কেমনতরো ভালোবাসার নক্সিকাঁথা! আমার ছবি
আঁকতে গিয়ে গহীন রাতে আঁকলে বুঝি বাউল কবি?
পোড়া মাটির গেরস্থালি; বসতবাটি বহতা নদী,
নদীর ধারে হালছাড়া ওই নাও দুখানি আঁকলে যদি!

কেমন করে বাইবে তরী ঝড় তুফানে ভয়াল রাতে,
ছেঁড়া জমিন প্রলেপ মেখে আঁকলে ছবি নিখুঁত হাতে?
সুতোয় মোড়া হরেক ছবি কোনটা কালো কোনটা সাদা,
সুখের ছবি যায় না চেনা জোয়ার এলে দুখের ধাঁধাঁ!

তবুও তুমি ভালোবেসে নক্সিকাঁথায় আঁকলে ছবি,
সুচের ঘায়ে তরুলতায় পাখ-পাখালি প্রভাত রবি?
নানান ছবি আঁকলে তুমি নানান রঙে হৃদয় ঢেলে,
সেই সে তুমি ছবির ভাষা গায় জড়িয়ে হারিয়ে গেলে!

জানতে বুঝি দুয়ার খুলে পালায় স্মৃতি নিশীত রাতে,
কেমন করে কাল নাগিনী বন্ধু সেজে খড়গ হাতে?
হানলো আঘাত বুকের মাঝে, চিরচেনা সে খুনির হাতে
জানতে তুমি? কবির বুকে জ্বালবে চিতা প্রলয় শেষে!

সব কথার শেষ কথাটি কষ্ট কেন মেনেই নিতে?
কবিই পারে সাঁঝ বেলাতে বিভেদ ভুলে গড়িয়ে দিতে।
ব্যথার বালু লুকিয়ে বুকে ঝিনুক দেখো মুক্তো করে
কবিও তাই ব্যথার বোঝা হৃদয় দিয়ে আগলে রাখে।