পহেলা বৈশাখ আমাদের নববর্ষ। বাংলা নববর্ষে গ্রামগঞ্জে বৈশাখীমেলার আয়োজন করা হয়। এতে কৃষিজ পণ্য, কুঠির শিল্পদ্রব্য, মাটি ও হাতের শিল্পদ্রব্য প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, খেলনা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয়ের ধুম পড়ে যায়। বর্তমানে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। কিন্তু করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রমণে সৃষ্ট বৈশ্বিক সঙ্কটে গত দুই সালের নববর্ষে ভিন্নতা দেখা যায়। নববর্ষ উদযাপনে রমনার বটমূলের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রাসহ সারা দেশের সব মেলা-সমাবেশ-অনুষ্ঠান সরকারি নির্দেশে বাতিল করা হয়। এবারের নববর্ষেও অভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।
নববর্ষ উদযাপন একটি ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। তবে কবে থেকে নববর্ষ বা বর্ষ গণনা শুরু হয়েছে তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মানব সভ্যতার প্রাথমিক পর্যায়ে মানুষ রাত দিন গণনা শুরু করেছিল সূর্য উদয়-অস্তের ভিত্তিতে। কিন্তু তারা মাস গণনা শুরু করেছিল চাঁদের ভিত্তিতে। অর্থাৎ মানুষ চাঁদের বৃদ্ধি-হ্রাস দেখে মাস গণনা করত। তারা এক শুক্লপক্ষ থেকে অন্য শুক্লপক্ষ কিংবা এক কৃষ্ণপক্ষ থেকে অন্য কৃষ্ণপক্ষ পর্যন্ত সময়কে এক মাস ধরে মাস গণনা করত। এভাবে ১২ চান্দ্র মাসে এক বছর গণনা করা হতো। পরবর্তীতে সৌর মাস দিয়ে বছর গণনা করা হয়। তাই বছর গণনার ভিত্তি এক নয়। কেউ গণনা করে চন্দ্রের ভিত্তিতে কেউ আবার সূর্যের ভিত্তিতে। প্রত্যেক জাতি-দেশের বছর গণনা শুরু হয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতে। আর বছর গণনার ভিত্তি অনুযায়ী বিভিন্ন জাতি-রাষ্ট্র বিভিন্ন সময়ে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। যেমন ইরানের নববর্ষ ‘নওরোজ’ পালিত হয় বসন্তের পূর্ণিমায়। অন্য দিকে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১ জানুয়ারিতে ঐধঢ়ঢ়ু ঘবি ণবধৎ উদযাপিত হয়। গ্রীষ্মের শুরুতে অর্থাৎ ১ বৈশাখে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। আর মুহররমের ১ তারিখে হিজরি নববর্ষ পালিত হয়। সব জাতির বছর গণনা যেমন এক নয় তেমনি সব জাতির নববর্ষের উৎসবও অভিন্ন নয়। প্রত্যেক জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তিতে নববর্ষ উদযাপন করে থাকে। বাংলা নববর্ষ উৎসবও শুরু হয়েছিল কৃষিনির্ভর বাঙালি জাতির কৃষি সংস্কৃতির ভিত্তিতে।
বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সংস্কৃতি খুব দীর্ঘ নয়। মুঘল সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহণের বছরকে স্মরণীয় রাখতে হিজরি ৯৬৩ সনকে ভিত্তি ধরে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। তবে হিজরি ৯৯২ সন এবং ১৫৮৪ গ্রেগরিয়ান সন থেকে বাংলা সনের গণনা শুরু হয়। তৎপূর্বে বাঙালির ধান কাটার মাস অগ্রহায়ণে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হতো মর্মে ধারণা করা হয়। কবি কঙ্কন নামে খ্যাত মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর রচনায় এরই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মুর্শিদ কুলি খাঁ এবং নবাব আলীবর্দি খাঁর শাসনামলে বৈশাখের প্রথম দিনে পুণ্যাহ অনুষ্ঠানের প্রমাণ পাওয়া যায়। ভরতচন্দ্র