ফাগুন এসেছে প্রকৃতিতে। বলা হয় ‘ফাগুন মাসে আগুন ঝরে’। আসলেও তাই। ফাগুনের এই দিনগুলোতে সূর্যের তাপের প্রখরতা যেমন বেড়ে যায় তেমনি গাছপালাগুলো হয়ে যায় পাতাশূন্য। বসন্তের এই লগ্নে পাতাশূন্য গাছগুলো যেন ঠাঁয় এক পায়ে নিস্তব্ধ-নীরব হয়ে আনমনে দাঁড়িয়ে থাকে। কারণ বসন্তে সে তার রূপ-লাবণ্য হারিয়ে আবার নব যৌবনের অপেক্ষায় থাকে। অপেক্ষায় থাকে মানুষের মনে দৃষ্টি নান্দনিকতার ছোঁয়া লাগাতে।
ঋতু বদলের পালাক্রমে প্রকৃতিতে আসে ভিন্নতার ছোঁয়া। গাছে গাছে ফোটে নানা রকম ফুল। হরেক রকম ফুলের সুবাস ভেসে আসে বাতাসে। আর সেই ফুলের সুবাসে মন মাতোয়ারা হয়ে যায়, প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। অজানা এক আনন্দ জায়গা করে নেয় মনের কোণে, হৃদয়ে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ বয়ে যায়।
মাঠ-ঘাট শুকনো চাদরে ঢাকা থাকে। মেঘ থাকলেও বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। সূর্যের আলোর রুক্ষতায় ঘাম ঝরে জমিতে কাজ করা কৃষকের। ঘাম ঝরে যেন বৃষ্টির পানি গা দিয়ে গড়িয়ে পড়ার মতো। তবুও সূর্যের রুক্ষতা যেন একটুখানিও ম্লান হতে চায় না। ফাগুনের সূর্য যেন তার রূপ-তেজ দেখাতেই বেশি ব্যস্ত। তার আলোর ঝলকানিতে গরমে ক্লান্ত মানুষজন তবুও তার একটুখানি মায়া নেই সেই তপ্ত-রুক্ষ মরুর সূর্যের মতো। যা মরুর বালুকে পরিণত করে উত্তপ্ত গলিত লাভার ন্যায় তেজস্বী আর উষ্ণ।
গাছে গাছে ফুটছে গোলাপ-গাঁদা-বেলি। ছড়াচ্ছে মন ভোলানো সুবাস। উষ্ণতার চাদর ভেদ করে সেই ফুলের সুবাস ভেসে আসা বাতাস যেন গায়ে একটুখানি শান্তির পরশ ভুলিয়ে দিয়ে যায়। তপ্ত রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটতে হাঁটতে কৃষকের পা যেন পুড়ে যাচ্ছে তবুও সেই পথেই হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির দিকে যাত্রা করছে কৃষক। দুপুর গড়িয়ে আসছে এবার সূর্যের রুক্ষতা একটু কমবে মনে হয়। মাঠে-মাঠে হাওয়ার দোলানিতে দুলছে সোনার ফসল। সব ক্লান্তি ভুলে এক মুহূর্তের জন্য কৃষক যেন বুঁদ হয়ে থাকেন তার সোনার ফসলের দোলার সেই মুগ্ধতায়।
ফাগুনের দিনে পড়ন্ত বেলায় ঘুরতে বের হলেই দেখা মিলবে ফাগুনের চির অনিন্দ সৌন্দর্যের। পাতাশূন্য গাছগুলো ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থেকে যেন আনমনা হয়ে আছে। কেউ তার প্রশংসা করে না, কেউ তার দিকে মুগ্ধতার দৃষ্টিতে তাকায় না তাই তার মন খারাপ। তবুও নব যৌবনের অপেক্ষায় প্রহর গুনতে থাকে সে। হরেক রকমের পাখির বাসা তার ডালে। পাতাশূন্য হয়ে যাওয়ায় পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পাখির বাসাগুলো যেন আর লুকোচুরি খেলতে পারছে না। পাড়ার দুষ্ট ছেলেরা দেখে ফেলবে তাদের বাসা, আর একদিন ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে তার ছোট ছোট বাচ্চাগুলোকে। এ আশঙ্কায় পাখি এগাছ ছেড়ে অন্যগাছে বাসা বাঁধার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তাই গাছের মন খারাপ। ফাগুনের পড়ন্ত বিকেলে এমন মন ভোলানো দৃশ্যের দেখা মিলতে পারে অপার সবুজের পল্লীগাঁয়ে।
ফাগুনের একটি পড়ন্ত বিকেল যে কারো কাছে হতে পারে উপভোগ্য আর অতুলনীয় অনুভূতির। ফাগুনের আগুন ঝরা দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই লেখার ইতি টানলাম।
ফাগুন এসেছে প্রকৃতিতে। বলা হয় ‘ফাগুন মাসে আগুন ঝরে’। আসলেও তাই। ফাগুনের এই দিনগুলোতে সূর্যের তাপের প্রখরতা যেমন বেড়ে যায় তেমনি গাছপালাগুলো হয়ে যায় পাতাশূন্য।...
