আহা- রাঙা পলাশ! নামটি শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে আবহমান বাংলার দারুণ চিত্র। একই সাথে একটি গান হৃদয় থেকে চলে আসে অনায়াসে-
হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল
এনে দে এনে দে নইলে
বাঁধব না, বাঁধব না চুল...
গানটি লিখেছেন আমাদের প্রিয় কবি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। থেমে থাকেননি আরেক প্রিয় কবি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর! তিনিও লিখেছেন-
‘রাঙা হাসি রাশি রাশি, অশোকে পলাশে...’
এ ছাড়া আমাদের বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি দেশাত্মবোধক গানেও প্রিয় পলাশের উল্লেখ পাওয়া যায়-
‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটি পলাশ ফুলের মালা...’
শুধু কী গান কবিতা ও সাহিত্যে! আবহমান বাংলার নিজস্ব সৌন্দর্যে!! অশেষ বিশেষ ঔষধি গুণও রয়েছে, রয়েছে কাঠের ব্যবহারেও যথেষ্ট কদর। কাজেই পলাশ, পলাশ ফুল আমাদের বাংলার বাংলা ভাষার নিজস্ব সম্পদ। এই সম্পদের যথাযোগ্য মর্যাদার জন্য আমাদেরই ভাবতে হবে, জানতে হবে।
পলাশ মাঝারি আকারের পর্ণমোচী বৃক্ষ। এটির বৈজ্ঞানিক নাম ইঁঃবধ সড়হড়ংঢ়বৎসধ। বৃক্ষটি ঋধনধপবধব পরিবারের সদস্য। তবে পলাশ গাছ তার ফুলের জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সংস্কৃতিতে এটি কিংশুক এবং মনিপুরী ভাষায় পাঙ গোঙ নামে পরিচিত।
পলাশ গাছ সর্বোচ্চ ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়ে থাকে। শীতে গাছের পাতা ঝরে যায়। এর বাকল ধূসর। শাখা-প্রশাখা ও কাণ্ড আঁকাবাঁকা। নতুন পাতা রেশমের মতো সূক্ষ্ম। গাঢ় সবুজ পাতা ত্রিপত্রী, দেখতে অনেকটা মান্দার গাছের পাতার মতো হলেও আকারে বড়।
বসন্তে এ গাছে ফুল ফোটে। টকটকে লাল ছাড়াও হলুদ ও লালচে কমলা রঙের পলাশ ফুলও দেখা যায়। পলাশ ফুল ছোট, ফুল দুই থেকে চার সেন্টিমিটার লম্বা হয়।
পলাশের ফল দেখতে অনেকটা শিমের মতো। বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গায় কমবেশি পলাশ গাছ দেখতে পাওয়া যায়। পলাশেরা ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
ইট-কাঠের জঙ্গল আর খোঁড়াখুঁড়ির যন্ত্রণায় রাজধানীবাসীর মনে প্রশান্তির দোলা দেয় প্রকৃতির এই নৈবেদ্য। মহানগরীর হাতিরঝিল, রমনা পার্ক, বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরলেই দেখা মেলে বাহারি সব পলাশ আর বাসন্তি ফুলের।
আসলে শহরে এই পলাশ ফুলদের দেখা গেলেও গ্রামাঞ্চলেই তার আসল সৌন্দর্য ফোটে ওঠে। কোনো কোনো পলাশ বাড়ির আকাশে মনে হয় যেন আগুন লেগেছে! এই আগুন ফাগুনের এই আগুন পলাশের।