রায় গুণাকরের কবিতায়ও বৈশাখের প্রথমে নববর্ষের উল্লেখ দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যে বাংলা ‘বর্ষবরণ’ বা ‘নববর্ষ’ উৎসবের বিষয় উল্লেখ না থাকলেও তার কবিতা-গানে ‘বৈশাখ’ ‘পুণ্যাহ’ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একইভাবে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে বাংলা ‘নববর্ষ’ বা ‘বর্ষবরণ’ উদযাপনের উল্লেখ না থাকলেও বৈশাখ এসেছে ভিন্ন মাত্রায়। তবে রবীন্দ্র-নজরুল সমকালে ১৯১৭ সালে মানে ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়। উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর বিজয় কামনা উপলক্ষে পহেলা বৈশাখে মসজিদে দোয়ার অনুষ্ঠান আর মন্দিরে কীর্তন-পূজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বাঙালি সমাজে ব্রিটিশদের আরোপিত এ আয়োজন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তারা মনে প্রাণে এ আয়োজন গ্রহণ করেনি। এ কারণে ১৯৩৮ সালেও ব্রিটিশদের অনুরূপ আয়োজন ধোপে টিকেনি। তবে দেশ বিভাগের পরে পাকিস্তান শাসনামলে ১৯৬৪ সালে প্রাদেশিক সরকার পহেলা বৈশাখে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। সেদিন বাংলা একাডেমি, পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ, ছায়ানট, পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ, নিক্বণ ললিতকলা কেন্দ্র, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ, সমাজকল্যাণ কলেজ ছাত্র সংসদ, গীতিকলা সংসদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে নববর্ষের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঢাকায় মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠানে এত বিপুল লোকসমাগমে দৈনিক পাকিস্তান অবজারভার বিস্ময় প্রকাশ করে। এরপর ১৯৬৬ সালে রমনা বটমূলে ছায়ানটের ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের আসরের মাধ্যমে বর্ষবরণ উদযাপন নতুন মাত্রা পায়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পহেলা বৈশাখের নববর্ষ উৎসবটি আমাদের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়। তবে নববর্ষ উৎসবে পান্তাভাতের সংস্কৃতি শুরু হয়েছে আরো পরে, গত শতকের আশির দশকে। প্রথম দিকে এর বিস্তৃতি ছিল খুব অল্প পরিসরে, শুধুমাত্র শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে। পরে তা গ্রামেগঞ্জে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পান্তা-ইলিশ নববর্ষ উদযাপনের প্রধান অনুষঙ্গ হয়েছে। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিরুৎসাহিত করায় গত কয়েক নববর্ষ উৎসবে পান্তা-ইলিশের আয়োজন অনেক কমেছে।
স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় সাধারণত শিশু-কিশোর ও কৃষকদের ভিড় হতো। কৃষিপণ্য এবং কৃষকের ব্যবহার্য উপকরণাদি ক্রয়-বিক্রয়ে শুধু কৃষকরাই মেলায় যেত। কৃষিজ পণ্য, কুঠির শিল্পদ্রব্য, মৃৎ ও হস্তশিল্প দ্রব্য প্রয়োজনীয় ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, খেলনা ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় হতো। আগের দিনে বৈশাখী মেলায় লাঙ্গল, জোয়াল, মইসহ বিভিন্ন কৃষি সরঞ্জামাদি, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় মাটির হাঁড়ি-পাতিল, বাঁশ-বেতের তৈরি