কত পথ পেরিয়ে এলাম। আরো কত পথ চলতে হবে। নিরবধি এই চলার গতি চলছে, চলবে। এক দিন হঠাৎই থেমে যেতে হবে। এই তো বিধিলিপি। তবুও বিস্তৃত কথামালা খোঁজ করে গৌরবময় ঐতিহ্য। মন চায় নতুন করে কিছু পেতে। নতুন কিছু জানতে। কী ছিল। কেমন ছিল। এখনইবা কেমন আছি। এই যে বলছি। বলে বলে চলছি। লিখছি। এ সবই আমাদের ভাষাকে কেন্দ্র করে। পৃথিবী সৃষ্টির শুরু থেকেই ভাষার প্রচলন। ভাষা বিভিন্নতায় নিজের অবস্থান জানান দিয়ে আসছে। মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ভাষা। সৃষ্টির সৌন্দর্যের বড় একটি পাওয়া হলো মানবসৃষ্টি। সৃষ্টিকর্তা প্রাণিজগতের মধ্যে মানুষকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। এবং অন্যসব প্রাণী থেকে মানুষই একমাত্র প্রাণী যার বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যের মধ্যে অন্যতম তার ভাষা। ঘূর্ণায়মান পৃথিবীর বিবর্তনের ইতিহাসে ভাব বা কথার আদান-প্রদান অব্যাহতভাবে চলমান এই ভাষার মাধ্যমে। কোনো কিছুই সহজলভ্য নয়। শুধু সহজ করে নেয়ার কৌশল রপ্ত করতে হয়। মানুষ তাই করে আসছে। চলছে এভাবেই। অবিরত ভাষা মানুষকে সমৃদ্ধির দিকে ডাকছে।
বর্তমান পৃথিবীতে প্রচলিত ভাষার সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি। একটি শিশু পৃথিবীর বুকে আসে ভাষাকে আলিঙ্গন করেই। একটি মা তার সর্বোচ্চ মমতা দিয়ে বাচ্চাকে গর্ভে ধারণ করে। মা যখন কথা বলে গর্ভেই সে বাচ্চাটি তার মায়ের ভাষার সাথে পরিচিত হয়ে ওঠে। এটিই তার ভাষা। মায়ের মুখের ভাষাই তার মাতৃভাষা। সে শুধু ভাষাই শেখে না। সে তার প্রকৃত ভাষার সাথে বেড়ে ওঠে। অনাদিকালের এই যাত্রা চলছে এভাবেই। সত্যিকারের আনন্দ এখানেই। কারণ সম্পর্কের ডালপালায় যুক্ত হয় অনেকেই। কিন্তু মায়ের যে স্থান তা নিতে পারে না কোনো সম্পর্কই। গর্ভে একটু একটু করে বেড়ে ওঠায় মায়ের যে ভূমিকা তার কোনো তুলনা নেই। হওয়াও সম্ভব নয়। স্থান-কাল-পাত্র যাই হোক না কেন। প্রয়োজনে মা ভিন্ন দেশেও যদি থাকে সে ক্ষেত্রেও মায়ের মুখের ভাষাতেই শিশু কথা বলে। এ-ও সৃষ্টির এক রহস্য।
সময়ের সাথে অগ্রসর হওয়া জীবনের অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তি অনেক সময়েই অনেক ভাষা আয়ত্ত করেন। ভাষাপ্রীতিও থাকে অনেকের। এটি গুরুত্বপূর্ণ নিঃসন্দেহে। সময়ের প্রয়োজনও। চলমান জীবনের অংশ হতে কত কিছুই মানুষকে রপ্ত করতে হয়। জানতে হয়। শেখাতে হয়। স্বপ্ন দেখা মানুষের মৌলিক অধিকার। একজন মানুষকে বড় হতে হলে বড় স্বপ্ন বুনন চাই। সেই চাওয়াকে পূর্ণতা দিতে অনেক সময়েই নিজের ভাষার বাইরে যেতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো তা কি সত্যিকারের মন থেকে? ভালোবেসে? বিদেশে জন্ম নেয়া শিশু ও একসময় অনুভব করে তার দেশের ভাষাকে। মাতৃভাষাকে। সচকিত মন তাকে তাঁর আত্মার সাথে মিলতে উৎসাহিত করে। পৃথিবীর অবারিত সুখের ভেলায় চড়েও মানুষ ভুলতে পারে না তার শেকড়কে। তার দেশভক্তিকে। তার ভাষাকে। কারণ মানুষের ভাষাই হলো তার আত্মা এবং তার আত্মাই হলো তার ভাষা।
