পৃথিবী নামের গ্রহটির চারপাশে ঘিরে রাখা বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পরিবেশ বিনষ্ট হয়ে ক্রমে পৃথিবী মনুষ্যবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে অচিরেই পৃথিবীর মানুষসহ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
এখন প্রশ্ন হলো পৃথিবীর উষ্ণতা এভাবে বাড়ছে কেন? বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাতাসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন গ্যাস নিঃসরণ ঘটায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়ছে।
পৃথিবীর চলমান যান্ত্রিক সভ্যতা কলকারখানানির্ভর। আর এ কলকারখানা চালানোর জন্য যে জ্বালানি তেল বা কয়লা পোড়ানো হয় তা থেকেই এ মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ ঘটে। এই মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ বন্ধ করতে পরিবেশবাদিরা তাই দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন। পুরো পৃথিবীজুড়ে তেল কয়লার পরিবর্তে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের দাবি উঠেছে। আর তাই পৃথিবীর তাবৎ বিজ্ঞানীরা বিকল্প জ্বালানির অনুসন্ধান করছেন।
পুরো পৃথিবীতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সবচেয়ে বেশি তেল কয়লার মতো জৈব জ্বালানি ব্যবহার হয়। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ কলে কারখানায় তেল কয়লার পরিবর্তে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সূর্যের আলো, বায়ুপ্রবাহ, নদীর স্রোত, সাগরের ঢেউ ইত্যাদিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কিন্তু সূর্যের আলো থেকে শক্তি উৎপাদনের জন্য সৌরপ্যানেল, ব্যাটারি ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। আর এ সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি মাটি ও পানি দূষণকারী। এগুলো বানাতে প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর ঈঋঈ গ্যাসের নির্গমন ঘটে।
এদিকে বায়ুকলের বিশালাকার পাখা বানাতেও এ ক্ষতিকর ঈঋঈ ব্যাপক হারে নির্গত হয়। তাছাড়া পরিবেশের ওপর এগুলোর আরো অনেক বিরূপ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এসবের কার্যদক্ষতা মাত্র ২০-৩৫%। এ হিসেবে এটা সময়, অর্থ ও উদ্দোম এর পুরো অপচয় মাত্র। এটি কোনোভাবেই বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির দক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। পুরোটাই ধোঁয়াশাজনিত বিভ্রান্তিকর।
এদিকে ইউরেনিয়ামকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে পারমাণবিক চুল্লি বা রিয়েক্টর তৈরি করা হয়েছে। এ ইউরেনিয়াম ভিত্তিক রিয়েক্টরগুলো খুবই বিপজ্জনক এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি।
যদিও ইউরেনিয়ামভিত্তিক রিয়েক্টরগুলো খুবই বিপজ্জনক, এবং পরিবেশের জন্য ভয়ানক হুমকিস্বরূপ; তবুও এগুলোর ব্যবহার বেশি করা হয়। এর নেপথ্য কারণ, এসব রিয়েক্টর থেকে সরাসরি পারমাণবিক ওয়্যারহেড বা পরমাণু বোমা তৈরি করা যায়।
এতে যুদ্ধের সময় প্রয়োজনে জরুরি পরিস্থিতিতে পারমাণবিক ওয়্যারহেড বা পরমাণু যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করা যায়! এ যেন এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল অনেকটা। এ কারণে ধনী সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলো এই ইউরেনিয়ামভিত্তিক রিয়েক্টর স্থাপনে বেশি আগ্রহী। এভাবে ইউরেনিয়ামভিত্তিক রিয়েক্টর স্থাপন করে তারা গোটা পৃথিবীকে বিধ্বংসী পরমাণু বোমার গোডাউনে পরিণত করেছে।
এটা কোনোভাবেই পৃথিবীর জন্য, পৃথিবীর মানবগোষ্ঠীর জন্য সুখকর নয়।
এ ক্ষেত্রে ‘থোরিয়াম’ ভিত্তিক নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরই একমাত্র সমাধান। থোরিয়ামভিত্তিক রিয়েক্টরের ডিজাইন সম্পূর্ণ আলাদা! অটোমেটিক্যালী ক্রিটিক্যাল টেম্পারেচার হ্যান্ডেল করার সামর্থ্য রাখে এই চুল্লি। তাই বিস্ফোরণের বিন্দুমাত্রও আশঙ্কা নেই। নিষ্কাশিত বর্জ্য প্রায় শতভাগ পুনঃব্যবহারযোগ্য। এ ছাড়াও পরিবেশ সুরক্ষা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, স্থায়িত্ব, দীর্ঘ মেয়াদি টেকসই, নির্ভরযোগ্যতা সবকিছু বিবেচনায় এই পারমাণবিক বৈদ্যুতিক চুল্লিই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট নিয়ামকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
এটি শুধু প্রথমবার (একবার) স্থাপন করতে খানিকটা ঈঋঈ নির্গত হয়, কিন্তু বাকি জীবনে কখনো ঈঋঈ নির্গত হয় না! আর এর কর্মদক্ষতা ৮৫-৯৫% পর্যন্ত। বড় কথা হলো, ইউরেনিয়ামের তুলনায় থোরিয়াম খুবই সহজলভ্য। যেকোনো পরিমাণের থোরিয়ামের মিশ্রণ এতে ব্যবহার করা যায়। ইউরেনিয়ামের মতো অধিক পার্সেন্টেজ লাগে না।
তাই এখন সময় এসেছে পৃথিবীর মানুষকে এসব জানানোর। এটা মানতেই হবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিপজ্জনক পরিণতি থেকে এ সুন্দর পৃথিবীকে রক্ষা করার সর্বোত্তম সমাধান হলো এ থোরিয়াম বেইজড্ পারমাণবিক চুল্লিকে জ্বালানির উৎস হিসেবে বিবেচনা করা। হ