কুলা-চালনিসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র, শিশুদের খেলাধুলার জন্য ঘুড়ি, মাটির তৈরি হাতি, ঘোড়া ইত্যাদি বেচাকেনা হতো। মেয়েদের হাতের চুড়ি, কানের দুল, গলার হার ইত্যাদি দ্রব্যও বেচাকেনা হতো বৈশাখী মেলায়। এ ছাড়া জুড়ি-বুন্দি, জিলাপি, রসগোল্লা ইত্যাদি মুখরোচক খাবারের সমারোহ তো ছিলই। তবে সময়ের বিবর্তনে ও যুগের পরিবর্তনে আধুনিক মেলায় ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। গত শতকের শেষের দশক থেকে এ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় এবং বিশ্বায়নের মাতাল হাওয়ায় চলমান শতকের প্রথম দশকে বৈশাখীমেলা কৃষকের হাতছাড়া হয়! বর্তমানের বৈশাখীমেলায় কৃষি সরঞ্জামাদির পরিবর্তে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সরঞ্জামাদি পরিলক্ষিত হয়। শিশুদের জন্য মাটি-বাঁশের খেলনায় পরিবর্তে ইলেকট্রনিক্স খেলনার সমারোহ বেশি দেখা যায়। আধুনিক নববর্ষের ‘বৈশাখী মেলায়’ বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি অন্য অনেক খাবারের আয়োজন করা হয়। অধিকন্তু করপোরেট কোম্পানিগুলো বাংলা নববর্ষকে ব্যবহার করছে ব্যবসায়িক লাভের আশায়। তারা পশ্চিমা ধাঁচের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপনের জন্য প্রণোদনা দেয়। সাম্প্রতিককালের নববর্ষ অনুষ্ঠানে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জারি-সারি, ভাওয়াইয়া-ভাটিয়ালি, মুর্শিদি-মারফতি, ভজন-কাওয়ালি, পল্লীগীতি ইত্যাদি গানের বাইরে পাশ্চাত্য ধারার ব্যান্ডসঙ্গীতের মঞ্চানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্বায়নের ফলে আধুনিক যুগের বাংলা নববর্ষ উদযাপনের মনোহরি চাকচিক্য বাড়লেও আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানের নববর্ষ উদযপানে পান্তাভাত ও ইলিশ ভাজাসহ মুখরোচক অনেক খাবারের সমারোহ ঘটালেও এতে প্রাণের স্পর্শ পাওয়া যায় না। এতে ধনী ও বিলাসী মানুুষের বিনোদনের ব্যবস্থা হলেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অন্তরে সুখ আসে না। আধুনিক যুগের শহুরে মানুষদের প্রাণহীন জমকালো বর্ষবরণের কৃত্রিমতায় নিবিড় পল্লীর প্রীতিপূর্ণ ছোট ছোট উৎসব ঢাকা পড়ে যায়। শিল্পপতি, বড় চাকরিজীবী ও টাকাওয়ালাদের উৎসবের তাণ্ডবতায় পিষ্ট হয় বাঙালি কৃষকদের নববর্ষ উৎসব। তবে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাঙালি সংস্কৃতির ধারণা দিতে বৈশাখীমেলায় কৃষিজ পণ্য যেমন- বিভিন্ন জাতের আউশ-আমন ধান বা ধানের নাম, চাষাবাদের ঋতু-পদ্ধতি এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত লাঙ্গল-জোয়াল, মই, কাঁচি-হাঁসুয়া, নিড়ানি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি কৃষিজ যন্ত্রপাতি মেলায় প্রদর্শিত হতে পারে। গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত মাটি-বাঁশ-বেতের আসবাবপত্রের প্রদর্শনীও করা যেতে পারে। আর এসব ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করতে পারে।
বিস্ময়ের বিষয় যে, এখন বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয় ১৪ এপ্রিলে! অর্থাৎ আমাদের দেশে দিন-তারিখ গণনা করা হয় গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জি অনুসারে। তিথি-নক্ষত্রের ভিত্তিতে গণিত পহেলা বৈশাখ এখন নির্ধারিত হয় গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জির ভিত্তিতে!
