যদিও মাছ ধরতে পারি না। কিন্তু নানা ভাইয়া খুব ভালো মাছ ধরেন। একদিনের জন্য নোয়াখালী যাওয়া। বছরে একবার যাওয়া পড়ে। তবে সেবার তিন বছর পরে যাই। সব বারের মতো এবারো বড় মা মহা খুশি। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে কখন আমরা যাব এই অপেক্ষায়। দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষ হতেই নানা ভাইয়া বলে উঠল বুবুমনি চল আজ তোকে মাছ ধরা শিখাব। আমি ও বেশ রাজি হয়ে গেলাম। বেশ আয়োজনে করে আমি, নানা ভাইয়া আর মাসুম আংকেল মাছ ধরতে গেলাম। বাবাও পিছু পিছু এলেন মুহূর্তগুলো ছবিতে ফুটিয়ে তুলবে বলে। নানা ভাইয়া লিজাকে বলল দুটো চেয়ার দিয়ে যাও। লিজা তাই করল।
এবার শুরু হলো মাছ ধরা। নানা ভাইয়া আমার বড়শি তৈরি করে দিলো যেহেতু আমি কিছুই পারি না। এমনকি বড়শি পানিতে ফেলেও দিলো। এবার শুধু ধৈর্য ধরতে হবে। আমার তো ধৈর্যের ছিটেফোঁটাও নেই । ৫ মিনিট পর শুরু হয়ে গেল আমার অস্থিরতা। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে আমাকে রাখা হলো। বেলা প্রায় শেষের দিকে । নানা ভাইয়া মাছ ধরেছে তিনটি। মাসুম আংকেল একটি। আর আমার বড়শিতে একটা মাছও উঠল না। বেশ বিরক্ত হয়ে বাড়ি এলাম। বড় মা বললেন, মাছগুলো হলুদ-মরিচ দিয়ে ভেজে দে তো। বড় মার আদেশে তাই করা হলো। রাতে সেই মাছ ভাজা দিয়ে মজা করে ভাত খেয়ে বড় মার পাশে শুয়ে শান্তির ঘুম দিলাম। বড় মার বিড়ালটি সেদিন আমার পায়ের কাছে ঘুমাল। সেদিন বড় মা কি খুশিটাই না হলো আমি তার পাশে ঘুমিয়েছি বলে। খুব হাসাহাসি করল আমার সাথে। কে জানতো সেটাই আমার সাথে বড় মার শেষ ঘুম!
