মানুষের আলোকিত জীবনের একমাত্র উপকরণই হচ্ছে বই। জ্ঞানচর্চা মানুষকে যেমন মহৎপ্রাণ করে তোলে, তেমনি চিত্তকে মুক্তি দিয়ে জীবনবোধে বিকশিত করে তোলে মানবাত্মাকে। অবসর সময়গুলো বিনোদনের মাধ্যমে কাটানোর জন্য কত কিছুই না আবিষ্কৃত হয়েছে এই পৃথিবীতে কিন্তু বই পড়ার মতো নির্মল আনন্দ আর কোনো কিছুতেই খ্ুঁজে পাওয়া যায়নি। বেশি বেশি বই পড়েই কেবল জীবনের শুদ্ধতম আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়। নতুন প্রজন্মকে যত বেশি বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলা যাবে, ততই তারা জ্ঞানসমৃদ্ধ হয়ে নিজেকে একজন আলোকিত মানুষরূপে গড়ে তোলার সক্ষমতা অর্জন করবে। একটি ভালো বই যেকোনো সময় যেকোনো মানুষকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিতে পারে। দুঃখ-কষ্ট, স্বপ্নভঙ্গের হতাশা, মানসিক অসুস্থতা এসব থাকতেই পারে যে কারো জীবনে। একটি অগোছালো জীবনে শৃঙ্খলা আনতে পারে কেবলই বই। মানুষের জ্ঞানের পরিধি না বাড়ালে সে কখনো আত্মপ্রত্যয়ী, সহনশীল, সহমর্মী, বিবেকবান মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। বইবিমুখ হলে অন্ধকারেই হাতড়ে বেড়াতে হবে একটি জনম। তরুণদের স্বাস্থ্য সঙ্কট মোকাবেলায় বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। তরুণরা তাদের প্রাত্যহিক জীবনে যে বিষয়গুলোর সাথে প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করতে হয়, সেগুলো মোকাবেলায় একজন বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো সাহায্য করতে পারে একটি ভালো বই।
আমাদের সন্তানদের হাতে বই তুলে দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই নিতে হবে। আমরা যারা অভিভাবক আছি আমাদের সবার উচিত তাদের আলোর সাথে, ভালোর সাথে সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়া। তাদের প্রতিটি পুরস্কার, প্রতিটি উপহারই হোক বই।
বই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই যন্ত্রনির্ভর সভ্যতায় আমাদের সন্তানরা যেন বড় আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ও মানবিক মূল্যবোধহীন মানুষরূপে নিজেকে গড়ে নিতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এটা ভুলে গেলে চলবে না, শিশু-কিশোরদের শিক্ষায় ও গুণে একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই।
মানুষের আলোকিত জীবনের একমাত্র উপকরণই হচ্ছে বই। জ্ঞানচর্চা মানুষকে যেমন মহৎপ্রাণ করে তোলে, তেমনি চিত্তকে মুক্তি দিয়ে জীবনবোধে বিকশিত করে তোলে মানবাত্মাকে। অবসর সময়গুলো বিনোদনের...
