বেউথা হাটের উত্তর কোনায় একটি বরইগাছ। গাছটি পুরনো। গাছটার তলায় বসে চুল কাটেন বিমল নাপিত। সূর্যোদয়ের সময় আসেন। গাছের তলায় রাখেন কাঠের বাক্সটি। বড় আয়নাটি বরইগাছে বাঁধেন। সারাদিন গাছে বাঁধা থাকে আয়নাটি। হাট ভাঙার সাথে সাথে বিমল নাপিত বসে বসে বিড়ি ফুঁকেন। তারপর বাড়ি ফেরেন। বিকেলে যখন ঘোষরা দুধ নিয়ে আসেন, তখন তিনি এসে বাক্সটি মোছেন। আয়নাতে পানি ছিটান। মোছেন। আবার ছিটান। আবার মুছেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা হাট জনশূন্য থাকে। আমরা সারাদিন বরইগাছের তলে খেলি। দক্ষিণ কোনায় বটের তলায় চায়ের দোকান খোলা থাকে। রইতনের মা বসে বসে পান চিবোন। বিমল নাপিতের আয়নায় আঙ্গুল দিয়ে চুল ভাঁজ করি। সূর্যের আলো আয়নায় প্রতিচ্ছবি হয়। যারা এত ছোট যে, আয়নায় নিজেদের দেখতে পায় না। তাদের আমরা কাঁধে নেই। ওরা তখন আয়নায় নিজেদের দেখে।
রফিকের চাচাতো ভাইবোনেরা ঢাকা থেকে বেড়াতে আসে। রফিক তার চাচাতো ভাইকে নিয়ে হাটে খেলতে আসে। ওর চাচাতো ভাইয়ের নাম বান্টি। ক্লাস ওয়ানে পড়ে। আমরা ওকে কাঁধে করে আয়না দেখাই। রাতে বান্টির জ্বর আসে। বান্টির মা সবাইকে বলে, এ আয়নাতে পরী আছে। তাই বান্টির জ্বর এসেছে। বিমল নাপিতের আয়না নিয়ে কিছু বললে আমার মন খারাপ হয়। কিন্তু আমি বান্টির মাকে কিছু বলি না। বড়দের মুখের ওপর কিছু বলতে নেই।
বেউথা হাটের উত্তর কোনায় একটি বরইগাছ। গাছটি পুরনো। গাছটার তলায় বসে চুল কাটেন বিমল নাপিত। সূর্যোদয়ের সময় আসেন। গাছের তলায় রাখেন কাঠের বাক্সটি। বড় আয়নাটি...
