আসাদ চৌধুরী
উৎসবের আগে

মেঘেদের পরামর্শ অনায়াসেই নিতে পারতাম,
তাই তো ক’রে এসেছি এত কাল।
তাড়া বেশি ছিল,
দেওয়ালের ঘড়ির কাঁটার দিকে তাকিয়েই
ছুটতে হ’লো।
আকাশের দিকে তাকাতে পারিনি।
প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে
পক্ষপাত বলে কিছু নেই-
যা হওয়ার তাই হ’লো
এ সময় শরীরে এসব ধকল সয় না।
নদীর জানালা দিয়ে উঁকি দিতে ভুলে যায়
অনেক মানুষ,
মনের জানালা কেউ কেউ
চিরকাল বন্ধ রেখেই চ’লে যায়-
কেউ কেউ বন্ধ রেখেই চ’লে যায়।
মেঘের মায়াবী চাবি খোয়া যায়-
কেউ কেউ ফিরে পায় বিরহের
রুপোলি সন্ধ্যায়।
উৎসবের আগে
সর্দি-কাশি, গলা ব’সে যাওয়া
মোটেও খুশির কিছু নয়।

 


শাহীন রেজা
স্বাধীনতা

পালক ছুঁয়ে নেমে আসছে কিছু রোদ,
পাখিটা উড়ছে
তার ছায়ার নিচে ঘন হচ্ছে সকল নদী; সব পথ
মুছে যাচ্ছে সীমান্ত রেখা,
চোখে চোখ রেখে একই ধ্বনি
মন্ত্রমুগ্ধের মতো জপছে মানুষ,
বৃক্ষ এবং সকল প্রাণীকুল
পাখিটা উড়ছে
তার পাখায় লেগে থাকা পবিত্র রোদ
গ্রাস করছে পৃথিবীকে,
পাখিটা উড়ছে...

 

শাহাজাদা বসুনিয়া
পতাকায় লেখা একটি মর্মকথা

কিশোরীর হাতে একটি নতুন পতাকায়
আজ খবর এসেছে, দারুণ খবর!
পতাকায় লেখা আছে সকল
দেশ ও জাতির একটি মর্মকথা,
ঔৎসুক জনতা তাকিয়ে আছে
হৈ-হুল্লোড় চারিদিকে, সবাই কিশোরীর
খোঁজে, পতাকা হাতে সে দণ্ডায়মান
দাঁড়িয়ে থাকে অনড়, একাকী জগদ্দল
অনেকেই বিস্মিত। এ কেমন মর্মকথা!
দেশ-জাতি-বর্ণ-গোত্রে নেই ভেদাভেদ
সকল মানুষ এক আকাশ
সুনীল ছায়ায়, পূর্ণিমাঝরা শুভ্র মায়ায়
আয়ুষ্কালের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে
ভেসে ওঠে ওই মর্মকথা
পতাকাহাত তুলে ধরে কিশোরী
ভীরু থেকে আত্মপ্রত্যয়ী হয় প্রাণেশ্বরী
কিশোরীর দীর্ঘশ্বাসে ওই মর্মকথা
মিলিয়ে যায় মহা অসীমতায়
মর্মকথায় বিচারের বাণী তার
ঠোঁটে বেজে ওঠে সৃষ্টিকর্তার প্রার্থিত আশ্রয়।

 


সায়ীদ আবুবকর
বিপ্রতীপ

এক : হে প্রিয়তমা
তুমি হতে চেয়েছিলে প্রিয়তমা;
কিন্তু অবশেষে গিন্নি হয়ে তুললে বাতাসে ঝড়।
সে-ঝড়ে এখন আমার হৃদয় কাঁপে।

দুই : হে কবি
কবি হতে গিয়ে বুদ্ধিজীবী হয়ে গেলে তুমি।
এখন তোমার মুখটাই শুধু চলে, কারণ তোমার
কলম শুকিয়ে হয়ে গেছে মরা খাল।

 


আবু হেনা আবদুল আউয়াল
পুষ্প কল্পনা-রাজ্যে

পুষ্প কল্পনা-রাজ্যে
রাতভর কবির নীরব বিচরণ ...
মধ্যে দেখেন সিনারি অনেক-অগণন
অবিশ্বাস্য কত ঘটনার সাক্ষী তিনি
অভিজ্ঞানে ভরা তাঁর মস্তিষ্কের
প্রতিটি প্রকোষ্ঠ, মহাশূন্যের ভেতর
যেন গ্যালাক্সিরা উল্টো আবর্তিত
কবির দু’চোখ মৃত্তিকার বহু ঊর্ধ্বে-
ঊর্ধ্বলোকে কী খোঁজেন রাত-বিরাত
কী জিন্দি কী জিৎ কবি
নেটওয়ার্কের ভেল্কিবাজি দমাতে পারে না
কবিতা লেখার জন্মস্বাধীনতা

একদিন সারারাত
বৃষ্টি পড়েছিল হৃদয়-উঠানে
ভোরে ভোরে কবিতার ঝুড়ি হাতে
আমার দুয়ারে কবি

 


মোশাররফ হোসেন খান
মানুষের সপক্ষে

পৃথিবী কোথাও থেমে নেই, কারো জন্য
না শোকে, না বেদনায়।
উড়ছে স্মৃতির মেঘ পতাকার মতো।
গভীর থেকে গভীরে যাচ্ছে রাত
চলছে কালপ্রবাহ।
ঝোপঝাড় পেরিয়ে ক্রমশ ধাবমান দীর্ঘশ্বাস!
কেবল থমকে আছে স্বপ্নগুচ্ছ হৃদয় গভীরে।
নিদ্রাহীনতার মধ্য দিয়ে রাত্রির সমাপ্তি।
সামনেই নতুন প্রভাত...
নাকি সেই চিরচেনা নিকৃষ্ট উদ্বেগ!
স্বস্তি ও শান্তির প্রত্যাশায়
নতুন গ্রহের তালাশে ব্যস্ত সাহসী পরিব্রাজক,
এসব ভাবার মতো তার অবকাশ কোথায়!
ঐ তো মানুষের সপক্ষে জেগেছে পাখি,
পাড়ি দিচ্ছে বিশাল আকাশ!...

 

দিলীপ কির্ত্তুনিয়া
কারো কারো বুকে

কারো কারো বুকে এই বাংলাদেশ।
কারো কারো চোখ মুখজুড়ে
বুক ভরে এই বাংলাদেশের
সাহসী মানচিত্র।
কেউ নিজের অস্তিত্ব মানে
বাংলাদেশের অস্তিত্ব ভাবে।
বাংলাদেশের কিছু হলে
তার কিছু হয়- তারই অসুখ করে।
বাংলাদেশ চলে
সে ভালো ভাবে চলে।
হাত-পা মাথা ধড়
চামড়া গাত্র-যা আছে
স্বাদ ঘ্রাণ অনুভব
খিদে হাসি আনন্দ
নিজের দেহের-বাংলাদেশের
এই দেশের- প্রিয় দেশের।
এই ভাবে দেশের সাথে নিজেকে বিলীন করে
চিনি জলে দ্রবীভূত করে- করে রাখে
এমনও মানুষ আছে
হ্যাঁ আছে।