দিশেহারা বন্যায়
শামীম খান যুবরাজ

ভেসে গেছে চাল-চুলো
খাবারের পানি,
ঘর-দোর ডুবে আছে
কী যে পেরেশানি।
বই ভিজে একাকার
যাচ্ছে না টেকা আর
শোবো খাটে-
খাটটিও ডুবোডুবি করে!
থামছে না বৃষ্টিও
টুপটুপ ঝরে।
বন্যায় ভাসছে-
পুরো গাঁও-পাড়া,
কী যে করি
কী যে করি
হই দিশেহারা।

 

বৃষ্টি এলে
জাকির শায়েরী

বৃষ্টি পড়ে ঘরের চালে
গাছের ডালে
টাপুর টুপুর টুপটাপ
ছন্দে তালে,
জল থৈ-থৈ নদ নদী আর
পুকুর খালে।
আমার ভীষণ ভালো লাগে
বৃষ্টি হলে
কাগজ দিয়ে নাও বানিয়ে
ভাসাই জলে,
সেই ছোটকাল মনে পড়ে
বৃষ্টি এলে।

 

লাশ
রাশেদ নাইব

পানির চাপে জীবন রুখে
ভাসছে দেখো লাশ,
প্রাণপাখিও গেলো উড়ে
আটকে তাদের শ্বাস।
গ্রাম মহল্লা বাড়িঘরে
টইটম্বুর পানি,
আল্লাহ তুমি সহায় হলে
মুক্তি পাবো জানি।
বন্যা এলো জীবন গেলো
পানি ভরা সব,
দু’হাত তুলে তোমার কাছে
চাইছি ওগো রব।

 

মানবতার ফুল
কাব্য কবির

আজ মানুষের মধ্যে যেনো মানবতা নাই,
সবার মাঝে মানবতা দেখতে আমি চাই।
গরীব দুখী ধনী মানুষ সবাই যেন ভাই,
সবার দেহে একই রক্ত ভেদাভেদ তো যে নাই।
কারো বিপদ হলে সবাই বাড়িয়ে দেবো হাত,
এই পৃথিবীর সকল মানুষ শান্তিু-সুখে থাক।
কারো মনে কষ্ট দিয়ে করবো না কেউ ভুল,
সবার মনে হেসে ফুটুক মানবতার ফুল।

 

সুখের ঘরে বন্যার পানি
শামীমা আক্তার সাথী

সুখের ঘরে বন্যার পানি
তছনছ করে সবি জানি
হায় বিধাতা একি হলো
গরিব মায়ের চোখে পানি।
থাকা খাওয়ার জায়গা খানি
সব খানাতে পানি পানি,
চতুর্দিকে করুণ দৃশ্য
নষ্ট ফসল ব্যথার গ্লানি।
সাহায্যের ঐ হাতছানি
কয়জনে পাই কি বা জানি?
কবে যাবে বন্যা থেমে?
মুছবে তাদের চোখে পানি।

 

আসছে আষাঢ়
বিল্লাল মাহমুদ মানিক

আসলো আষাঢ় হাসছে মেঘে
ঝরছে টুপাটুপ,
ডাকছে ব্যাঙে ঘ্যাঙর ঘ্যাঙর
লাগছে অপরূপ।
ভরছে নদী বানের জলে
ভরছে পুকুরটাও,
ধরছে জেলে টেংরা-পুঁটি
বাইছে মাঝি নাও।
কাটছে সাঁতার শিশু-কিশোর
কাটছে সাঁতার হাঁস,
জমছে ভীষণ জলের খেলা
করছে কৃষক চাষ।
ফুটছে কদম ফুটছে কেয়া
ফুটছে বেলি ফুল,
বিলের জলে শাপলা-শালুক
দুলছে দোদুল দুল।

 

বাবা আমার
জাহানারা নাসরিন

আমি ছিলাম আমার বাবার
ছোট্ট একটা পরী,
ঘুমিয়েছি রোজই আমি
বাবার গলা ধরি।
যখন তখন করত পূরণ
আমার সকল চাওয়া,
বাবার সাথেই হতো আমার
নিত্য নাওয়া-খাওয়া।
মনে পড়ে গেল আজি
সেই যে ছোট্ট বেলা,
বাবার সাথে খেলছি কত
মজার ঘোড়া খেলা।
র দুপুরে বাবা আমার
বটবৃক্ষের ছায়া,
সবার সুখে খেটে যাওয়া
পরিশ্রমী কায়া।
বাবা মানে নিরাপত্তা
শান্তি সুখের বাসা,
বাবা মানে আড়াল থাকা
নীরব ভালোবাসা।
শিক্ষা পেলাম বাবার কাছে
ভালো মানুষ হতে,
চলতে সদা দৃঢ় মনে
সত্য ন্যায়ের পথে।
পরের দুখে দুখী হওয়ার
শিক্ষাটিও তাঁর,
তাইতো বাবা গর্ব আমার
বিরাট অহঙ্কার।
দয়া করো প্রভু তুমি
আমার বাবার তরে,
বেঁচে থাকুক বাবা আমার
বহু বছর ধরে।