অনেক কথা যাই যে বলে কিছু কথা না বলে। বলতে চাইছি প্রাণের ভাষা বাংলা নিয়ে। আমার মায়ের ভাষা। আমার সন্তানের ভাষা। আমার ভাষা। সহজ করে সবই যে পাওয়া যায় তা কিন্তু নয়। আমার প্রাণের এই বাংলা ভাষাও সহজ করে পাওয়া নয়। তাকে অর্জন করতে হয়েছে। রক্ত ঝরিয়ে পেতে হয়েছে এই ভাষা। আমাদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস হলো মাতৃভাষা বাংলা রক্ষায় জীবন দেয়ার ইতিহাস। সে সময়ের কথা বলছি। বলছি যখন প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল সাধারণ। ছিল না স্যাটেলাইট, এমনকি বিনোদনের জন্য ছিল না রঙিন টিভিও। তবুও মানুষ ছিল জ্ঞানপিয়াসী। তাই তো নিজেদের তুলে ধরার প্রয়াসে, স্বকীয় ভাষায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে, জ্ঞান আহরণের অধিকার আদায়ে রফিক, সালাম, জব্বার ও বরকতসহ অনেকেই জীবন দিয়েছেন। শুধুই এ পথচলা ছিল ভাষার প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসা। অথচ কতটুকু রক্ষা করতে পারছি ভাষার এই মর্যাদা। আজো কতটা জায়গাজুড়ে অবস্থান করছে? এখনো কি আমরা পুরোপুরি বাংলা ভাষাকে সব কাজে ব্যবহার করছি? কষ্টের সাথে মেনে নিয়েই বলতে হয়, না পারিনি। আজো হয়ে ওঠেনি। তাই তো আজো সব অফিস-আদালতের ভাষা বাংলা নয়। এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে অন্য ভাষাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এটাকি প্রয়োজন। নাকি উদাসীনতা। ভাবনার বিষয় অবশ্যই।
বছর ঘুরে বছর আসে। পার হয় দিন। কেটে যায় বেলা। শুধু ভাবনাগুলো ভাবনাতেই রয়ে যায়। অবাক চোখে মাপতে হয়। উপলব্ধিও হয়। প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি এলেই আমরা ভাষাকে আপন করে নেয়ার আনন্দ খুঁজি। প্রভাতফেরির আয়োজনে যুক্ত হই শত শত মানুষ। খালি পায়ে শিশিরভেজা শ্রদ্ধা নিবেদনে ফুল নিয়ে হাজির হই। এক টুকরো আবেগে ছোট-বড় সকলে মিশে যাই ভাষাকে আপন করে নেয়ার আনন্দে। কিন্তু বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে ওঠে। আলোকিত দিন যেখানে আরো নতুন উপলব্ধি এনে দেয়ার কথা। পুরাতন গল্প আবার নতুন করে বলা বা শোনার অংশ হওয়ার কথা। তা না হয়ে সবার পায়ে পিষ্ট হতে দেখা মিলে ফুলগুলোর। শুধুই কি ফুল পিষ্ট হয়! নাকি এর সাথে পিষ্ট হয় আমাদের সম্মানও। অনুষ্ঠানসর্বস্বই যদি হয়ে থাকে এ আয়োজন তবে বড়ই লজ্জার। কষ্টের। পৃথিবীর সব জাতি-গোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। এটা আমাদের গৌরব। আমাদের বাংলা ভাষার অলংকার। আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ আলতাফ মাহমুদের সুরের এই গান এতটাই সাড়া জাগানো, এতটাই প্রাণের যা সেই থেকে অদ্যাবধি একইভাবে বয়ে চলছে। আজো আমাদের চেতনাকে শাণিত করছে। তাই বলব আমাদের এই প্রাণের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। জাতীয় রূপে ভাষাকে দেখতে চাই সবাই। কিন্তু অজান্তেই বাংলিশ হয়ে থেকে যাচ্ছি। এর থেকে পরিত্রাণের কি কোনো পথই নেই? প্রশ্ন যেন আমাকেই করছি? উত্তরে বলবো কিছু। বলবই, নিশ্চয়ই আছে। থাকবেই। শুধু প্রয়োজন আমাদের সচেতনতার। সঠিক উপলব্ধির। এবং সত্যিকারের কিছু করার। সময় বড় কঠিন। বড় নির্মম। আবার সময়ই আনন্দ জোগায়। কারণ বয়ে চলাই এর কাজ। থামবে না সে কারোরই জন্য। তাই ভাবনার সাথে সাথে পারতে হবে। হবেই। আজ। না হয় আগামীকাল। কিন্তু শুরু করতে হবে ভাবনার শেষ হতেই। এই উদ্যমতাই এক দিন আমাদের ভাষাকে জাতীয় রূপে আপন করে নেয়ার শক্তি জোগাবে।