১৪ এপ্রিলে বাংলা নববর্ষ ঠিক রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় নির্দেশে বাংলা বর্ষপঞ্জির হিসাব-নিকাশ পদ্ধতিরই পরিবর্তন করা হয়েছে। বাংলা বর্ষপঞ্জি সংস্কারের জন্য ১৪০২ সালে গঠিত টাস্কফোর্স সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, ‘প্রতি বছর নববর্ষারম্ভ অর্থাৎ পহেলা বৈশাখ হবে ১৪ এপ্রিল।’ এ ছাড়া গ্রেগরিয়ান ‘লিপ ইয়ার’ বা অধিবর্ষ অনুযায়ী বাংলা বছর গণনার পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির অধিবর্ষ যে বাংলা বছরের ফাল্গুন মাসে পড়বে, সেই বাংলা বছরকে অধিবর্ষরূপে গণ্য করা হবে এবং ঐ ফাল্গুন মাসকে ৩১ দিন ধরা হবে।’
অধিকন্তু সূর্যোদয়ের মাধ্যমে দিন গণনার বাঙালি সংস্কৃতিকেও ইংরেজি সংস্কৃতির অনুকরণে রাত ১২টার পর থেকে দিন গণনার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, ‘তারিখ পরিবর্তনের সময় হবে আন্তর্জাতিক রীতি অনুযায়ী রাত ১২.০০টায়।’ এভাবে বাংলা বর্ষপঞ্জি নিজস্বতা হারিয়ে গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুকরণ করছে। অধিকন্তু আমাদের দেশের সব অফিস-আদালত, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জি টাঙানো থাকে। এ সব দিনপঞ্জিতে বাংলা সন তারিখ থাকে ক্ষুদ্রাক্ষরে। আর শিক্ষিত-চাকরিজীবী সবাই গ্রেগরিয়ান দিনপঞ্জি অনুসরণে চলেন; অথচ তারাই জমকালো বৈশাখী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন! এ আয়োজন-উৎসবের জন্য তারা সরকারি ছুটি এবং উৎসবভাতা (বোনাস) পেয়ে থাকেন। তারা জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নববর্ষ উদযাপন করলেও বাংলা বর্ষ, মাস ও দিন গণনা ভুলে যায় বৈশাখের ডামাডোল শেষে। কিন্তু গ্রামের কৃষক-জেলে-শ্রমিকরা সারা বছরই বাংলা বছর, মাস ও দিন গণনা করেন। তারা ছেলের জন্ম, মেয়ের বিয়ে, অর্থের লেন-দেনসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা সন-তারিখ ব্যবহার করেন। আউশ-আমন ধান না থাকলেও এখনো গ্রামের কৃষকরা বাংলা সন-তারিখের ভিত্তিতে ইরি ধান চাষাবাদ করেন। আবাদ না থাকলেও তিল-কাউন চৈতালী ফসল হিসেবেই তারা জানেন। তারিখ বলতে তারা ফাল্গুন-শাওন-ভাদ্র-কার্তিক ইত্যাদি মাসের দিন তারিখই বোঝেন। শিক্ষিত-শহুরে লোকজন নববর্ষের জমকালো অনুষ্ঠানে এক দিনের বাঙালি সাজলেও কৃষকরা সারা বছরই ক্ষেত-খামারে থাকেন। শহুরে লোকজন পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান শেষ করেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে আত্মগোপন করলেও কৃষকরা বৈশাখের প্রচণ্ড রোদ-ঝড়কে প্রতিদিন সাথে রাখেন। যাদেরকে ‘গেঁয়ো-চাষা’ বলে অবজ্ঞা-অবহেলা করা হয় তারাই আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে ধারণ করেছেন। শহুরে-শিক্ষিতরা নববর্ষের একদিনের বাঙালি হলেও সারা বছরে থাকেন না। মুখের অঙ্গীকারে তারা বাঙালি হলেও কাজে এর প্রমাণ পাওয়া যায় না। তারা খেতাবি বাঙালি হলেও মনের বাঙালি নন। এসব উৎসবী বাঙালি জাতীয় সংস্কৃতিকে সুদৃঢ় করতে পারে না।
তাই আমাদের জাতি ও জাতীয় সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করতে হলে সবাইকে মনের বাঙালি হতে হবে এবং নিজস্ব সংস্কৃতির শেকড়সন্ধানী হতে হবে। তবেই বাংলা নববর্ষ উদযাপন সার্থক-সফল হবে। আর আমাদের এ প্রত্যাশা পহেলা বৈশাখে, ১৪২৯ সনের প্রথম দিনে।