নয়া দিগন্ত: এ বছর হজ কার্যক্রম কেমন চলছে?
এম তসলিম: আলহামদুলিল্লাহ। ভালোভাবেই এবারের হজের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে অনেক হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। প্রতিদিনই হজ ফ্লাইট জেদ্দা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত তেমন বড় কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করি এবার ভালোভাবেই হজ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নয়া দিগন্ত : এজেন্সিগুলো কোনো ধরনের সমস্যায় পড়ছে কি না?
এম তসলিম: আপনারা জানেন, এবার হজ কার্যক্রম খুবই স্বল্প সময়ে সম্পন্ন করতে হচ্ছে। আগে যেখানে ৭-৮ মাস আগেই হজ চুক্তি হয়ে যেত। এরপর নিবন্ধনসহ অন্যান্য কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হতো, কিন্তু এবার মাত্র দেড় মাসের মতো সময় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্যাকেজ ঘোষণা, সৌদিতে বাড়ি বা হাটেল ভাড়া, মোয়াল্লেম চুক্তি, ক্যাটারিং ঠিক করাসহ আনুষঙ্গিক অনেক কাজ করতে হচ্ছে। স্বল্প সময়ে এতসব কাজ করতে গিয়ে কষ্ট হচ্ছে, তারপরও হজের কার্যক্রম ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
নয়া দিগন্ত : এজেন্সিগুলো সরকারের কাছ থেকে সহায়তা কেমন পাচ্ছে ?
এম তসলিম: সরকার আমাদের সব রকমের সহযোগিতা করছে। একে অপরের সহযোগিতার মাধ্যমে এবার হজ কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মূল টার্গেট হচ্ছে হজযাত্রীদের কল্যাণ। সে ক্ষেত্রে সরকারের সাথে আমরা সহযোগী হিসেবে কাজ করছি।
নয়া দিগন্ত : এজেন্সিগুলো ১৩ থেকে ২৫ জুনের সময়ে বিমানে সিট বুকিং কম দিচ্ছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছে। এতে শেষ সময়ে হজ ফ্লাইটে চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হজযাত্রীদের হজে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে কি না?
এম তসলিম: এটি হচ্ছে বিমানগুলোর অব্যবস্থাপনার কারণে। বিমানগুলো যদি শেষদিকে তাদের কোন ফ্লাইটে কতটি সিট খালি আছে তা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিতো, তাহলে এজেন্সিগুলো সঠিক চিত্র দেখতে পারতো। আসন খালি না থাকার চিত্র দেখলে তারা আগেই সিট বুকিং দিতো।
নয়া দিগন্ত : এজেন্সিগুলো শেষ দিকের সিট বুকিং দিচ্ছে কেন?
এম তসলিম: হজযাত্রীদের ৮ দিন মদিনায় থাকার নিয়ম রয়েছে। এ জন্য এজেন্সিরা চায় আগে হজযাত্রীদের মক্কায় নিয়ে হজ শেষে মদিনায় থেকে তারপর দেশে ফিরে আসে। এ জন্য এজেন্সিগুলো শেষের দিকে হজযাত্রী পাঠাতে চান। এতে তাদের সুবিধা হয়।
নয়া দিগন্ত : হজে এবার মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কেমন ?
এম তসলিম: মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে এবার এখনো বড় কোনো সমস্যা হয়নি। তবে হজযাত্রীরা সচেতন না হলে সমস্যা কিছু থেকেই যাবে। এ জন্য মানুষকে আগে সচেতন হতে হবে। তাদের উচিত সরাসরি এজেন্সির অফিসে এসে লেনদেন করা। তাহলে আর সমস্যা হবে না। আগে ট্রলি ব্যাগের ব্যবসা ছিল সেটি আমরা বন্ধ করেছি। এখন হজ ব্যবস্থাপনা অনেক দুর্নীতি-অনিয়ম মুক্ত হয়েছে। আগে হজযাত্রীদের পুলিশি ভেরিফিকেশন লাগতো, আমরা সরকারকে বুঝিয়ে এটি তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি। এতে শেষ মুহূর্তে কাগজ না পাওয়ার কারণে হজে যাওয়া বন্ধ হয় না। বিশেষ করে ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে এখন সবক্ষেত্রেই কার্যক্রম সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত হয়েছে।
নয়া দিগন্ত : মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
এম তসলিম: হজযাত্রী ও এজেন্সি মালিকদের সমস্যা-সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য নয়া দিগন্তকেও ধন্যবাদ।