জীবনের দৌড়ে কেউ সামনে এগিয়ে কেউবা পিছিয়ে। কিন্তু গতিশীল সবাই। কারণ খেতে হলে উঠতেই হবে। কিছু করতেই হবে। জীবনকে জীবনের করে নিতে হবে। সবকিছুই আমাদের ভাষাকে সাথে নিয়ে। এখানেই ভেবে দেখার বিষয়। আমরা কতজন আছি যারা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলি। আঞ্চলিকতা আমাদের ঐতিহ্য। এরও নিজস্ব গুরুত্ব অবশ্যই রয়েছে। কিন্তু জাতীয় রূপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা আমাদের মানা উচিত। শিক্ষিত সমাজের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। কারণ এই বাংলা ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে অনেক মায়ের সন্তানেরা। এ শুধু আবেগ নয়। নয় শুধু একটি বাক্য। এর ব্যাপকতা অনেক। সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রে প্রয়োজন শুদ্ধ বলার চেষ্টা করা। শুদ্ধ ও প্রমিত বাংলার চর্চা করা। প্রয়োজনে ইংরেজিসহ অন্য ভাষায়ও অনুলিপির ব্যবস্থা করা। আমাদের মাতৃভাষায় যা আমরা খুব সহজে রপ্ত করতে পারি তা কি অন্য কোনো ভাষায় পারি? না কিন্তু। বিজ্ঞান-প্রযুক্তিগত উন্নতি করতে চাইলে অবশ্যই আমাদের নিজেদের ভাষায় আমাদের চর্চা করতে হবে। যেমনটি বিশ্বের উন্নত অনেক দেশ শুধুমাত্র তাদের মাতৃভাষাকে প্রাধান্য দিয়ে আজ সফলতার শীর্ষে। সময়ের গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধিই ভাষা। তবেই একটি আগামী ভোর আমাদের শ্রদ্ধার হয়ে উঠবে।
রাষ্ট্রভাষা হিসেবে জাতিকে উন্নতির শিখরে নিতে শিক্ষার ভূমিকাই অগ্রগণ্য। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সফরে আমরা কতটা জাতীয় ভাষায় কথা বলি? একটা বিষয় কি খেয়াল করা আবশ্যক নয়? পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে সেই দেশের ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেই যেতে হয়। চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরানসহ আরো অনেক দেশ শুধুমাত্র তাদের ভাষায় জ্ঞানার্জন করে সফলতার শীর্ষে। কারণ তারা তাদের মাতৃভাষাকে শুধু ভালোবাসে তা নয়; বরং যথাযথ মর্যাদা দেয়ার জন্য বদ্ধপরিকর। আর আমাদের দেশে এখনো উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে ইংরেজিই প্রাধান্য পেয়ে আসছে। যেখানে নিজের ভাষায় নিজেকেসহ পুরো দেশকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে হবে। অথচ অবলীলায় আমরা একজন সিলোটি, একজন চট্টগ্রামের ভাষায় অভ্যস্ত। এতটুকুও কষ্টবোধ হয় না। ফলে বিশ্বের দরবারে আমরাই আমাদের ভাষাকে অজান্তেই খাটো করে ফেলছি। ফেলছি কারণ, কখনো কখনো বিভিন্ন দেশ থেকে আগত পর্যটকরা অনায়াসে এ প্রশ্ন তোলেন। জানতে চান আমরা কেন শুদ্ধ বাংলায় কথা বলি না। কেন মিশ্রিত ভাষা ব্যবহার করি। এ কি শুধুই লজ্জার, কষ্টের নয়? শিক্ষণীয় অবশ্যই। এটাই সত্যি স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে একুশের অম্লান চেতনা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগ আজ কতটা সফল? একুশের চেতনায় আমরা আজ কতটা জাগ্রত? ভাষা আন্দোলন ও অর্জিত ভাষার অধিকারকে আমরা অবজ্ঞা করেই এগিয়ে যাচ্ছি আগামীর পথে।
