ঢাকায় পাই না ঢাকার ছন্দ
আতিক রহমান

ঢাকায় থাকবো চলবো কী করে?
লেগে থাকে জট পথের শিকড়ে!
গাড়ি তো চলে না পিঁপড়ের সারি!
কলেজে-অফিসে যেতে চাই বাড়ি?
ঘণ্টা দুয়েক লেট হয়ে যায়
কেউ কেউ রাগে মাথা চাপকায়
বসের ধমক খাবো হায় হায়!

ঢাকায় থাকবো, চলবো কী করে?
মহাজট লাগে পথের শিকড়ে।
দুটোর দাওয়াতে পাঁচটায় যাওয়া
গিয়ে দেখি শেষ সব খাওয়া-দাওয়া!

গিফট দিয়ে শেষে; না খেয়েই বাড়ি
গিয়ে ফ্যামিলির অভিমান-আড়ি...
তার পরও ঢাকা ছাড়তে পারি না
প্রবলেম দুটো তাইতো ছাড়ি না
আয়-রুজি সব ঢাকাতে থাকাতে
আলিশান বাড়ি রাখাতে ঢাকাতে;
ইচ্ছে হলেই গ্রামে ফেরা যায়?
জট-প্রবলেম সমাধান চায়-
ঢাকার মানুষ ভুক্ত সকলে
পিঁপড়ের মতো গাড়ি সারি সারি
ফুটপাথ দেখো কাদের দখলে?
গাড়ি চলে যেন হেঁটে ধীরে ধীরে
মানুষ হেঁটেও আগে বাড়ি ফিরে!
কিন্তু হাঁটার ছোট পরিসর
তার মাঝে থাকে বড় ভয়ডর-
ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল ফাঁদে
পড়ে গিয়ে কেউ গুমরে কী কাঁদে!
রাস্তায় আছে ঠেকবাজ আরো,
ঢাকায় থাকার যন্ত্রণা গাঢ়
মানুষের মাঝে মানুষ ক’জন
চেনা বড় ভার শত্রু-স্বজন।
প্রীতির মানুষ হচ্ছে ভীতির
সাধনা চলছে উল্টো নীতির!
টাকার পেছনে ছুটছেই ঢাকা
মামা-খালু আর দুলাভাই-কাকা!

বাতাসে দুষিত ধোঁয়ার গন্ধ
ঢাকায় বাড়ি ভাগ্য মন্দ
রক্তচোষা মশার হুলে কি
রাজধানী ঢাকা যাবোই ভুলে কি?
এত সঙ্ঘাত, হিংসা-দ্বন্দ্ব
ঢাকায় পাই না ঢাকার ছন্দ!

 

 

মনের মাঝে বৃষ্টি নিয়ে
সুজন সাজু

এই যে দেখো পড়ছে পানি অনেক উপর থেকে,
ঝুম ঝুমা ঝুম নাচছে গেয়ে পড়ছে এঁকে বেঁকে।
একেই তোমার বৃষ্টি বলো কেউবা বলো ঝড়,
জানো নাকি এই বৃষ্টির কোথায় বাড়ি ঘর?

বৃষ্টির কি বসত আছে থাকলে ওটা কেমন,
এই যে দেখি সাগর নদীর পানি আছে এমন?
উপর দেখি আকাশ শুধুই যায় না দেখা নদী,
থাকলে নদী কত্তো বড়ো দেখতে পেতাম যদি?

অই নদী কি মেঘ সাজিয়ে আকাশ পাড়েই থাকে,
বৃষ্টি ঝরার সময় আমরা মেঘলা বলি যাকে?
কে বানিয়ে দেয় শূন্যে এত্তো পানি মেঘে,
মেঘের পানি বৃষ্টি ঝরায় কত্তো ভীষণ বেগে।

কেউ আছে কি কাজ করার বিশাল আকাশ পাড়ে,
কোন সেই স্বজন মালিক আমরা দেখি না যারে।
বৃষ্টি পড়ে ঝুম ঝুমা ঝুম বৃষ্টি পড়ে নাচে,
মনের মাঝে বৃষ্টি নিয়ে প্রশ্ন হাজার আছে।

 

 

ফল আমাদের ফল
নাসরীন জামান

আম কাঁঠালের দিনের শেষে
আসবে আবার পেয়ারা
লবণ মরিচ চটকে খেতে
জিভ যে হবে বেয়াড়া।

তালের পিঠা খাবো রে ভাই
ভাদ্র মাসের গরমে
আশ্বিনের ঐ শুকনো মুখে
থাকবে মেজাজ চরমে।

কামরাঙা আর চালতা ডালিম
আসবে হেসে অঘ্রাণে
মাঘের শীতের খেজুর রসে
মিটবে তিয়াস এই প্রাণে।

ফাগুন মাসের টক বরইয়ে
জমবে আসর গাছ তলে
ভর্তা বানাও আচার বানাও
সবই হবে এই ফলে।

বাংলা মায়ের আঁচল তলে
হরেক ফলই ফলে রে
পুষ্টিগুণ আর স্বাদে ঘ্রাণে
মনটা সবার গলে রে।

 

 

শৈশবে
দ্বীন মোহাম্মাদ দুখু

গুড়ুম গুড়ুম মেঘের সুরে
কালবৈশাখী মিলায় সুর
আঁধার নামে মেঠো পথে
সাং বানজানা কত দূর?

ভারী মেঘে বৃষ্টি আনে
থমকে দাঁড়ায় হাওয়ার বেগ
বৃষ্টি জলে হাবুডুবু
কোলা ব্যাঙে দেখায় লেগ।

চুপচুপ ভিজে কচিকাঁচা
আম তলাতে করে নাচ
আমের কাছে হার মেনে যায়
থালা ভর্তি গোশত মাছ।

 

 

ঈদের পরে
আনোয়ার আল ফারুক

ঈদের পরে রাখবে তো ঠিক
গরিব দুঃখীর খোঁজ,
ভাববে তো ফের তাদের নিয়ে
রোজের পরে রোজ?

কাঁধে কাঁধে কাঁধ মেলাবে
গড়বে সুখের বাস?
মনজমিনে করবে তো ঠিক
ভালোবাসার চাষ?

মমতাময় লালগালিচায়
থাকবে মনের মিল?
উজাড় করে দেবে তো ঠিক
মমতাময় দিল?

ঈদের মতো কাটুক সবার
সারা বারোমাস,
মিলেমিশে হোক সকলের
সুখের বসবাস।