পুকুর ঘাটে এক জোড়া মুরগি, ঝগড়া করছে। মুরগ মুরগি কে বলছে জানিস এই পৃথিবীতে কার গলা সবচেয়ে বড়? মাথা খাটিয়ে বলত। মুরগিটা হেসে হেসে বলছে সেটা কি আর বলতে হয়। আমার গলাই সবচেয়ে বড়। কেন মুরগ তুমি কি খেয়াল করনি যখন আমি ডিম পাড়ি কেমন কুক্কুরো কোক কুক্কুরো কোক করে ডেকে উঠি। আমার ডাকে আকাশ কাঁপে, ঘুমের বাচ্চা হুরমুর করে জেগে উঠে। আর বাড়ির বউয়েরা বলে দেখো না একটা ডিম পেড়েই কি পাওয়ার দেখায়। মনে হয় স্বর্গ জয় করে ফেলেছে। তাহলে বুঝো একবার আমার গলার কত শক্তি।
মুরগ তখন বলে হায় হায় হায় তুমি আমার কথা না বলে নিজের কথাই বলে ফেললে। একবারও ভাবলে না আমার ডাক না শুনলে মানুষের তো ঘুমই ভাঙে না। এমন কি তোমারও ঘুম ভাঙে না। সেই তুমি বললে আমার চেয়েও তোমার গলার শক্তি বেশি। একটা পুরুষকেও তুমি সম্মান দিলে না। মুরগি বলে ধুর রাখো তোমার সম্মান আপনি বাঁচলে বাপের নাম।
মুরগ তখন অভিমান করে বলল এত স্বার্থপর হওয়া কিন্তু ভালো নয়। খেয়াল করে দেখো আমি তোমার কত উপকার করি। মুরগি তখন হেসে হেসে বলে ওগো রাগ করছ কেন আমার সম্মান মানেই তো তোমার সম্মান। মুরগ তখন বলল এ কথা মোটেও সত্যি নয়। সে রাগ করে জঙ্গলে চলে গেল।
জঙ্গলে একা একা হাঁটছে মন খারাপ করে। সেখানে হঠাৎ দেখা একটা রাজহাঁসের সাথে। মুরগ জিজ্ঞাসা করল কি ব্যাপার রাজহাঁস তুমি এখানে কেনো?
রাজহাঁস বলল আর বলবেন না ভাই। এই যে দেখুন আমার বাচ্চাগুলো ভীষণ দুষ্টু। সারাক্ষণ একটা আরেকটার সাথে ঝগড়া করে। আমি চাই ওদের স্কুলে পাঠাতে যেন সভ্য, নম্র, ভদ্র হয় আর এরা কি না চলে আসে জঙ্গলে, পুকুরে। বলেন তো কেমন মেজাজ হয়। কিন্তু এত্ত ছোট্ট তুলতুলে বাচ্চা তো তাই কড়া শাসন করতে পারি না। তা মুরগ ভাইয়া আপনার মন খারাপ কেন?
আর বলবেন না। মুরগীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম আচ্ছা বলত কার গলায় জোর বেশি। সে বলল তার গলায় নাকি জোর বেশি। সেটা প্রমাণের জন্য কতগুলো যুক্তি দেখাল। আচ্ছা আপনাকে বলি আপনি বলেন তো আপনার গলায় বেশি শক্তি নাকি আমার?
রাজহাঁস এবার একটু ভাব নিলো। নিজের দিকে একবার তাকালো। চারপাশের পরিবেশটাও দেখে নিলো। তারপর স্নিগ্ধ গলায় বলল মুরগ ভাই আমার শরীরের দিকে একবার তাকান। দেখুন কী ধবধবে সাদা ত্বক, মোলায়েম পশম, চোখে কি সুন্দর কারুকাজ। আর আমার গলা সে তো স্পেশাল। যখন আমি প্যাক প্যাক করে শব্দ করে ডাকি চারপাশ কেমন নীরব হয়ে যায়। যেন সারা পৃথিবী আমার ডাক শোনার জন্য মগ্ন হয়ে থাকে। তাহলে নিঃসন্দেহে বলতে পারেন আমার গলার শক্তিই বেশি।
রাজহাঁসের কথা শুনে মুরগের আরো মন খারাপ হলো। তখনই সেখান দিয়ে যাচ্ছিল এক শেয়াল। তাদের ঝগড়া দেখে সে থামল। গরু ও জিরাফ মোরগ বলল আচ্ছা শেয়াল তোমাকে তো বলা হয় তুমি সবচেয়ে পণ্ডিত। তুমিই বলো কার গলায় সবচেয়ে বেশি জোর।
শেয়াল একটা হাসি দিলো। তারপর বলল শোনো এই পৃথিবীতে বড় গলা হলো চোরের মায়ের । হ্যাঁ চোরের মায়েরই সবচেয়ে বড় গলা। সেই গলায়ই সবচেয়ে বেশি জোর।
একজন চোরের মা মিথ্যাকথা, কটু কথা, নিচুকথা সব কিছু নির্লজ্জের মতো বলতে পারে। তাই বলা যায় চোরের মার বড় গলা। মোরগ অবাক হয়ে শেয়ালের দিকে তাকিয়ে রইল।