বাংলা ভাষার আরো একটি বিষয় খুবই ব্যতিক্রম। এ ভাষায় অনেক ভাষার ছোঁয়া আছে। বিদেশী ভাষাকে আলিঙ্গনের মাধ্যমে ঋদ্ধ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা অনন্য। ফরাসি, ফারসি, ওলন্দাজ, হিন্দি, ইতালিয়ান, তুর্কি, পাঞ্জাবি, চায়না, জাপানি, গ্রিকসহ আরো এমন অনেক বিদেশী ভাষার শব্দ দেখতে পাওয়া যায়। প্রায় সাড়ে ছয় শত বছর এ দেশের অফিস-আদালতের ভাষা ছিল ফারসি। পৃথিবীর প্রায় সব ভাষাই কোনো না কোনোভাবে ভিন্ন ভাষার দ্বারা প্রাণিত। একে অপরের পরিপূরক। যুগপ্রবাহে কবি-সাহিত্যিকদের লেখনীতে বাংলা ভাষা অনন্য মাত্রায় যুক্ত। কবি নজরুল, ফররুখ আহমদসহ আরো অনেক কবি-সাহিত্যিকের লেখনীতে বাংলার নানান রূপ আমরা দেখি। সমৃদ্ধ হই। এভাবেই আমরা আমাদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারি। কবিতা-গল্প-উপন্যাস যাই হোক সবকিছুতেই ভাষার যে পরিচয় পাওয়া যায় সে বিষয়েই সামনের দিনে নতুন কিছু সৃষ্টি শুধু সময়ের কাজ।
পৃথিবীর নানাপ্রান্তে ছড়িয়ে আছে বাংলা ভাষা। সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি কোনো কিছুতেই পিছিয়ে নেই। বরং সুনাম কুড়িয়ে আনছে দেশের জন্য। এ আমাদের গর্ব। যে ভাষার জন্য একসময় জীবন দিতে হয়েছিল সেই ভাষাকে ভালোবাসার আনন্দ সত্যিই অন্য রকম। যারা আবৃত্তি করেন তারা কিন্তু শুদ্ধ উচ্চারণই করেন। শেখাচ্ছেনও শুদ্ধ। বিশেষত অফিস-আদালতসহ জরুরি প্রতিটি জায়গায় প্রয়োজন শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা। আমরাই যদি আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলাকে মর্যাদার শিখরে না তুলি তাহলে কে দেবে? আদৌ কি দেবে? তাই স্কুল থেকেই এ বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কোমলমতি শিশুরা কাদামাটির মতো। তাদের যা বলা হবে তারা তা অনুকরণ করবে। শিখবে। আনন্দ পাবে। শুধু উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব এ ক্ষেত্রে একটু বেশি। প্রাণের ভাষার অবহেলা দূর করতে তারাই পারে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে। তাহলেই প্রতিটি সেক্টরে প্রতিটি বিষয়ে আমাদের ভালোবাসায় উচ্চারিত হবে শুদ্ধ বাংলা। নিশঙ্কচিত্তে বলতে চাই এই ভাষাই আমাদের অলংকার। বাংলা ভাষায় গবেষণার কাজে মনোযোগী হলে আমাদের গৌরব আবার আমাদের হবে। সমৃদ্ধ শুদ্ধ বাংলা ভাষা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার দৃঢ় সংকল্প হোক একুশের চেতনায়। কবি আল মাহমুদ কত স্পষ্ট উচ্চারণে ‘একুশের কবিতায়’ বলেছেনÑ
‘পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়,
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন,
পরলো তারই ভগ্নী।
প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী,
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।’ হ
কত পথ পেরিয়ে এলাম। আরো কত পথ চলতে হবে। নিরবধি এই চলার গতি চলছে, চলবে। এক দিন হঠাৎই থেমে যেতে হবে। এই তো বিধিলিপি। তবুও...
