শীতের সকাল। কুয়াশায় ঢাকা চার দিক। সূর্য কেবল উঁকি দেয়ার উপক্রম। কনকনে ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে আগুনের পোড় সাজিয়েছে মানুষ। ছোট্ট খোকা রাতুল। ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে করতে সেখানে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে আগুন পোহাতে লাগল। কদম দাদু গল্প বলতে দারুণ পটু। ভূতের গল্প, হাসির গল্প, দুঃখের গল্প সব পারেন। দাদুর মুখের গল্প মানেই বিশেষ কিছু। ভূতের গল্পে সবাই নিমগ্ন। রাতুল একটু মাথা ঘোরাতেই দেখতে পেল, ঘন কুয়াশায় কি যেন একটা ধবধবে সাদা। মানুষ নাকি অন্য কিছু বুঝা যাচ্ছে না। রাতুল ভারী দুষ্টু ছেলে। হঠাৎ করেই চিৎকার করে বলল- ভূত! ভূত! ভূত! সবাই ভয় পেয়ে জড়সড় হতে লাগল। দাদু সবাই কে সাহস দিতে লাগল। ধ্যুর, বোকা! এখানে ভূত কই থেকে আসবে। এ দিকে অচেতন মনে কখন যে দাদুর কাপড়ে আগুন লেগে গেছে টের পাইনি। নিমেষেই চোখ গেল রাতুলের। আবার চিৎকার- আগুন, আগুন, আগুন।
দাদু বলল- কোথায় আগুন?
- আপনার লুঙ্গিতে।
সবাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু কোনোভাবেই সফল হতে পারছিল না।
ইতোমধ্যে, দূর থেকে চিৎকার শুনে গাছি দাদু দৌড়ে এলেন। এসেই তার কলসে রাখা পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে দিলেন। সবাই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। সবাই থ মেরে দাঁড়িয়ে রইল। চুপচাপ, কারো মুখে ‘রা’ শব্দটিও নেই। একটু পরে দাদু বলে উঠল- রাতুল, এই রাতুল। আমার কাছে আয়। রাতুল ভয়ে যেতে চাচ্ছিল না।
দাদু আবারো বলল- আয় দাদু, আয়। তোকে শাস্তি দিবো না। রাতুল কাছে
গেল।
দাদু বলল- কোনো কিছুতে ঘাবড়ে যাওয়া ঠিক নয়। দৃঢ় মনোবলের সাথে এগোতে হয়। সমুচ্চারিত শব্দে সবাই বলে উঠল-
“ভয়ে নয়, সাহসে জয়”
উদাহরণ দিয়ে বলল- দেখো, রাতুল। তুমি যাকে ভূত ভেবে ঘাবড়ে গিয়েছিলে, তিনি কিন্তু ভূত নয়, মানুষ।
আর তিনি কিন্তু বিপদে এসে সাহায্য করেছেন। সুতরাং ভয় পেলে চলবে না। সাহস, ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল সফল হতে সাহায্য করে।
