প্রথম কলি
নূর সিরাজী
সন্ধ্যেবেলা বন্ধ খেলা
এবার বাড়ি চলো,
হাত-পা ধুয়ে বইটি নিয়ে
বাংলা ছড়া বলো।
খোকা পড়ে খুকি পড়ে
ক-তে কাঁঠাল ওই,
মাতৃভাষা মেটায় আশা
ব-তে বাংলা বই।
একুশে আসা বাংলাভাষা
ঊষার নব রবি,
ভাষার জ্ঞানে ছন্দ দানে
অমর কত কবি!
দুঃখ, সুখে বাংলা মুখে
বলতে ভালোবাসি,
শহিদ প্রতি শ্রদ্ধা অতি
জানাই বাংলাবাসী।
প্রথম কলি শিশুর বুলি
মা মা ডাকেই ফোটে,
একুশ আসে বাংলা হাসে
বিজয় জেগে ওঠে।
প্রিয় স্বদেশ
বিল্লাল মাহমুদ মানিক
সবুজ-শ্যামল বাংলা আমার
ফুল-ফসলের যৌথখামার
অলি-ভ্রমর প্রজাপতি
উড়ে সারাক্ষণ,
পাখপাখালির গানের সুরে
যায় হারিয়ে মন।
নদীনালা খালেবিলে
হরেক মাছের দেখা মিলে
সাগরজুড়ে বিচিত্র সব
প্রাণীর চলে খেলা,
জলের বুকে ভাসায় কিশোর
কলাগাছের ভেলা।
না ফেলে দুই চোখের পলক
বাংলা মায়ের রূপের ঝলক
যতই দেখি ভালো লাগে
হয় না দেখার শেষ,
সকল দেশের রাণী প্রিয়
স্বপ্ন সোনার দেশ।
রবের পথে
মাফরুহা তাবাসসুম
ঐ যে পাশের খেয়াঘাটে,
সারি সারি নৌকা বাঁধা।
সূর্য যখন জাগবে পুবে,
সাজিয়ে নিয়ে মনের কথা,
ডিঙি নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে
পদ্ম দিঘির পানে,
গলা ছেড়ে গাইব তখন,
দুনিয়াতে মত্ত যখন
মাতিয়ে দিবো সকলেরে,
মহান রবের গানে।
বেলা শেষে যখন তরী
ফিরবে খেয়াঘাটে,
শুনব তখন মধুর আজান
বাজছে যেন তটে।
ক্ষণিক সময় পরে,
নিদ্রা ঝেড়ে, তন্দ্রা মুছে
উঠব আবার জেগে,
পড়ব ফজর, আসব আবার
খেয়াদিঘির ঘাটে।
এমনি করে ছুটব আবার
ফের বাড়াব পা,
মহান রবের দয়ার কথা
শেষ তো হবে না।
আয়রে পাখি
সোমা মুৎসুদ্দী
আয়রে পাখি গান শোনা
স্বপ্ন সুরের জাল বোনা।
আয়রে নদীর টানে আয়
ভাটিয়ালির গানে আয়।
প্রজাপতির রঙিন পাখা
স্বপ্ন কাজল যেন মাখা।
নদীর তীরে কাশের বন
ছুটছে যেন কিশোর মন।
দূরের মাঠের কানামাছি
বন্ধু সবাই কাছেই আছি।
সকাল হলে ফুল তুলি
রঙিন মনের দোর খুলি।
নদীর বুকে নৌকা সারি
দূরের গাঁয়ে আমার বাড়ি ॥
মাটির টানে দেশের টানে
ভরাব প্রাণ দেশের গানে।
একাত্তরে স্বাধীন হলাম
তৈয়বুর রহমান ভূঁইয়া
সকাল হলে দাঁড়াই যখন জানালাটার পাশে,
আমায় দেখে সূয্যি মামা কেমন যেন হাসে।
বলে ডেকে, ‘ওগো খোকা, তুমি কি আর বোকা!
দেখো না ওই বাগানে ফল ঝুলছে থোকা থোকা?’
ঘরের ভেতর আর থেকো না যাও গো তুমি ছুটে,
সবার আগে গিয়েই তুমি সবগুলো নাও লুটে।
শোনো না রোজ ভোরটা হলেই তোমায় ডাকে পাখি?
বলে আরো আলো-ছায়ায় করতে মাখামাখি।
বন্দি পাখির মতো তবু ঘরেই কেন থাকা?
রঙিন খাতায় হোক তবে আজ সুখের ছবি আঁকা।
মাঠ ছাড়িয়ে ঘাট ছাড়িয়ে সব ছেড়ে দূর বনে,
ইচ্ছেমতো বেড়াও ঘুরে রাগ রেখো না মনে।
মাকে গিয়ে বলো, ‘ও মা, দাও গো আমায় ছুটি,
ফুল-পাখিদের সাথে না হয় করি লুটোপুটি।’
একটু না হয় আকাশ পেরোই হয়ে রঙিন ঘুড়ি,
মেঘের সাথে হোক না তবে হাওয়ায় ওড়াউড়ি।
যতই মা আজ আটকে রাখো শুনব না কো বারণ,
একাত্তরে স্বাধীন হলাম এটাই যে তার কারণ।
