক্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া জাতীয় সাম্প্রতিক সম্প্রীতি ধ্বংসের গভীর ষড়যন্ত্রমূলক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার প্রাক্কালে।
যদিও আরো বেশিকিছু ইস্যু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বলয় সৃষ্টি করে তথাপি উপরে আলোচিত বিষয়গুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এইগুলো চিহ্নিত করে সম্ভাব্য হুমকি সমূহ মোকাবেলা করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারলে বাঁচবে দেশ, বাঁচবে জাতি। আর আমরা একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে সফলভাবে তুলে দিতে সক্ষম হবো। মহান আল্লাহ আমাদের সকলের শুভ বুদ্ধি দান করুন। আমীন!
কোনো স্বাধীন দেশের নিরাপত্তার সাধারণত দু’টি স্তর থাকে। বহিঃস্থ নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে অনেক সময় কোমল নিরাপত্তাও বলা হয়ে থাকে। বর্তমান ইউনিপোলার বিশ্ব...
