নদীর তীরের ঘন বনে। সেখানে বাস করে অনেক বানর। আর নদীতে বাস করে এক কুমির। বানর কুমিরের গভীর বন্ধুত্ব। কুমিরের পিঠে বানর ঘুরে বেড়ায় নদীতে। বানরের দল সাঁতার জানে না। কুমির তাদের সাঁতার শিখাল। এক দিন কুমিরের মনে হলো, সে বনের সব বানরকে সাঁতার শিখিয়েছে। বিনিময়ে তো সে কিছুই পেল না। এ কথা ভেবে কুমিরের খারাপ লাগল। সে ভাবতে লাগল, বানর থেকে বিনিময়ে কী শেখা যায়। গান? নাহ, বানরদের সুর বেশ বিশ্রী।
সে ভাবতে লাগল। ভাবতে ভাবতে সে লাফিয়ে উঠল। পেয়েছি, গাছে উঠা শিখব। ভেবেই কুমির খুব খুশি। সে-ও বানরের মতো গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়াবে।
পরদিন খুব তাড়াতাড়ি কুমির নদীর কিনারে এসে বানরকে বলল, শুনো বন্ধুরা, আমি তোমাদের সবাইকে সাঁতার শিখিয়েছি? পিঠে নিয়ে নদীতে ঘুরাই। বিনিময়ে তোমরা আমাকে কি দেবে?
বানরের দল চিন্তায় পড়ল। হ্যাঁ তাই তো, এমন করে ভাবিনি কখনো। কী দেয়া যায় কুমিরকে? বানরদের বেশিক্ষণ ভাবতে হলো না। কুমির নিজেই বলল, বিনিময়ে কি পেতে চায়। বলল, তোমরা আমাকে গাছে উঠা শেখাও। আমার খুব ইচ্ছে। তোমাদের মতো গাছে গাছে লাফাতে। বানরের দল আনন্দে ফেটে পড়ল। হ্যাঁ তাই তো, কুমিরকে গাছে উঠা শেখাতে হবে।
কুমিরকে নিয়ে তারা একটা গাছের তলায় উপস্থিত হলো। তারা এবার সভায় বসল, কে শেখাবে। বানরদের মধ্যে যারা বেশি শক্তিবান তাদের ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত হলো। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কিভাবে শেখাবে? বানরের সভায় দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলো। কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারল না। তারা কিছুতেই কুমিরকে গাছে উঠা শেখানোর উপায় পেল না। কুমির কটাক্ষ করে বলল, আমি তোমাদের সাঁতার শেখাতে পেরেছি। আর তোমরা কি না আমাকে কিভাবে গাছে উঠা শেখাবে তার উপায় ঠিক করতে পারছ না। শোনো, এটা তো সহজ, তোমরা আমাকে লাফানো শেখাও। যেভাবে তোমারা লাফিয়ে গাছে উঠো। ঠিক হলো চারজনে ধরে কুমিরকে টেনে গাছে ওঠাবে। কিন্তু বানরের দল অনেক চেষ্টার পরও সফল হলো না। টানা হেঁচড়ায় কুমিরের শরীর ব্যথা হয়ে গেছে। গাছে উঠাতো দূরের কথা, জায়গা থেকেও কুমিরকে নাড়ানো গেল না। কুমির বলল, বুঝেছি। তোমরা পারবে না। কী আর করা, তবে একবারের জন্য হলেও আমাকে গাছের ঢালে উঠাও। স্বপ্নটা একবারের জন্য হলেও পূর্ণ হোক। বানরের দল ভাবনায় পড়ল। কুমির তাদের সবাইকে সাঁতার শেখাল। আর তারা কি না সবাই মিলে একটা কুমিরকে গাছে ওঠা শেখাতে পারছে না। যে করেই হোক, একবারের জন্য হলেও কুমির বন্ধুর ইচ্ছেটা পূর্ণ করতে হবে। বানর দল এবার ঠিক করল, সবাই মিলে এক সাথে কুমিরকে ধরে গাছের ঢালে লাফিয়ে উঠবে, যা ভাবল তাই করল তারা। কেউ ধরল কুমিরের পা, কেউ গলা, কেউ আঁকড়ে ধরল শরীর। এক দুই তিন বলেই দিলো লাফ। এক লাফেই সবাই গাছের ডালে পৌঁছাল ঠিকই। কুমির পৌঁছাল না। কুমির বেচারা মরার মতো পড়ে আছে নিচে। আছাড় খেয়ে হাড্ডি ভাঙল তার। কুমির বেঁচে আছে কি মরে গেছে বোঝা গেল না। বানরের দলের খুব মন খারাপ হলো। কুমির বন্ধুর প্রতি শেষ দায়িত্ব পালন করতে চাইল তারা। কুমিরকে টেনে নিয়ে জলে ফেলে এলো। দূর থেকে দাঁড়িয়ে সব দেখছিল শেয়াল। সে সবাইকে উদ্দেশ করে বলল,
আপন জায়গায় সেরা সবাই,
আপন জায়গায় বড়
বুদ্ধিমানরা কাজের আগে
ফল চিন্তা কর।
