বন্ধুরা, তোমরা কি জানো, গ্রাম থেকে কলকাতা শহরে যাবার পথে একটি ছেলে পথের পাশের মাইলফলক দেখে ইংরেজি ওয়ান থেকে টেন সংখ্যাগুলো শিখে ফেলেছিল? ছেলেটির নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বড় হয়ে যে হলো বাংলাগদ্যের জনক। ছোটবেলা থেকেই জ্ঞান অর্জনের প্রতি ঈশ্বরচন্দ্রের তীব্র আগ্রহ ছিল। টেবিলে বসে রাত জেগে পড়ার জন্য তিনি মাথার চুল সিলিংয়ের সাথে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতেন। উদ্দেশ্য, ঘুম ধরলে চুলে টান পড়লে জেগে উঠবেন। তোমরা ঘুম তাড়ানোর জন্য কী কী পদ্ধতি অবলম্বন করো?
কলকাতার স্কুলে পড়াশোনার সময় ঈশ্বরচন্দ্র ভালো রেজাল্ট করে বৃত্তি পেয়ে সেই টাকায় কিছু কাপড়-চোপড় কিনে গ্রামের গরিব-দুঃখীদেরকে দান করেছিলেন। তুমি এমন বৃত্তি পেলে কী করতে? উনিশ বছর বয়সে হিন্দু ‘ল’ কমিটির পরীক্ষায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দেন বলে ঈশ্বরচন্দ্রের নামের সাথে বিদ্যাসাগর যুক্ত হয়।
মা বাবাকে কতটুকু মূল্য দাও তোমরা? ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর অসুস্থ মাকে দেখতে দামোদর নদী সাঁতরে পাড়ি দিয়ে শহর থেকে গ্রামে মায়ের কাছে চলে এসেছিলেন। একরাতে পায়ে হেঁটে পনেরো মাইল দূরে গিয়ে মায়ের জন্য কবিরাজের কাছ থেকে ঔষধ নিয়ে এসেছিলেন তিনি।
নারীজাতির প্রতি ছিল তাঁর সীমাহীন শ্রদ্ধা। সেই যুগে স্বামীর মৃত্যতে স্ত্রীকে স্বামীর সাথে একই চিতায় পুড়িয়ে মারার নিয়ম ছিলো। এই নিয়মকে বলা হতো ‘সতীদাহ প্রথা’। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই অমানবিক প্রথার বিরোধী ছিলেন এবং এই প্রথা বন্ধ করার জন্য আইন তৈরি করেছিলেন। বড় হয়ে তোমাদেরকেও কিন্তু সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতিপূর্ণ অমানবিক প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।