বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীতজ্ঞ। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি হিসাবেই তার প্রতিভা সারা বিশ্বে পরিচিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। ১৮৬৯ সালে বালক রবীন্দ্রনাথ প্রথম কবিতা রচনা শুরু করেন।
গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে তাকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়। এশিয়ায় তিনিই প্রথম এই নোবেল প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি তত্ত্ব¡াবধানের জন্য সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে ১৮৯০ থেকে ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্তÑ সাত বছর যাতায়াত করেছেন। বারবার এসেছেন এবং শাহজাদপুরের কুঠিবাড়িতে মাঝে মাঝে অবস্থান করেছেন। কবিগুরু শাহজাদপুরের উদার প্রকৃতি এবং জীবনের বিচিত্র রঙ, সবুজ মাঠ, ক্ষেত ভরা ধান, শাপলা-শালুক, পাখি, আঁকা-বাঁকা নদী, কাদামাটি, ডিঙি নাও, কলসি কাঁখে নূপুর পায়ে হেঁটে যাওয়া বধূকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন এবং সবাইকে আপন ভেবে ভালোবেসেছেন।
কবি কলকাতা ইট-পাথরের শহর থেকে শাহজাদপুরে এসে এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য হৃদয় ভরে দেখে খুবই অভিভূত হয়েছেন। নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। কবি মূলত লেখালেখির জন্যই বারবার শাহজাদপুরে ছুটে এসেছেন। কবি অকপটে স্বীকার করেছেন শাহজাদপুরে এলে কবির মনে, লেখার যত ভাব আর ইচ্ছে আসে অন্য কোথাও এত ইচ্ছে হয় না। কবি শাহজাদপুরে এলে খুব সহজেই লেখার বিষয়বস্তু খুঁজে পেতেন।
কবি শাহজাদপুরে বসে “সোনার তরী” কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতা লিখেছেন এবং লিখেছেন অনেক গান, গল্প ও চিঠি ।
শাহজাদপুরে রচিত উল্লেখযোগ্য কিছু কালজয়ী লেখা (কবিতা, গল্প, নাটক ও গানের নাম) উপস্থাপন করা হলোÑ
‘দুই পাখি’, ‘ভরা ভাদুরে’, ‘বিদায়’, ‘আকাশের চাঁদ’, ‘ইছামতি’, ‘পুরস্কার’, ‘ব্যর্থ যৌবন’, ‘বৈষ্ণব কবিতা’, ‘প্রত্যাখ্যান’ ইত্যাদি কবিতা। ‘ছুটি’, ‘সমাপ্তি’, ‘পোস্ট মাস্টার’ ‘সমাপ্তি’, ‘শাস্তি’, ‘অতিথি’ ইত্যাদি গল্প। ‘ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে’, ‘হেরিয়া সজল ঘন নীল গগনে’, ‘যদি বারণ করো’, ‘কেন যামিনি না যেতে জাগালে না’ ইত্যাদি গান। ‘বিসর্জন’ নাটক। লিখেছেন অনেকগুলো ছেলেভুলানো ছড়া।
বিশ্বকবি শাহজাদপুরকে মনে-প্রাণে এতটাই ভালোবেসেছিলেন যে, কবি শাহজাদপুরকে সখী হিসেবে সম্বোধন করেছেন। যার প্রমাণ মেলে কবি যখন শেষবার শাহজাদপুর থেকে কলকাতা চলে যান, তখন এই বিদায় বেলায় কবির মনে শাহজাদপুরের প্রতি যে ভালোবাসা আর প্রেম ছিল, সেই প্রেম থেকে হৃদয় নিংড়িয়ে কবি শাহজাদপুরকে সখী ভেবে লিখলেন একটি গান। গানের কথা এরকমÑ
ভালোবেসে সখী নিভৃত যতনে
আমার নামটি লিখিয়ো তোমার মনেরও মন্দিরে।
শাহজাদপুরকে কবি কেমন ভালোবাসতেন তা ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই, বরং কবিগুরুর লেখা এই গান শুনেই মনে হবে, কবি শাহজাদপুরকে কতটা ভালোবেসেছেন। বিশ্বকবির কতটাই প্রিয় আর আপন ছিল এই শাহজাদপুর। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের জন্যই ‘রবীন্দ্রনাথের শাহজাদপুর’ হিসেবে বাংলাসাহিত্যে এবং সারা বিশ্বে শাহজাদপুরের নামটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, সঙ্গীতজ্ঞ। মূলত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি হিসাবেই তার প্রতিভা সারা বিশ্বে পরিচিত।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের...
